বিশেষ নিবন্ধ
 

দেশ ও রাজ্যের স্বার্থেই পাহাড় ইস্যুতে ঘোলা জলে কারও মাছ ধরার চেষ্টা না করাই উচিত
মোশারফ হোসেন

১৯৮৬ সালের ফেব্রুয়ারির এক সকালে দার্জিলিংয়ে অখিল ভারতীয় গোর্খা লিগের সদর দপ্তরে দলের এক প্রবীণ নেতার মুখোমুখি হয়েছিলাম। ওই দলটিই তখন পাহাড়বাসীর প্রধান প্রতিনিধিত্ব করত। ওই দলের বিধায়ক হিসাবে রেণুলিনা সুব্বা বেশ পরিচিতি লাভ করেছিলেন। এর আগে সিদ্ধার্থশংকর রায়ের আমলে পাহাড়ে কিছু আন্দোলন হলেও পরবর্তী দশ-বারো বছর দার্জিলিংয়ে অশান্তির তেমন কোনও ঘটনাই ঘটেনি। সরল জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত পাহাড়বাসী ও তাঁদের আকাঙ্ক্ষিত নিত্যঅতিথি হাজার হাজার পর্যটককে নিয়ে পাহাড়ের সংসার শান্তিতেই চলছিল।
কিন্তু ’৮৬-র সেই সকালে ওই প্রবীণ ভদ্রলোকের মুখে একটু অন্যরকম গন্ধ পেয়ে খানিকটা বিস্মিত হলাম। উনি বললেন, আপনারা বাইরের মানুষ। পাহাড়বাসীর মর্মবেদনা বোঝা আপনাদের পক্ষে মোটেই সহজ নয়। বাইরে থেকে পরিবেশ পরিস্থিতি মনোরম মনে হলেও এই মুহূর্তে পাহাড় একটি বারুদের স্তূপ হয়ে রয়েছে। এই বারুদের স্তূপকে জীবন্ত করে তুলতে কেবল একটি দেশলাই কাঠি দরকার। একজন তেমন শক্তিশালী নেতা, যিনি নিজের স্বার্থের পরোয়া না করে পাহাড়বাসীর সেন্টিমেন্টকে বাস্তব রূপ দিতে পারবেন। যা আমাদের দলের নেতাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এরা সবাই নিজের নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত। তাই একজন নতুন নেতা চাই। আগুনখোর নেতা। যাকে ব্যক্তিগত কিছু পাইয়ে দিয়ে ম্যানেজ করা যাবে না, চোখ রাঙিয়ে দমানো যাবে না।
বললাম, পাহাড় বারুদের স্তূপ হয়ে উঠেছে কেন?
আমার প্রশ্নটি শুনেই দপ করে জ্বলে উঠলেন ভদ্রলোক। ফর্সা মুখ ততক্ষণে লালচে হয়ে উঠেছে। কাটা কাটা ইংরেজিতে বললেন, বলুন তো এত বঞ্চনা, এত প্রতারণা আর কোথাও দেখেছেন? আপনারা, মানে সমতলের মানুষরা আমাদের সঙ্গে দীর্ঘকাল ধরে বঞ্চনা আর প্রতারণার খেলা খেলে চলেছেন। তাকিয়ে দেখুন, পাহাড়ের যত চা বাগান, যা দার্জিলিংয়ের একটি প্রধান সম্পদ, সেগুলির সমস্ত মালিক আপনারা সমতলের লোকজন। আর, চা শ্রমিক কারা? তারা আমার পাহাড়বাসী। আমার ঘরের মেয়ে-বউ, মা-বোন। ছেলে-ভাই। উদয়াস্ত কঠোর পরিশ্রম করেও তাদের ঠিকমতো খাবার জোটে না, তারা একটু ভালোভাবে বাঁচতে পারে না। এই যে পাহাড়ে এত ছোটবড়, রকমারি হোটেল, সেগুলির মালিক কারা? সব সমতলের লোক। আর, চাকরবাকর, যারা আপনারা বেড়াতে এলে আপনাদের সেবা করে ধন্য হয়, তারা? তারা এই পাহাড়েরই ভূমিপুত্র। পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে এত স্কুল। তাতে কারা বেশি উপকৃত? ঝাড়ুদারগিরি, বেয়ারাগিরি, দারোয়ানি করেই ভূমিপুত্রদের জীবন কাটে। আপনাদের ছেলেপুলেরা এখানে স্কুলজীবন কাটিয়ে ইলেত-বিলেত গিয়ে আপনাদের মুখ উজ্জ্বল করে। অন্ধকারে থাকি আমরা। এগুলি বঞ্চনা, প্রতারণা না হলে বঞ্চনা, প্রতারণা কাকে বলে! ভদ্রলোক আরও অনেক কিছু বলেছিলেন, এতদিন বাদে সব মনে পড়ছে না। কলকাতায় ফিরে এগুলি লিখেছিলাম। আমাদের কাগজে যেদিন ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়, সেদিন বিকেলে মহাকরণে দেখা হতে দু-একজন মন্ত্রী আমায় জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আপনি যা লিখেছেন, পাহাড়ের পরিস্থিতি কি সত্যিই ওরকম বুঝলেন?
