বিশেষ নিবন্ধ
 

দেশ ও রাজ্যের স্বার্থেই পাহাড় ইস্যুতে ঘোলা জলে কারও মাছ ধরার চেষ্টা না করাই উচিত
মোশারফ হোসেন

১৯৮৬ সালের ফেব্রুয়ারির এক সকালে দার্জিলিংয়ে অখিল ভারতীয় গোর্খা লিগের সদর দপ্তরে দলের এক প্রবীণ নেতার মুখোমুখি হয়েছিলাম। ওই দলটিই তখন পাহাড়বাসীর প্রধান প্রতিনিধিত্ব করত। ওই দলের বিধায়ক হিসাবে রেণুলিনা সুব্বা বেশ পরিচিতি লাভ করেছিলেন। এর আগে সিদ্ধার্থশংকর রায়ের আমলে পাহাড়ে কিছু আন্দোলন হলেও পরবর্তী দশ-বারো বছর দার্জিলিংয়ে অশান্তির তেমন কোনও ঘটনাই ঘটেনি। সরল জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত পাহাড়বাসী ও তাঁদের আকাঙ্ক্ষিত নিত্যঅতিথি হাজার হাজার পর্যটককে নিয়ে পাহাড়ের সংসার শান্তিতেই চলছিল।
কিন্তু ’৮৬-র সেই সকালে ওই প্রবীণ ভদ্রলোকের মুখে একটু অন্যরকম গন্ধ পেয়ে খানিকটা বিস্মিত হলাম। উনি বললেন, আপনারা বাইরের মানুষ। পাহাড়বাসীর মর্মবেদনা বোঝা আপনাদের পক্ষে মোটেই সহজ নয়। বাইরে থেকে পরিবেশ পরিস্থিতি মনোরম মনে হলেও এই মুহূর্তে পাহাড় একটি বারুদের স্তূপ হয়ে রয়েছে। এই বারুদের স্তূপকে জীবন্ত করে তুলতে কেবল একটি দেশলাই কাঠি দরকার। একজন তেমন শক্তিশালী নেতা, যিনি নিজের স্বার্থের পরোয়া না করে পাহাড়বাসীর সেন্টিমেন্টকে বাস্তব রূপ দিতে পারবেন। যা আমাদের দলের নেতাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এরা সবাই নিজের নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত। তাই একজন নতুন নেতা চাই। আগুনখোর নেতা। যাকে ব্যক্তিগত কিছু পাইয়ে দিয়ে ম্যানেজ করা যাবে না, চোখ রাঙিয়ে দমানো যাবে না।
বললাম, পাহাড় বারুদের স্তূপ হয়ে উঠেছে কেন?
আমার প্রশ্নটি শুনেই দপ করে জ্বলে উঠলেন ভদ্রলোক। ফর্সা মুখ ততক্ষণে লালচে হয়ে উঠেছে। কাটা কাটা ইংরেজিতে বললেন, বলুন তো এত বঞ্চনা, এত প্রতারণা আর কোথাও দেখেছেন? আপনারা, মানে সমতলের মানুষরা আমাদের সঙ্গে দীর্ঘকাল ধরে বঞ্চনা আর প্রতারণার খেলা খেলে চলেছেন। তাকিয়ে দেখুন, পাহাড়ের যত চা বাগান, যা দার্জিলিংয়ের একটি প্রধান সম্পদ, সেগুলির সমস্ত মালিক আপনারা সমতলের লোকজন। আর, চা শ্রমিক কারা? তারা আমার পাহাড়বাসী। আমার ঘরের মেয়ে-বউ, মা-বোন। ছেলে-ভাই। উদয়াস্ত কঠোর পরিশ্রম করেও তাদের ঠিকমতো খাবার জোটে না, তারা একটু ভালোভাবে বাঁচতে পারে না। এই যে পাহাড়ে এত ছোটবড়, রকমারি হোটেল, সেগুলির মালিক কারা? সব সমতলের লোক। আর, চাকরবাকর, যারা আপনারা বেড়াতে এলে আপনাদের সেবা করে ধন্য হয়, তারা? তারা এই পাহাড়েরই ভূমিপুত্র। পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে এত স্কুল। তাতে কারা বেশি উপকৃত? ঝাড়ুদারগিরি, বেয়ারাগিরি, দারোয়ানি করেই ভূমিপুত্রদের জীবন কাটে। আপনাদের ছেলেপুলেরা এখানে স্কুলজীবন কাটিয়ে ইলেত-বিলেত গিয়ে আপনাদের মুখ উজ্জ্বল করে। অন্ধকারে থাকি আমরা। এগুলি বঞ্চনা, প্রতারণা না হলে বঞ্চনা, প্রতারণা কাকে বলে! ভদ্রলোক আরও অনেক কিছু বলেছিলেন, এতদিন বাদে সব মনে পড়ছে না। কলকাতায় ফিরে এগুলি লিখেছিলাম। আমাদের কাগজে যেদিন ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়, সেদিন বিকেলে মহাকরণে দেখা হতে দু-একজন মন্ত্রী আমায় জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আপনি যা লিখেছেন, পাহাড়ের পরিস্থিতি কি সত্যিই ওরকম বুঝলেন?
