বিশেষ নিবন্ধ
 

তখনও আমি ‘হিন্দু’ হইনি, দাদু সানদ্দি কিংবা বন্ধু আনিসুরও ‘মুসলমান’ নয়
শংকরদেব গোস্বামী

আমার শৈশব কেটেছে আমার দাদু সানদ্দি মিঞার কোলে পিঠে। ভাবছেন, আমি গোঁসাই, তো আমার দাদু মিঞা হন কেমন করে? তখনও (১৯৪২-৪৭) হত। দাদুর পরিচয় জানতে চাইলে এখনকার ছেলে হলে হয়তো বলতাম—হাউস কিপার বা বেবি-সিটার বা ওইরকম কিছু। কিন্তু, ১৯১২-র গ্র্যাজুয়েট হলেও আমার বাবা তত স্মার্ট বা আপস্টার্ট ছিলেন না। মায়ের তো প্রশ্নই নেই। তাই তাঁরা আমাকে দাদা ডাকতে শিখিয়েছিলেন। সেই দাদা ডাক স্নেহে-আদরে ভালোবাসায় জারিত হয়ে, কখন কীভাবে যে ‘দাদু’ হয়ে গিয়েছিল, তা আর এখন আমার মনে পড়ে না। পরে শুনেছি দাদুর মা-বাবা অল্পদিনের ব্যবধানে মারা যান। তখন দাদুর দুই সৎ দাদার কেউই রুগ্‌ণ দাদুর দায়িত্ব নিতে চাননি, তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন। হাটে ক্রন্দনরত অনাথ বালকটিকে বাড়িতে আশ্রয় দেওয়ায় বাবাকে নিন্দা-অশান্তি কম সহ্য করতে হয়নি। কিন্তু, বাবা তা গ্রাহ্য করেননি।
আমার বাবা তাঁর কাজকর্ম, পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। মা দীর্ঘ অসুস্থতার পর সেরে উঠছেন। কিন্তু, তখনও অশক্ত। সুতরাং খাওয়ানো ছাড়া একটা শিশুর পরিচর্যার সমস্ত দায়িত্ব হাসিমুখে গ্রহণ করল আমার কৈশোরপ্রান্তিক ‘দাদু’। দাদুর স্কুলে পড়ার সুযোগ হয়নি। কিন্তু, যাত্রাপালা কবিগান কথকতা ইত্যাদি শুনে শুনে কত গল্পই যে সে জানত তা আর বলে শেষ করা যাবে না।
আমাদের বাড়ির সামনে অনেকটা জমি ছিল। সেখানে তামাক-সরষে ইত্যাদি চাষ হত। তারপরে বড় রাস্তা। ওই জমির এক কোনায় ছিল একটা শান-বাঁধানো কুয়ো। প্রতিদিন রাতে আমার খাবার পরে দাদু ওই কুয়োর গায়ে হেলান দিয়ে বসে আমাকে কতরকম গল্পই যে শোনাত! কোনও কোনও দিন বাঁশের বাঁশি বাজিয়ে শোনাত। তার বাজানো একটা সুর আমার খুব প্রিয় ছিল। প্রায়ই সেটা বাজাতে বলতাম। পরে জেনেছি ওটা রবীন্দ্রনাথের গানের সুর—‘গ্রাম ছাড়া ঐ রাঙা মাটির পথ, আমার মন ভুলায় রে...।’
এই দাদুকে নিয়েই একদিন মনে বেশ আঘাত পেলাম। আমার এক বন্ধুর বাড়িতে গেছি—ওর ঠাকুমা একপাশে আমাকে ডেকে নিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জিজ্ঞাসা করে জানতে চাইলেন—দাদু কোন ঘরে শোয়, কোথায় বসে, খায়, রান্নাঘরের বারান্দায় ওঠে কি না, অন্যান্য ঘরেও যায় কি না ইত্যাদি। তাঁর জিজ্ঞাসার ধরন, কণ্ঠস্বর, ভালো লাগল না। কিন্তু, কেন ভালো লাগল না তা বুঝলাম না। চলে আসছি—পেছন থেকে ঠাকুমা বলে উঠলেন—‘কেউ তোর বাবার ওপর কথা বলে না, কিন্তু আমি বলবই, আমি কাউরে ভয় পাই না—একটা মোছলমান ছেলেকে বাড়ি এনে তোলা, তোর বাবার উচিত হয় নাই।’ বাড়িতে এসে মাকে বলতেই, মা গম্ভীর হয়ে গেলেন। আমাকে ও-বাড়িতে বেশি যেতে নিষেধ করলেন। এবং, বন্ধুর ঠাকুমার কথাগুলো বাবা বা দাদুকে বলতে নিষেধ করে দিলেন।