ওই ঘটনার পর বোধহয় ছ’মাসও কাটেনি। খবর পাওয়া গেল পাহাড়ে আন্দোলন শুরু হয়ে গিয়েছে। সুবাস ঘিসিং নামে সদ্য ফৌজ ফেরত এক প্রাক্তন জওয়ান পাহাড়জুড়ে তোলপাড় ফেলে দিয়েছেন। তিনি গড়ে তুলেছেন গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (জিএনএলএফ)। এর পরের ইতিহাস সবার জানা। আন্দোলন হিংসায় পরিণত হতে সময় নেয়নি। সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে পুঁজি করে সুবাস ঘিসিং পাহাড়বাসীর অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা হয়ে ওঠেন। তাঁর কথাই পাহাড়ের শেষকথা হয়ে ওঠে। ঘিসিংয়ের ইঙ্গিতে একের পর এক সরকারি অফিস কাছারিতে আগুন জ্বলে, পুড়ে ছাই হয়ে যায় বনবাংলো, ভস্মীভূত হয় গাড়ির পর গাড়ি। রাজ্যের দোর্দণ্ডপ্রতাপ শাসকদল সিপিএমকে একরকম ঘাড়ে ধরে পাহাড় থেকে নীচে নামিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে পুলিশও পাহাড়ে উঠতে ভয় পেতে থাকে। পাহাড়জুড়ে ঘিসিংয়ের একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম হয়। বেপরোয়া ঘিসিং পাহাড়কে নিজের খালতালুক ধরে নিয়ে বাইরের লোকের ওখানে ঢোকার জন্য পাসপোর্টের আদলে একধরনের ছাড়পত্রও ইস্যু করেন। পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লি-কলকাতা অনেক কথাবার্তা হয়। পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে আন্দোলন শুরু হলেও পরবর্তীকালে ঘিসিংরা তা থেকে সরে এসে পার্বত্য পরিষদে সম্মত হন। অবশেষে ১৯৮৮ তে ঘিসিংদের সঙ্গে রাজ্য সরকারের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে কেন্দ্রেরও বিশেষ ভূমিকা ছিল। গড়া হয় দার্জিলিং গোর্খা পার্বত্য পরিষদ। পরিষদের মাথায় বসেন ঘিসিং স্বয়ং। পাহাড়ের উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়গুলির প্রধান দায়িত্ব বর্তায় ওই স্বশাসিত সংস্থার উপর।
পরিষদ গড়ার পর পাহাড়বাসীর বঞ্চনা লাঘবের চাবিকাটি তো তাঁদের নেতাদের হাতেই তুলে দেওয়া হল। তবু এতদিন বাদে ফের পাহাড়ে অশান্তির আগুন জ্বলে উঠল কেন, এ প্রশ্ন জাগতেই পারে।
আজ যে সিপিএম নেতারা ঘাড়ের রোঁয়া ফুলিয়ে ভারী ভারী বক্তৃতা দিয়ে বর্তমান পাহাড় পরিস্থিতির জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুলতে চাইছেন, তাঁদের নিজেদের ভূমিকাও ভেবে দেখতে অনুরোধ করি। ১৯৮৮ সালে দার্জিলিং গোর্খা পার্বত্য পরিষদ গঠিত হওয়ার পরও দীর্ঘ তেইশ বছর ক্ষমতায় ছিল বামফ্রন্ট সরকার। পার্বত্য পরিষদ স্বশাসিত সংস্থা হলেও রাজ্য সরকার তার অভিভাবকত্ব পরোপুরি হারায় না। পরিষদের অর্থের প্রধান জোগানদার রাজ্য সরকার। ফলে, সরকারের দেওয়া অর্থ সঠিক লক্ষ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, চুক্তির শর্তগুলি যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি না সেসম্পর্কে সরকার সজাগ দৃষ্টি রাখবে, এটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু জ্যোতি বসু-বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকার সে দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেনি। করলে পাহাড়ে উন্নয়নের নামে শত শত কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও তা প্রকৃত উন্নয়নের কাজে