ওই ঘটনার পর বোধহয় ছ’মাসও কাটেনি। খবর পাওয়া গেল পাহাড়ে আন্দোলন শুরু হয়ে গিয়েছে। সুবাস ঘিসিং নামে সদ্য ফৌজ ফেরত এক প্রাক্তন জওয়ান পাহাড়জুড়ে তোলপাড় ফেলে দিয়েছেন। তিনি গড়ে তুলেছেন গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (জিএনএলএফ)। এর পরের ইতিহাস সবার জানা। আন্দোলন হিংসায় পরিণত হতে সময় নেয়নি। সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে পুঁজি করে সুবাস ঘিসিং পাহাড়বাসীর অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা হয়ে ওঠেন। তাঁর কথাই পাহাড়ের শেষকথা হয়ে ওঠে। ঘিসিংয়ের ইঙ্গিতে একের পর এক সরকারি অফিস কাছারিতে আগুন জ্বলে, পুড়ে ছাই হয়ে যায় বনবাংলো, ভস্মীভূত হয় গাড়ির পর গাড়ি। রাজ্যের দোর্দণ্ডপ্রতাপ শাসকদল সিপিএমকে একরকম ঘাড়ে ধরে পাহাড় থেকে নীচে নামিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে পুলিশও পাহাড়ে উঠতে ভয় পেতে থাকে। পাহাড়জুড়ে ঘিসিংয়ের একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম হয়। বেপরোয়া ঘিসিং পাহাড়কে নিজের খালতালুক ধরে নিয়ে বাইরের লোকের ওখানে ঢোকার জন্য পাসপোর্টের আদলে একধরনের ছাড়পত্রও ইস্যু করেন। পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লি-কলকাতা অনেক কথাবার্তা হয়। পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে আন্দোলন শুরু হলেও পরবর্তীকালে ঘিসিংরা তা থেকে সরে এসে পার্বত্য পরিষদে সম্মত হন। অবশেষে ১৯৮৮ তে ঘিসিংদের সঙ্গে রাজ্য সরকারের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে কেন্দ্রেরও বিশেষ ভূমিকা ছিল। গড়া হয় দার্জিলিং গোর্খা পার্বত্য পরিষদ। পরিষদের মাথায় বসেন ঘিসিং স্বয়ং। পাহাড়ের উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়গুলির প্রধান দায়িত্ব বর্তায় ওই স্বশাসিত সংস্থার উপর।
পরিষদ গড়ার পর পাহাড়বাসীর বঞ্চনা লাঘবের চাবিকাটি তো তাঁদের নেতাদের হাতেই তুলে দেওয়া হল। তবু এতদিন বাদে ফের পাহাড়ে অশান্তির আগুন জ্বলে উঠল কেন, এ প্রশ্ন জাগতেই পারে।
আজ যে সিপিএম নেতারা ঘাড়ের রোঁয়া ফুলিয়ে ভারী ভারী বক্তৃতা দিয়ে বর্তমান পাহাড় পরিস্থিতির জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুলতে চাইছেন, তাঁদের নিজেদের ভূমিকাও ভেবে দেখতে অনুরোধ করি। ১৯৮৮ সালে দার্জিলিং গোর্খা পার্বত্য পরিষদ গঠিত হওয়ার পরও দীর্ঘ তেইশ বছর ক্ষমতায় ছিল বামফ্রন্ট সরকার। পার্বত্য পরিষদ স্বশাসিত সংস্থা হলেও রাজ্য সরকার তার অভিভাবকত্ব পরোপুরি হারায় না। পরিষদের অর্থের প্রধান জোগানদার রাজ্য সরকার। ফলে, সরকারের দেওয়া অর্থ সঠিক লক্ষ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, চুক্তির শর্তগুলি যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি না সেসম্পর্কে সরকার সজাগ দৃষ্টি রাখবে, এটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু জ্যোতি বসু-বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকার সে দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেনি। করলে পাহাড়ে উন্নয়নের নামে শত শত কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও তা প্রকৃত উন্নয়নের কাজে তেমনভাবে না লাগানোর বিষয়টি