এ ঘটনার বছর দুই পরে আবার একবার দাদুকে নিয়ে মনে আঘাত পেলাম। এবার একটু ভয়ও পেলাম। একদিন দাদুর সঙ্গে গ্রামের হাটে গেছি। হাটে গেলেই আমার ঝোঁক ছিল হাটের একপাশে একটা বড় ইঁদারার কাছে যাওয়া। কারণ, ওই ইঁদারায় দুটো বড় মহা শোলমাছ ছিল। খই, মুড়ি জাতীয় খাবার কিছু ফেললেই জলের উপরে ভেসে উঠত। আমরা ছোটরা দেখে খুব আনন্দ পেতাম। সেদিনও দাদুর পাশে দাঁড়িয়ে ওই মাছগুলোকে দেখছি আর অন্য ছেলেদের সঙ্গে হাসি মজা করছি, এমন সময় তিন-চারটে লোক দাদুকে ডেকে আমার পরিচয় জানতে চাইল। আর কী কথা হল জানি না—হঠাৎ দেখলাম, দাদুর সঙ্গে ওদের বেশ তর্ক হচ্ছে। তর্কের আর কিছুই মনে নাই, শুধু এইটুকু মনে গেঁথে গেল—‘মোছলমান হয়ে তুই কিনা হিঁদুর ছেলের চাকর হইছিস! লজ্জা করে না?’ আর কথা না বাড়িয়ে আমার হাত ধরে দাদু বাড়ির দিকে হাঁটা দিল। এর আগে কোনও দিন দাদুকে রাগতে দেখিনি। ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করলাম—‘ওরা, কারা?’ দাদু দাঁড়িয়ে পড়ে, আমাকে তার শরীরের সঙ্গে লেপটে নিয়ে একটু হেসে বলল—‘ওই পাগল-ছাগল হবে আর কী!’ দাদু আমার ভয় ভাঙাতে মজার এক হাসির গল্প শুরু করল।
বাড়ি ফিরে মায়ের জিম্মায় আমাকে দিয়ে দাদু তার ঘর বারান্দায় দু’হাঁটু জড়িয়ে গুম মেরে বসে থাকল সদর দরজার দিকে মুখ করে। বাবা বাড়িতে ফিরতেই দাদু বাবার ঘরের দিকে গেল দেখে ভয়ে ভয়ে আমিও তার পেছন পেছন গেলাম। কিন্তু বাবার ঘরে ঢুকলাম না। সে সাহস নেই। দরজার পাশে দাঁড়িয়ে শুনলাম—দাদু, হাটের লোকগুলোর কথা সব বাবাকে জানিয়ে বলল—গ্রামে বাইরের লোকজনের আনাগোনা খুব বেড়ে গেছে। লোকগুলোর কথাবার্তা, ভাবভঙ্গি, চালচলন ভালো না—বাবা যেন গ্রামের মাতব্বরদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেন। তার কথা শেষ হতেই দাদু আমার পাশ দিয়েই তার ঘরে চলে গেল। আমি যে পাশে দাঁড়িয়ে তা লক্ষও করল না। সেদিন রাতে আর আমার গল্প বা বাঁশি শোনা হল না।
এরপরে ঘরে-বাইরে নানান জনের মুখে শুনে শুনে নতুন একটা শব্দ শিখলাম—‘দাঙ্গা’। তখন দেশের বিভিন্ন জায়গায় দাঙ্গা হচ্ছে। সেসব খবর আমাদের গ্রামেও এসে পৌঁছাচ্ছে। সবার মুখে দাঙ্গা নিয়ে আলোচনা। দাঙ্গা শব্দের অর্থ জানতাম না। তবে ওই প্রসঙ্গের আলোচনায় কাকিমা, জেঠিমাদের ফিসফিসানি, ভাবভঙ্গি দেখে বুঝতাম, শব্দটার সঙ্গে ভয় জড়িয়ে আছে। একদিন রাতে কুয়োতলায় গল্প শুরুর আগেই দাদুকে জিজ্ঞাসা করলাম—‘দাঙ্গা কী?’ দাদু চমকে উঠে আমার মুখটা চেপে ধরল, তারপরেই হেসে বলল—‘এই দেখ না—পশুদের মধ্যে যেমন গোরু, মোষ, ছাগল, ভেড়ার মতো শান্ত, নিরীহ পশু আছে, তেমনই আবার বাঘ-সিংহের মতো হিংস্র পশুও তো আছে, না কি? তেমনই মানুষের মধ্যেও ভালো লোকও যেমন আছে আবার হিংস্র, দুষ্ট লোকও আছে। তারা যখন মারামারি, কাটাকাটি করে, তাকেই বলে ‘দাঙ্গা’। তারপর আমাকে আরও কাছে টেনে নিয়ে বলল—‘ওসব নিয়ে তুমি ভয় পেও না দাদু, আমি তো আছি।’ সে রাতে অনেকক্ষণ দাদু আমাকে বাঁশি শোনাল।
এর ক’দিন পরেই কালবৈশাখী মেঘের মতো নিকষ কালো ভয় আমাকে গ্রাস করল এক বিকেলে। তখনও সন্ধ্যা হয়নি, বাড়িতে আছি। হঠাৎ একসঙ্গে বহুলোকের মিলিত চিৎকার ক্রমশ স্পষ্টতর হলে শুনলাম—লোকগুলো চিৎকার করে বলছে—‘লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান।’ নিছক চিৎকার নয়, সে হুংকার ধ্বনি আমার শিশু হৃদয়ে কাঁপুনি ধরিয়ে দিল। শুধু আমি নয়, বড়দের মুখেও ভয়। চিন্তার ছাপ। এর অল্প কিছুদিন পরের কথা। একটি ছোট্ট তেলের শিশি ভাঙলে পরে যাঁরা খুকুর উপর রাগ করতেন, সেইসব বুড়ো খোকারা মহোৎসাহে ভারত ভেঙে ভাগ করলেন। আমাদের দেশান্তরী হওয়া অনিবার্য হয়ে উঠল। আমাদের বাড়ি, আমাদের গ্রাম, সব কেমন যেন থমথমে হয়ে উঠল। আমার আর দাদুর আনন্দময় জগতে বিভীষিকা নেমে এল।
একদিন রাতে দাদু বাবাকে বলল, ‘আপনারা যেখানে যাবেন, আমারেও নিয়ে যাবেন। আমি আমার দাদুভাই আর মাকে ছেড়ে থাকতে পারব না।’ বাবা তাঁর এক সদাশয় মুসলমান বন্ধুর বাসায় দাদুর থাকার ব্যবস্থা করেছেন জানিয়ে বললেন, ‘হিন্দুস্থানে আমাদের তো কোনও বাড়ি নেই। সেখানে আমরাই কীভাবে থাকব, কোথায় থাকব, কিছুই ঠিক নাই, সেখানে তোকে কী করে নিয়ে যাই বল তো! তার চেয়ে এখানেই তুই ভালো থাকবি। নিজের গ্রাম, নিজের চেনাজানা সব মানুষ।’ দাদু একটা কথাও না বলে ফিরে গেল। সেই থেকে দাদু নির্বাক। মায়েরও খুব ইচ্ছা দাদুকে আমাদের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার। ছোট থেকে দাদুকে তো তিনি নিজের ছেলের মতোই স্নেহ, আদরে রেখেছেন। কিন্তু বাবার ওই এক কথা—‘আমরা নিজেরাই কোথায় কীভাবে থাকব তার ঠিক নাই, তো দাদু। তার উপর ও আবার মুসলমান।’ দ্বিখণ্ডিত ভারত ‘হিন্দু-মুসলমানে’র মধ্যে দুস্তর ব্যবধান সৃষ্টি করল।
দেশ ছাড়ার ক’দিন আগে থেকেই দাদু গোছগাছ বাঁধাছাঁদা সব করছে ব্যস্ত হয়ে। কিন্তু, মুখে হাসি তো দূরের কথা একটা শব্দও নেই। বাবা বেশির ভাগ সময় বাইরে বাইরে ছোটাছুটি করছেন। মা গৃহকর্ম করছেন বোবা যন্ত্রের মতো। আমি ঘুর ঘুর করে একবার মায়ের কাছে, একবার দাদুর কাছে যাই। কেউ ফিরেও দেখে না, কথাও বলে না। দাদু চলাফেরার মাঝে আমার মাথায়, গায়ে হাত বুলিয়ে দেয় নিঃশব্দে। মায়ের চোখ দিয়ে সবসময় জল গড়িয়ে পড়ছে, ঠোঁট চাপা, মুখে শব্দ নেই। কিন্তু, দাদুর চোখ-মুখ শুধু নয় গোটা শরীরটাই যেন বাজপড়া কলাগাছ। দাদুকে দেখে কেন যেন মাঝে মাঝে আমার ভয় ভয় করে।