তেমনভাবে না লাগানোর বিষয়টি নজরে পড়ত। পরিষদের নামে পাহাড়ের একদল প্রভাবশালী লুটেপুটে খেয়েছে, অন্যদিকে বঞ্চিত হয়েছে সাধারণ পাহাড়বাসী। একদিকে উন্নয়নের টাকা নয়ছয় হয়েছে, নেতারা বিলাসব্যসনে ডুবে গিয়েছেন, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন আরও দুর্দশাগ্রস্ত হয়েছে। ঘিসিং জমানার মধ্যগগনে একবার পরিষদের সদরদপ্তর লালকুঠিতে তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। অফিসের ঠাঁটবাট দেখে আর লোকজনের মুখে কর্তাদের বিলাসের বিবরণ শুনে তাজ্জব বনে গিয়েছিলাম।
প্রসঙ্গত মনে পড়ছে, একসময় খবর সংগ্রহের কাজে পাটনায় গেলে বিহারের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদবের বিরোধী শিবিরের অনেকের মুখে একটা ছড়া শুনতে পেতাম। ছড়াটির বাংলা তর্জমা মোটামুটি এরকম: রুপোর মতো চুল হে তোমার, আপেলের মতো রাঙা গাল, তুমি একাই ধনবান হয়েছ লালু, বাকিরা হয়েছে কাঙাল। এই ছড়ার সত্যতা নিয়ে আমার কোনও বক্তব্য নেই, কেবল ঘিসিং জমানায় তাঁর ও সাঙ্গোপাঙ্গদের কাজকারবার দেখেশুনে অনেকটা ওরকমই মনে হয়েছিল।
ঘিসিং জমানা নয়নয় করে অনেকদিনই চলেছিল। পাশাপাশি বেড়ে চলেছিল পাহাড়বাসীর ক্ষোভ ও যন্ত্রণার মাত্রাও। সেই ক্ষোভ-যন্ত্রণাকে কাজে লাগিয়েই আজকের বিমল গুরুংয়ের উত্থান। ঘিসিংকে সরিয়ে পাহাড়বাসীর আর এক আগুনে নেতা হয়ে উঠতে তাঁর খুব বেশি সময় লাগেনি। জলাপাহাড়ের সুবাস তাঁর সাধের দার্জিলিং থেকে বিতাড়িত হয়ে সমতলে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন। তাঁর জায়গায় পাতলেবাসের বিমল হয়ে উঠেছিলেন পাহাড়বাসীর স্বপ্নের ত্রাতাপুরুষ- মসিহা। গোর্খা পার্বত্য পরিষদের জায়গায় গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অথরিটি হয়েছে। তার মাথায় চড়ে বসেছেন বিমল। পাহাড়বাসীর সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়ে চতুর বিমল নিজের আখের গোছানোর কাজে কোনওরকম ত্রুটি রাখেননি। একদিকে বিমল ধনবান হয়েছেন, অন্যদিকে পাহাড়ে ক্ষোভ বেড়েছে। বিশেষ করে, গোর্খা বাদে আরও যেসব জনগোষ্ঠীর লোকজন পাহাড়ের শহরে, বস্তিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বাস করেন তাঁরা অনেকটাই বঞ্চিত হয়েই রয়ে গিয়েছিলেন। উন্নয়ন ও সুযোগ সুবিধার ক্ষীর মাখন ননীর সিংহভাগের দখল নিচ্ছিলেন গোর্খারা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই বঞ্চিতদের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। তাই জিটিএ’র কাজে হস্তক্ষেপ না করেই ওই জনজাতিগুলির উন্নয়নে সক্রিয় হন। তাদের জন্য গড়ে দেন একের পর এক উন্নয়ন পর্ষদ। বার বার পাহাড়ে এসে সাধারণ মানুষের কাছে বিশেষ বার্তাও দিতে থাকেন, পাহাড়কে তিনি সমতলের মতোই গুরুত্ব দেন। পাহাড়ের উন্নয়নে তিনি অত্যন্ত সিরিয়াস। মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগে সিঁদুরে মেঘ দেখেন বিমলরা। বুঝতে অসুবিধে হয় না এমনি চলতে দিলে পাহাড়ে তাঁদের একচেটিয়া আধিপত্যের দিন শেষ হতে খুব সময় নেবে না। তাই যে কোনও মূল্যে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযানকে ঠেকানো জরুরি।