নজরে পড়ত। পরিষদের নামে পাহাড়ের একদল প্রভাবশালী লুটেপুটে খেয়েছে, অন্যদিকে বঞ্চিত হয়েছে সাধারণ পাহাড়বাসী। একদিকে উন্নয়নের টাকা নয়ছয় হয়েছে, নেতারা বিলাসব্যসনে ডুবে গিয়েছেন, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন আরও দুর্দশাগ্রস্ত হয়েছে। ঘিসিং জমানার মধ্যগগনে একবার পরিষদের সদরদপ্তর লালকুঠিতে তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। অফিসের ঠাঁটবাট দেখে আর লোকজনের মুখে কর্তাদের বিলাসের বিবরণ শুনে তাজ্জব বনে গিয়েছিলাম।
প্রসঙ্গত মনে পড়ছে, একসময় খবর সংগ্রহের কাজে পাটনায় গেলে বিহারের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদবের বিরোধী শিবিরের অনেকের মুখে একটা ছড়া শুনতে পেতাম। ছড়াটির বাংলা তর্জমা মোটামুটি এরকম: রুপোর মতো চুল হে তোমার, আপেলের মতো রাঙা গাল, তুমি একাই ধনবান হয়েছ লালু, বাকিরা হয়েছে কাঙাল। এই ছড়ার সত্যতা নিয়ে আমার কোনও বক্তব্য নেই, কেবল ঘিসিং জমানায় তাঁর ও সাঙ্গোপাঙ্গদের কাজকারবার দেখেশুনে অনেকটা ওরকমই মনে হয়েছিল।
ঘিসিং জমানা নয়নয় করে অনেকদিনই চলেছিল। পাশাপাশি বেড়ে চলেছিল পাহাড়বাসীর ক্ষোভ ও যন্ত্রণার মাত্রাও। সেই ক্ষোভ-যন্ত্রণাকে কাজে লাগিয়েই আজকের বিমল গুরুংয়ের উত্থান। ঘিসিংকে সরিয়ে পাহাড়বাসীর আর এক আগুনে নেতা হয়ে উঠতে তাঁর খুব বেশি সময় লাগেনি। জলাপাহাড়ের সুবাস তাঁর সাধের দার্জিলিং থেকে বিতাড়িত হয়ে সমতলে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন। তাঁর জায়গায় পাতলেবাসের বিমল হয়ে উঠেছিলেন পাহাড়বাসীর স্বপ্নের ত্রাতাপুরুষ- মসিহা। গোর্খা পার্বত্য পরিষদের জায়গায় গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অথরিটি হয়েছে। তার মাথায় চড়ে বসেছেন বিমল। পাহাড়বাসীর সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়ে চতুর বিমল নিজের আখের গোছানোর কাজে কোনওরকম ত্রুটি রাখেননি। একদিকে বিমল ধনবান হয়েছেন, অন্যদিকে পাহাড়ে ক্ষোভ বেড়েছে। বিশেষ করে, গোর্খা বাদে আরও যেসব জনগোষ্ঠীর লোকজন পাহাড়ের শহরে, বস্তিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বাস করেন তাঁরা অনেকটাই বঞ্চিত হয়েই রয়ে গিয়েছিলেন। উন্নয়ন ও সুযোগ সুবিধার ক্ষীর মাখন ননীর সিংহভাগের দখল নিচ্ছিলেন গোর্খারা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই বঞ্চিতদের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। তাই জিটিএ’র কাজে হস্তক্ষেপ না করেই ওই জনজাতিগুলির উন্নয়নে সক্রিয় হন। তাদের জন্য গড়ে দেন একের পর এক উন্নয়ন পর্ষদ। বার বার পাহাড়ে এসে সাধারণ মানুষের কাছে বিশেষ বার্তাও দিতে থাকেন, পাহাড়কে তিনি সমতলের মতোই গুরুত্ব দেন। পাহাড়ের উন্নয়নে তিনি অত্যন্ত সিরিয়াস। মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগে সিঁদুরে মেঘ দেখেন বিমলরা। বুঝতে অসুবিধে হয় না এমনি চলতে দিলে পাহাড়ে তাঁদের একচেটিয়া আধিপত্যের দিন শেষ হতে খুব সময় নেবে না। তাই যে কোনও মূল্যে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযানকে ঠেকানো জরুরি।