সুযোগ খুঁজছিলেন গুরুং অ্যান্ড কোং। রাজ্যের সমস্ত স্কুলে বাংলা পড়ানোর ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী উদ্যোগী হতেই সেই সুযোগ পেয়ে গেলেন গুরুং। পাহাড়ে বাংলাকে আবশ্যিক করা হবে না বলে মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার ভাষায় বার বার ঘোষণা করলেও ছল খোঁজা বিমলবাহিনী শান্ত হতে চায়নি। চোরা আবার কবে ধর্মের কাহিনি শুনতে রাজি হয়েছে! উলটে বাংলা নিয়ে অপপ্রচারের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া হল। সাধারণ পাহাড়বাসীকে খেপিয়ে তোলার সবরকম চেষ্টা চলল। ওরা খানিক সফলও হল। শুরু হল ফের আগুন জ্বলা। এবার মুখ্যমন্ত্রী জিটিএ’র নামে খরচ হওয়া কোটি কোটি টাকার হিসাব নিতে বিশেষ অডিট করাতে চাইলেন। এতে আগুনে ঘি পড়ল। পরিণামে হিংসা, ধ্বংস, মৃত্যু। বিমলদের স্বার্থপূরণ করতে গিয়ে আজ কঠিন মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ পাহাড়বাসীকে।
অন্যদিকে, আমাদের চেনা রাজনৈতিক দলগুলি এই ইস্যুতে কেমন ভূমিকা পালন করছে? মমতাকে হঠিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সিংহাসন দখলের স্বপ্নে বুঁদ বিজেপি’র আচরণ দেখার মতো। ওই দলের দখলে এরাজ্যে মাত্র যে দুটি লোকসভা আসন রয়েছে তার একটিই গুরুংদের বদান্যতায় পাওয়া। আগামী লোকসভা ভোট আসতে খুব দেরি নেই। ফের ওই আসনটি ওদের চাই। সম্ভবত সেকারণেই বিজেপি পাহাড়ের আন্দোলনে হাওয়া দিয়েছে। বিশেষ করে, গুরুংয়ের শাগরেদরা কলকাতায় এসে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে যাওয়ার পরই পাহাড়ের আগুন বহুগুণে বেড়ে গেল। দু’টি ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র কি কেবলই কষ্টকল্পনা? নাকি দলীয়স্তরে এরাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত শ্রীবিজয়বর্গীয়র গোর্খাল্যান্ড সংক্রান্ত মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ নয়! দলের সর্বভারতীয় সভাপতিও মাত্র দু-তিনদিনআগেও পাহাড় নিয়ে তাঁর দলের সঠিক অবস্থান স্পষ্ট করতে পারেননি। এত দোনামনা কেন? কেবল মমতাকে জব্দ করতে! ওঁরা কেন বুঝতে চাইছেন না বিহার অথবা ওড়িশা আর দার্জিলিং এক নয়! দার্জিলিং নিয়ে কোনও ভুল পদক্ষেপ হলে আগামী দিনে গোটা দেশকেই তার কড়া মাশুল গুনতে হতে পারে। তবু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে রাজনাথ সিং গত রবিবার যে বার্তা দিয়েছেন তাতে কিছুটা ভরসা জাগে।
মমতাকে জব্দ করতে চায় সিপিএমও। দেখা যাচ্ছে ওই দলটির নেতাদের মনোভাব এরকম: যেহেতু আমি লিখতে পারিনি, তাই সুযোগ পেলেই অন্যের কালির দোয়াত উলটে দেব। মাননীয়গণ, আপনাদের চৌত্রিশ বছরের পাপ আজকের রাজ্যের গায়ে ফুটে ওঠা অনেক দগদগে ঘায়ের কারণ। অনেক তো হল, এবার একটু দায়িত্বশীল আচরণ করুন না!
আর, কংগ্রেস? ন্যাংটোর নেই বাটপারের ভয়। কংগ্রেসেরও এরাজ্যে হারানোর কিছু নেই। তবু দেশকে অনেক কিছু দেওয়া শতাব্দীপ্রাচীন এই দলটির কাছে মানুষের প্রত্যাশা এখনও ফুরিয়ে যায়নি। রাজ্যের নেতারা কি এব্যাপারে একেবারেই উদাসীন!
এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি তাতে দেশ ও রাজ্যের স্বার্থে বাম দক্ষিণ নির্বিশেষে প্রতিটি রাজনৈতিক দলেরই উচিত পাহাড় প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দাঁড়ানো। ঘোলাজলে মাছ ধরার চেষ্টা নয়।
20th  June, 2017
পবন চামলিং কি খুদে নওয়াজ শরিফ হতে চান!
হারাধন চৌধুরী