সুযোগ খুঁজছিলেন গুরুং অ্যান্ড কোং। রাজ্যের সমস্ত স্কুলে বাংলা পড়ানোর ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী উদ্যোগী হতেই সেই সুযোগ পেয়ে গেলেন গুরুং। পাহাড়ে বাংলাকে আবশ্যিক করা হবে না বলে মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার ভাষায় বার বার ঘোষণা করলেও ছল খোঁজা বিমলবাহিনী শান্ত হতে চায়নি। চোরা আবার কবে ধর্মের কাহিনি শুনতে রাজি হয়েছে! উলটে বাংলা নিয়ে অপপ্রচারের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া হল। সাধারণ পাহাড়বাসীকে খেপিয়ে তোলার সবরকম চেষ্টা চলল। ওরা খানিক সফলও হল। শুরু হল ফের আগুন জ্বলা। এবার মুখ্যমন্ত্রী জিটিএ’র নামে খরচ হওয়া কোটি কোটি টাকার হিসাব নিতে বিশেষ অডিট করাতে চাইলেন। এতে আগুনে ঘি পড়ল। পরিণামে হিংসা, ধ্বংস, মৃত্যু। বিমলদের স্বার্থপূরণ করতে গিয়ে আজ কঠিন মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ পাহাড়বাসীকে।
অন্যদিকে, আমাদের চেনা রাজনৈতিক দলগুলি এই ইস্যুতে কেমন ভূমিকা পালন করছে? মমতাকে হঠিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সিংহাসন দখলের স্বপ্নে বুঁদ বিজেপি’র আচরণ দেখার মতো। ওই দলের দখলে এরাজ্যে মাত্র যে দুটি লোকসভা আসন রয়েছে তার একটিই গুরুংদের বদান্যতায় পাওয়া। আগামী লোকসভা ভোট আসতে খুব দেরি নেই। ফের ওই আসনটি ওদের চাই। সম্ভবত সেকারণেই বিজেপি পাহাড়ের আন্দোলনে হাওয়া দিয়েছে। বিশেষ করে, গুরুংয়ের শাগরেদরা কলকাতায় এসে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে যাওয়ার পরই পাহাড়ের আগুন বহুগুণে বেড়ে গেল। দু’টি ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র কি কেবলই কষ্টকল্পনা? নাকি দলীয়স্তরে এরাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত শ্রীবিজয়বর্গীয়র গোর্খাল্যান্ড সংক্রান্ত মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ নয়! দলের সর্বভারতীয় সভাপতিও মাত্র দু-তিনদিনআগেও পাহাড় নিয়ে তাঁর দলের সঠিক অবস্থান স্পষ্ট করতে পারেননি। এত দোনামনা কেন? কেবল মমতাকে জব্দ করতে! ওঁরা কেন বুঝতে চাইছেন না বিহার অথবা ওড়িশা আর দার্জিলিং এক নয়! দার্জিলিং নিয়ে কোনও ভুল পদক্ষেপ হলে আগামী দিনে গোটা দেশকেই তার কড়া মাশুল গুনতে হতে পারে। তবু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে রাজনাথ সিং গত রবিবার যে বার্তা দিয়েছেন তাতে কিছুটা ভরসা জাগে।
মমতাকে জব্দ করতে চায় সিপিএমও। দেখা যাচ্ছে ওই দলটির নেতাদের মনোভাব এরকম: যেহেতু আমি লিখতে পারিনি, তাই সুযোগ পেলেই অন্যের কালির দোয়াত উলটে দেব। মাননীয়গণ, আপনাদের চৌত্রিশ বছরের পাপ আজকের রাজ্যের গায়ে ফুটে ওঠা অনেক দগদগে ঘায়ের কারণ। অনেক তো হল, এবার একটু দায়িত্বশীল আচরণ করুন না!
আর, কংগ্রেস? ন্যাংটোর নেই বাটপারের ভয়। কংগ্রেসেরও এরাজ্যে হারানোর কিছু নেই। তবু দেশকে অনেক কিছু দেওয়া শতাব্দীপ্রাচীন এই দলটির কাছে মানুষের প্রত্যাশা এখনও ফুরিয়ে যায়নি। রাজ্যের নেতারা কি এব্যাপারে একেবারেই উদাসীন!
এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি তাতে দেশ ও রাজ্যের স্বার্থে বাম দক্ষিণ নির্বিশেষে প্রতিটি রাজনৈতিক দলেরই উচিত পাহাড় প্রশ্নে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দাঁড়ানো। ঘোলাজলে মাছ ধরার চেষ্টা নয়।
20th  June, 2017
রাজ্যের উদ্বেগজনক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্র এত উদাসীন কেন?
শুভা দত্ত

 ‘কেন্দ্রের বিমাতৃসুলভ আচরণ’ বলে একটা কথা একসময় খুব শোনা যেত। ইন্দিরা গান্ধীর আমলে তো বটেই, তার পরে তাঁর পুত্র রাজীব গান্ধী বা তাঁর পরের প্রধানমন্ত্রীদের আমলেও এ রাজ্যে ওই ‘বিমাতৃসুলভ আচরণ’ নিয়ে রাজনৈতিক হইচই যথেষ্ট হয়েছে।
বিশদ

আহা, সেই নতুন ভারত ভয়মুক্ত হোক
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

 স্বাধীনতা দিবসে লাল কেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চতুর্থ ভাষণ বেশ মন দিয়েই শুনলাম। স্বচ্ছ ভারত, স্মার্ট সিটি, মেক ইন ইন্ডিয়া, স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া, জন ধন প্রকল্প, নমামি গঙ্গে, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, ডিজিটাল ইন্ডিয়া, কংগ্রেস মুক্ত ভারত, কালো টাকা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোমর-কষা লড়াই ইত্যাদি ইত্যাদি প্রতিজ্ঞা ও স্বপ্নের জাল গত চারটি ভাষণে শোনানোর পর সেদিন তিনি ‘নিউ ইন্ডিয়া’ বা নতুন ভারত গড়ার কথা শোনালেন।
বিশদ

সফলতা বনাম সফলতা
অভিজিৎ তরফদার

 সংবাদপত্রের প্রথম পাতা আলো করে কোন ব্যক্তিরা শোভা পান? তাঁরা জনপ্রতিনিধি। তাঁরা দেশের আইনও প্রণয়ন করেন। দুর্জনে বলে তাঁদের এক চতুর্থাংশ বা তারও বেশিজনের নামে ফৌজদারি মামলা আছে। খুন-ধর্ষণ-ডাকাতি ইত্যাদি ভয়ানক সব অভিযোগে তাঁরা অভিযুক্ত। কিন্তু আমরা, আম জনতা, তাঁদের ফুল্লবিকশিত মুখশোভা সংবাদপত্রে দেখতেই অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি।
বিশদ

19th  August, 2017
ভারত চীন যুদ্ধ হলে চীন পরাজিত হবে
প্রশান্ত দাস

 সারা ভারতজুড়ে এখন একটাই আলোচনা ঝড় তুলেছে—ডোকালাম নিয়ে চীন ভারতকে আক্রমণ করবে কি? চীন অনবরত ভারতকে চমকে চলেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপত্র গ্যারিরস বলেছেন—কোনও দেশ যেন নিজেকে সর্বশক্তিমান না ভাবে। চীন এবং ভারত মুখোমুখি আলোচনায় বসে ব্যাপারটি মিটিয়ে নেয়।
বিশদ

19th  August, 2017
শুধুই প্রচার, রেজাল্ট কই!
সমৃদ্ধ দত্ত

 গোরখপুর থেকে ৪৩ কিলোমিটার দূরের জৈনপুর গ্রামের লক্ষ্মী আর শৈলেন্দ্র তিন সপ্তাহ বয়সি মেয়ের মৃতদেহ নিয়ে অনেক দেরি করে বাড়িতে ফিরতে পেরেছিল। গোরখপুরের হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মেয়ে মারা যাওয়ার পর হাসপাতালের বাবুদের কাছে বারংবার ধমক খেতে হয়েছে তাঁদের।
বিশদ