যত সমস্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে। কোন মমতা? যিনি পাহাড়ের সব শ্রেণির মানুষের সব ধরনের সমস্যা অন্তর থেকেই বোঝার চেষ্টা করেছেন এবং একে একে সেগুলির সমাধান করার জন্যও নিরলসভাবে নির্ভীকভাবে পরিশ্রম করে চলেছেন। আগামী আগস্টেই শেষ হচ্ছে ‘নির্বাচিত’ জিটিএ-র মেয়াদ। ভয়টা এখানেই। চোখে অন্ধকার দেখছেন বিমল ও তাঁর দরদি বন্ধুগণ। মমতার এই নীতি এই রীতি অক্ষুণ্ণ থাকলে জিটিএ-তেও বিমলদের দবদবা বজায় থাকবে তো!
বিশদ

27th  June, 2017
কাশ্মীর প্রসঙ্গ: নতুন ভাবনার খোঁজে
গৌরীশঙ্কর নাগ

 কিছুদিন হল ভারতীয় উপমহাদেশে নতুন করে সামরিক মেঘ সঞ্চার করেছে। পাকিস্তানের জেলে সর্বজিতের অকাল মৃত্যুর জের কাটতে না কাটতেই কূলভূষণ যাদবের ফাঁসি স্থগিত নিয়ে হারা-জেতার পারস্পরিক দড়ি টানাটানিতে ভারত-পাক সম্পর্ক আর আটকে নেই। বিশদ

27th  June, 2017
শিবাজি রাও গায়কোয়াড়ের দোলাচল
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

 সাতষট্টি বছরের একজন মানুষ শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেবেন অথবা নেওয়া উচিত তা নিয়ে আমি বেশ ধন্দে পড়েছি। তবে আমার এই দোলাচল মোটেই আহামরি কিছু নয়, বড় যা তা হল একটা গোটা রাজ্যের মানুষের তাঁর দিকে ড্যাব ড্যাব করে চেয়ে থাকা। বিপুল দোলাচলে রাজ্যের সবার মনে। বিশদ

25th  June, 2017
রথযাত্রায় শ্রীচৈতন্য ও শ্রীরামকৃষ্ণ
চৈতন্যময় নন্দ

 নীলাচলে দারুব্রহ্ম জগদীশ জগন্নাথদেবের সবচেয়ে বড় বিজয়োৎসব রথযাত্রা। আদিকাল থেকে এই সমারোহ চলে এসেছে এবং একে কেন্দ্র করে বহু ইতিবৃত্তের সৃষ্টি হয়েছে। আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে পুরীতে শ্রীমন্‌ জগন্নাথ রথে আরোহণ করেন।
বিশদ