18th  August, 2017
 কেন্দ্রের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণেই মেডিকেল ভরতিতে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা বঞ্চনার শিকার
গৌতম পাল

 নিট পরীক্ষার দায়িত্ব সিবিএসই-কে দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষমতাকে কেন্দ্রীভূত করেছে। নিট পরীক্ষায় যাঁরা বিষয় বিশেষজ্ঞ হিসাবে সাহায্য করেছেন তাঁরা অধিকাংশই দিল্লির কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, এবং বেশিরভাগই কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালনাকারী একটি বড় রাজনৈতিক দলের সদস্য বা কাছের মানুষ। অথচ পশ্চিমবাংলার বা অন্যান্য রাজ্যের খ্যাতনামা যে সকল অধ্যাপক অত্যন্ত দক্ষতা এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে রাজ্যের প্রবেশিকা পরীক্ষায় এ যাবৎ সাহায্য করে এসেছেন, সিবিএসই কিন্তু তাঁদেরকে নিটের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করেনি, বা এই সম্পর্কে রাজ্যের কোনও মতামতও নেয়নি। অনেকেই বলছেন রাজ্যের পাঠ্যক্রম সংশোধন করে নিটের সমমানের করলেই রাজ্যের ছেলে-মেয়েরা নিটে ভালো র‌্যাংক করবে।
বিশদ

17th  August, 2017
স্বাধীনতার ৭০ বছর, নেতাতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র?
হিমাংশু সিংহ

বিয়াল্লিশের ভারত ছাড়ো আন্দোলন আমি দেখিনি। ৪৭-এর ঐতিহাসিক স্বাধীনতা লাভের মুহূর্তে মধ্যরাতের জওহরলাল নেহরুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ চাক্ষুষ করার সুযোগও হয়নি। হওয়ার কথাও নয়, কারণ ওই ঘটনার প্রায় দু’দশক পর আমার জন্ম। সেদিনের কথা বইয়ে, ইতিহাসের পাতায় পড়েছি মাত্র।
বিশদ

15th  August, 2017
গভীর রাতের নাটক শেষে স্যালুট
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

জেতা ম্যাচ কী করে হারতে হয়, এই নির্বাচন তার একটা বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে। হারতে হারতে জিতে গিয়েছেন আহমেদ প্যাটেল। এই দুর্দিনে তাঁর জয় কংগ্রেসের মরা গাঙে বান হয়তো ডেকে আনবে না, তবে মনোবল সামান্য হলেও বাড়াবে। সোনিয়া গান্ধীর দলের এই দুর্দিনে এটাই বা কম কী? তবে আহমেদ প্যাটেল নন, অমিত শাহও নন, শেষ বিচারে আসল জয়ী নির্বাচন কমিশন। ভারতীয় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এটাই। ওই গভীর রাতে নির্বাচন কমিশনকেই তাই স্যালুট জানিয়েছি।
বিশদ

13th  August, 2017
স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে: কিছু প্রশ্ন
শুভা দত্ত

শুধু ভারত ছাড়ো কেন? রামনবমী রাখিবন্ধন পুজোপাঠ স্বাধীনতা দিবস প্রজাতন্ত্র—সবকিছুতেই এখন এত বেশি বেশি রাজনৈতিক দখলদারি শুরু হয়েছে যে, সাধারণ মানুষের পক্ষে উৎসবের মেজাজ ধরে রাখাই মুশকিল হচ্ছে। রাজনীতি ছাড়া যেন কিছু হতেই পারে না!
বিশদ

13th  August, 2017



একনজরে
 বিএনএ, চুঁচুড়া: প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে রাস্তার ধারের পুকুরে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হল সুকুমার ধর (৭৫) নামে এক প্রৌঢ়ের। শনিবার সকালে চন্দননগরের পালপাড়া সংলগ্ন একটি পুকুরে তাঁর মৃতদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় মানুষ পুলিশকে খবর দেয়। তারা এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ...

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: প্রতারণা চক্রের জালে পড়ে শুক্রবার বিকালে শামুকতলা থানার ব্রজেরকুঠি গ্রামের এক যুবক প্রতারিত হলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারিত যুবক তরুণকান্তি দাস ওই চক্রের দেওয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিয়ে প্রতারিত হন। ...