24th  June, 2017
অনুপ্রবেশকারীদের মন্দিরে আশ্রয় প্রসঙ্গে
আলোলিকা মুখোপাধ্যায়

 নিউইয়র্ক শহরের কুইনস এলাকায় সমুদ্রের ধার ঘেঁষে রক অ্যাওয়ে বিচ। একদিন দেখা গেল মহাসাগরের ঢেউয়ের মাথায় নাচতে নাচতে ভাঙা নারকোল ভেসে আসছে। নারকোলের পিছু পিছু ইতস্তত বিক্ষিপ্ত গাঁদাফুলের মালা। সাহেব মেমরা সাঁতার কাটতে নেমে নারকোলের আধভাঙা মালা, পচা গাঁদার মালা দেখে জলপুলিশকে নালিশ করল। বিশদ

24th  June, 2017
সাঁওতাল বিদ্রোহ এবং সমাজের পরিবর্তন
বিষ্ণুপদ হেমরম

 ভারতের আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলির মধ্যে সাঁওতালরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। ব্রিটিশ ভারতে জল-জঙ্গল-জমিনের উপর অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং শোষণ ও নিপীড়নের প্রতিবাদে তারা সরকারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল। সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল ১৮৫৫ সালের ৩০ জুন, বর্তমান সাঁওতাল পরগনার ভাগ্‌না঩ডিহির মাঠে। বিশদ

23rd  June, 2017
পাহাড় ও বাঙালি
সমৃদ্ধ দত্ত

 বিজেপি রাজ্য শাখা তথা তাদের কর্মী সমর্থকরা এখনও স্পষ্ট করে বলছেন না সামান্য একটা সিদ্ধান্ত। সেটি হল তাঁরা কি গোর্খাল্যান্ড সমর্থন করেন, নাকি করেন না? সহজ প্রশ্ন। সহজ উত্তর। অথচ সোজা উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। ভাসা ভাসা কথা। কারণ বিজেপি রাজ্য শাখা ও কর্মী সমর্থকরা অপেক্ষা করছেন তাঁদের হাইকমান্ড কী ঠিক করবেন তার উপর। একবার চিন্তা করে দেখুন, আমরা বাঙালি, আমাদের রাজ্য থেকে আমাদের প্রিয় দার্জিলিংকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে কি না তা ঠিক করতেও বিজেপির বাংলা শাখা দুজন গুজরাতের নেতার দিকে তাকিয়ে আছে। বিশদ

23rd  June, 2017
দুর্নীতির পরিবেশ, পরিবেশে দুর্নীতি
বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়

 ১৯৭০ দশকের বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ও অর্থনীতিবিদ Gunnar Mydral-এর ‘এশিয়ান ড্রামা’ বইটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল, এশিয়ার বুকে বিভিন্ন দেশে পরিকল্পনাগুলি ব্যর্থ হবার একটি অন্যতম কারণ দুর্নীতি। বিশদ

21st  June, 2017



একনজরে
কাজান, ২৭ জুন: বুধবার কাজান এরিনায় কনফেডারেশনস কাপের প্রথম সেমি-ফাইনালে চিলির মুখোমুখি পর্তুগাল। হাই-ভোল্টেজ এই ম্যাচের প্রায় সব টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছে। তিন ম্যাচে সাত ...

 সুকান্ত বসু, কলকাতা: ভিডিও কনফারেন্সের ব্যবস্থা ছাড়াই রাজ্যের সিংহভাগ মহকুমা দায়রা আদালতে চলছে ‘দি প্রোটেকশন অব চিল্ডড্রেন ফ্রম সেক্সুয়াল অফেন্সেস অ্যাক্ট, ২০১২’ বা ‘পকসো’ মামলার ...

নয়াদিল্লি, ২৭ জুন (পিটিআই): রাজ্যগুলি করের ভাগ ছাড়তে চায়নি বলেই পেট্রপণ্য ও পানীয়যোগ্য অ্যালকোহলকে জিএসটিভুক্ত করা হয়নি। এক অনুষ্ঠানে স্পষ্টভাষাতেই একথা জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ...