ডাম্বুলা, ১৯ আগস্ট: হোয়াইটওয়াশের নেশায় বুঁদ হয়ে আছেন বিরাট কোহলিরা। টেস্ট সিরিজে শ্রীলঙ্কাকে ৩-০ ব্যবধানে চুরমার করার পর দারুণ চনমনে ‘টিম ইন্ডিয়া’। এক দিনের ...

সংবাদদাতা, কান্দি: শুক্রবার রাতে ১৬হাজার টাকার জালনোট সহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করল বড়ঞা থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম আসেব্বর শেখ। বড়ঞা থানার সাটিতাড়া গ্রামে তার বাড়ি। ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের কর্মপ্রাপ্তি বিলম্ব হবে। ব্যাবসা সংক্রান্ত কাজে যুক্ত হলে ফল শুভ হবে। উপার্জন একই থাকবে। ... বিশদ



ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব মশা দিবস
১৮২৮: ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করলেন রাজা রামমোহন রায়
১৮৬৪: লেখক রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদির জন্ম
১৮৯৬: ফুটবলার গোষ্ঠ পালের জন্ম
১৯০৬: প্রথম ভারতীয় র্যাংেলার আনন্দমোহন বসুর মৃত্যু
১৯৪৪: ভারতের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর জন্ম
১৯৮৬: গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের মৃত্যু


ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৩৫ টাকা ৬৫.০৩ টাকা
পাউন্ড ৮১.২৫ টাকা ৮৪.২১ টাকা
ইউরো ৭৩.৯৬ টাকা ৭৬.৫৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
19th  August, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) 29465
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) 27955
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) 28375
রূপার বাট (প্রতি কেজি) 39100
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) 39200
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩ ভাদ্র, ২০ আগস্ট, রবিবার, চতুদর্শী রাত্রি ২/১০, পুষ্যানক্ষত্র অপঃ ৫/২২, সূ উ ৫/১৮/৫৪, অ ৬/১/১৬, অমৃতযোগ দিবা ৬/৯-৯/৩৩ রাত্রি ৭/৩২-৯/২, বারবেলা ১০/৫-১/১৫, কালরাত্রি ১/৫-২/৩০।
৩ ভাদ্র, ২০ আগস্ট, রবিবার, চতুদর্শী রাত্রি ৫/৫১/৫৬, পুষ্যানক্ষত্র সন্ধ্যা ৫/৫৬/৪৩, সূ উ ৫/১৬/২৯, অ ৬/৩/৯, অমৃতযোগ দিবা ৬/৬/৩৬-৯/৩১/২ রাত্রি ৭/৩২/৫৬-৯/২/৪২, বারবেলা ১০/৩/৫৯-১১/৩৯/৪৯, কালবেলা ১১/৩৯/৪৯-১/১৫/৩৯, কালরাত্রি ১/৩/৫৯-২/২৮/৯।
 ২৭ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
কালিম্পংয়ে সোশ্যাল ফরেস্ট বাংলো জ্বালিয়ে দিল দুষ্কৃতীরা 

12:11:00 AM

কালিম্পঙে আরও একটি বিস্ফোরণ: সূত্র 

12:06:34 AM

কালিম্পঙে বিস্ফোরণের ঘটনায় ১ সিভিক ভলান্টিয়ারের মৃত‍্যু 

19-08-2017 - 11:43:11 PM

কালিম্পং থানায় বিস্ফোরণ, জখম ২ 
২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের বিস্ফোরণে কাঁপল পাহাড়। এদিন রাতে কালিম্পংয়ে বাদামতামের কাছে থানায় বিস্ফোরণ হয়। ঘটনায় পুলিশের এক হোমগার্ড ও এক সিভিক ভলান্টিয়ার জখম হয়েছেন। 

19-08-2017 - 10:44:00 PM

ট্রেন দুর্ঘটনা: মৃত বেড়ে ২৩, জখম বহু

19-08-2017 - 09:33:00 PM

ট্রেন দুর্ঘটনায় হতাহতদের জন্য আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা রেলের 
উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগরে ট্রেন দুর্ঘটনায় হতাহতদের আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভুর। তিনি জানিয়েছেন, মৃতদের পরিবার পিছু সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। গুরুতর জখমরা পাবেন ৫০ হাজার টাকা করে। যাঁদের আঘাত অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর তাঁদের ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। 

19-08-2017 - 08:41:54 PM