নয়াদিল্লি, ২৭ জুন (পিটিআই): বিভিন্ন সমাজকল্যাণ মূলক পরিষেবা পেতে আধার কার্ড ব্যবহার বাধ্যতামূলক সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞপ্তির বিরুদ্ধে কোনও অন্তর্বর্তী আদেশ দিতে অস্বীকার করল সুপ্রিম ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চবিদ্যার ক্ষেত্রে সাফল্য আসবে। হিসেব করে চললে তেমন আর্থিক সমস্যায় পড়তে হবে না। ব্যাবসায় উন্নতি ... বিশদ



ইতিহাসে আজকের দিন

১৯২১- ভারতের নবম প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাওয়ের জন্ম
১৯৪০- নোবেলজয়ী বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ মহম্মদ ইউনুসের জন্ম
১৯৭২- বিজ্ঞানী ও পরিসংখ্যানবিদ প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশের জন্ম




ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৬৫ টাকা ৬৫.৩৩ টাকা
পাউন্ড ৮০.৬৮ টাকা ৮৩.৪৬ টাকা
ইউরো ৭০.৯৭ টাকা ৭৩.৩৩ টাকা
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,১৯০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৭,৬৯৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৮,১১০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৯,০০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৯,১০০ টাকা

দিন পঞ্জিকা

১৩ আষাঢ়, ২৮ জুন, বুধবার, পঞ্চমী রাত্রি ৬/৩৩, মঘানক্ষত্র রাত্রি ৭/১৭, সূ উ ৪/৫৮/২৫, অ ৬/২০/৫৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৯-১১/১২ পুনঃ ১/৫৩-৫/২৭ রাত্রি ৯/৫৩ পুনঃ ১২/১-১/২৬, বারবেলা ৮/১৯-৯/৫৯ পুনঃ ১১/৩৯-১/২০, কালরাত্রি ২/১৯-৩/৩৮।

১৩ আষাঢ়, ২৮ জুন, বুধবার, পঞ্চমী রাত্রি ১১/১৩/১২, মঘানক্ষত্র রাত্রি ১২/১৬/৩৩, সূ উ ৪/৫৬/২৩, অ ৬/২২/২৫, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৭/৩৫-১১/১২/৩, ১/৫৩/৪৪-৫/২৮/৪০ রাত্রি ৯/৫৩/৪৪, ১২/০/৩২-১/২৫/৪, বারবেলা ১১/৩৯/২৪-১/২০/৯, কালবেলা ৮/১৭/৫৩-৯/৫৮/৩৯, কালরাত্রি ২/১৭/৫৪-৩/৩৭/৯।
৩ শওয়াল

ছবি সংবাদ


এই মুহূর্তে
বিকল লরি, এজেসি বসু রোড ফ্লাইওভারে যানজট 
কলকাতা পুরসভার একটি লরি বিকল হয়ে যাওয়ার জন্য এজেসি বসু রোড ফ্লাইওভারের পশ্চিম অভিমুখে ব্যাপক যানজট রয়েছে। 

12:08:03 PM

সিবিআই দপ্তরে হাজিরা দিলেন ম্যাথু স্যামুয়েল 
কলকাতায় সিবিআই দপ্তরে হাজিরা দিলেন নারদ কর্তা ম্যাথু স্যামুয়েল। এদিন সকালে সিবিআই দপ্তরে আসেন তিনি। ম্যাথু জানান, সিবিআই তাঁকে ডেকেছিল। তাই হাজিরা দিতে এসেছেন। একটি তোলাবাজির মামলায় তাঁকে এদিন ফের মুচিপাড়া থানায় যেতে হবে বলেও সিবিআইকে জানিয়েছেন তিনি। এদিনই পরে কলকাতা হাইকোর্টেও যাবেন তিনি। 

11:58:44 AM

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিলেন মীরা কুমার 

11:27:52 AM

কুলটিতে বাসের ধাক্কায় বাইক চালকের মৃত্যু, পথ অবরোধ 

11:20:00 AM

দার্জিলিংয়ে রাতের অন্ধকারে জিটিএ-র ইঞ্জিনিয়ারিং অফিসে আগুন মোর্চার 

11:11:49 AM

খড়্গপুরে পুলকার দুর্ঘটনায় জখম ১১ 
খড়্গপুরের বেনাপুরের কাছে একটি পুলকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা মারলে ১১জন পড়ুয়া জখম হয়। তাদের খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দু'জনকে কলকাতা পাঠানো হয়েছে। 

10:26:54 AM