শেষ বিদায়ের দিনে ভোর থেকেই দাদুর পাত্তা নেই। আমরা গোরুর গাড়িতে বসেছি। আর দেরি করার সময় নেই। এবার রওনা হতেই হবে। এমন সময় কোথা থেকে এসে দাদু প্রথমে বাবাকে প্রণাম করল। মুখে কোনও কথা নাই। তারপর আমার মাথাটা নিজের বুকে চেপে রইল কিছুক্ষণ। তারপর মাকে প্রণাম করে বলল, ‘ছেলেকে তাড়ায়ে দিলে মা!’ এই বলে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেই পিছন ফিরে দূরে সরে গেল। আমাদের গোরুর গাড়ি চলতে শুরু করল। মায়ের চোখে অঝোর ধারায় জল। মাকে কাঁদতে দেখে আমিও কাঁদতে লাগলাম। দূরে একটা আমগাছে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে সজলচোখে দাদু আমাদের দিকে তাকিয়ে রইল। আমিও দাদুর দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে। কতক্ষণ ওভাবে তাকিয়ে ছিলাম জানি না। একসময় দাদু আমার চোখের সামনে একটু একটু করে ঝাপসা হতে হতে ক্রমে একেবারে হারিয়ে গেল—চিরকালের মতো।
এলাম হিন্দুস্থানে (ইন্ডিয়া বা ভারত নয়)। দেড় ঘরের ছোট্ট বাসাবাড়িতে কোনও রকমে মাথা গুঁজে থাকা। পাশে আরও দুই ভাড়াটে এক উঠোন, কুয়ো, শৌচাগার। ভালো লাগে না। তবে আমাদের ভাগ্য ভালো। বাড়িওয়ালার পরিবারটি খুবই ভদ্র, শিক্ষিত, মার্জিত রুচিসম্পন্ন। ফলে অন্য অনেকের মতো আমাদের উঠতে বসতে তাচ্ছিল্যের ‘রিফ্যুজি’ শব্দটা শুনতে হয়নি বারবার। বরং অল্প দিনের মধ্যেই তাঁরা আমাদের গোটা পরিবারটিকেই একান্ত আপন করে নিলেন। পরকে কীভাবে আপন করে নিতে হয় তা তাঁরা জানতেন। মাসখানেকের মধ্যেই আমাদের বাসার উলটোদিকে একটা স্কুলে আমাকে ভরতি করে দেওয়া হল। ছোটদের যা হয় ধীরে ধীরে কয়েকজনের সঙ্গে বেশ বন্ধুত্বও হয়ে গেল। সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠল যে দু’জন বন্ধু—তারা হল আনিসুর রহমান আর রেজ্জাক আলি। দু’জনের বাড়িই আমাদের বাসার কাছাকাছি। বিকেলে আনিসুরদের বাড়ির বাইরে উঠোনে খেলতে যাই। স্কুল খেলা হাসি আনন্দে দিন কাটতে লাগল বেশ। সঙ্গে সঙ্গে একটু একটু করে পাকিস্তানের বাড়ি, সরষে, তামাকের খেত, শান-বাঁধানো কুয়োতলা, দাদুর বাঁশির সঙ্গে দাদুকেও একটু একটু করে ভুলতে লাগলাম। বছর দেড়েক এভাবেই কেটে গেল।
তারপর এক বিকালে আনিসুরের বাড়ি থেকে খেলে ফিরছি—হঠাৎ বহুলোকের ‘পালাও পালাও’ চিৎকার। আর দেখি, ছেলে বুড়ো সবাই ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়ে পালাচ্ছে। ভয় পেয়ে আমিও দৌড়াতে লাগলাম। এক ভদ্রলোক আমার পাশ দিয়ে দৌড়ে কিছুটা এগিয়ে, গতি শ্লথ করে, আমার বাড়ি কোথায় জানতে চাইলেন। তখন বাড়ির একেবারে কাছাকাছি এসে গেছি। হাত তুলে দেখালাম। তিনি বললেন, ‘শিগগির বাড়িতে ঢুকে যাও।’ এই বলেই তাঁর গতি বাড়িয়ে দিলেন। বাসায় পৌঁছে দেখি মা উদ্বিগ্ন মুখে দরজা ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। আমাকে দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। কিছু পরে বাবা ফিরে এসে মাকে বললেন, ‘খুব গন্ডগোল লেগেছে। সওদাগরপট্টিতে পাঞ্জাব স্যু স্টোর্সসহ সব মুসলমানদের দোকান লুট হয়ে গেছে। কী হবে কে জানে।’ রাত ৮টা নাগাদ আর একটা নতুন শব্দবন্ধ শিখলাম—‘১৪৪ ধারা।’ শহরে ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে। পরদিন সকালে আরও একটা নতুন শব্দ—‘কারফিউ’। শহরে কারফিউ জারি হল। পাকিস্তানে ‘দাঙ্গা’, হিন্দুস্থানে ‘১৪৪ ধারা’, ‘কারফিউ’ প্রভৃতি সব ভয়ংকর শব্দের আঘাতে আঘাতে আমি বড় হতে থাকলাম।
দিন কুড়ি পরে গৃহহারা মুসলিম পরিবারগুলি স্কুল ছেড়ে চলে গেলে স্কুল আবার খুলল। কিন্তু, আশপাশের গুটিকয়েক ছেলে মাত্র উপস্থিত। আনিসুর নেই, রেজ্জাক নেই। নেই তো, নেই-ই। মাসাধিক কাল পরে স্কুল কিছুটা স্বাভাবিক ছন্দে ফিরলেও আনিসুর রেজ্জাক ফিরল না। বিকেল এলেই মন খারাপ করে বসে থাকি। খোঁজ নিতে যাওয়ার উপায় নেই। সেখানে ভয় মেশানো, গুরুগম্ভীর ‘নিষেধ’।
আরও মাসখানেক পরে একদিন দুপুর তিনটে নাগাদ, বাবা বাসায় নেই। মা ঘুমোচ্ছেন। এমন সময়ে দরজায় জোর কড়া নাড়ার শব্দ। দরজা খুলতেই দেখি আনিসুর হাঁপাচ্ছে। আমি ‘আয়’ বলতেই ও জামা তুলে পেটের কাছে গোঁজা ওর ইতিহাস বইটা বের করে। আমার বুকে আস্তে আস্তে বইটা দিয়ে দু-তিনবার মেরে বলল, ‘এই বইটা দেখলেই আমার কথা তোর মনে পড়বে। আর তোর বইটা দে। তোর বইটা দেখলে তোর কথাও আমার মনে পড়বে।’ ওর দু’চোখ ভরা জল। আমি আর আনিসুর তখনও ‘হিন্দু’ ‘মুসলমান’ হইনি। আমার ইতিহাস বইটা নিয়ে তাড়াতাড়ি প্যান্টে গুঁজতে গুঁজতেও বলল, ‘কাল আমরা ঢাকায় চলে যাচ্ছি। আমাকে ভুলিস না রে।’ বলেই পিছন ফিরে সে দৌড়াতে শুরু করল। জিজ্ঞাসা করলাম, ‘রেজ্জাক?’ ও দৌড়াতে দৌড়াতেই চিৎকার করে উত্তর দিল, ‘ওরাও চলে যাবে। কেউ থাকবে না, কেউ থাকবে না।’ রাস্তার বাঁকে মিলিয়ে গেল আনিসুর। আমি হতভম্বের মতো দাঁড়িয়ে রইলাম। তখনও আমি খাঁটি হিন্দু হইনি বলেই বোধহয় আমারও চোখ দিয়ে জল গড়াতে লাগল।
আমার পরম ভালোবাসার ‘দাদা’, আমার পরম প্রিয় বন্ধু আনিসুর, রেজ্জাক মনের গভীরে যেন লুকিয়ে ছিল এতদিন। আজ আবার হইহই করে সব বেরিয়ে এসেছে। সেই সঙ্গে বেরিয়ে এসেছে আমার চোখের জল। এতদিন ভাবতাম ওদের হারিয়েছি চিরকালের মতো। কিন্তু আজ দেখছি, হারাইনি তো কাউকেই। হারাব কী করে? আমরা সবাই যে পরস্পর এক অদৃশ্য আত্মিকবন্ধন সূত্রে বাঁধা—যে বন্ধনসূত্রকে কোনও শাস্ত্র ছিন্ন করতে পারে না, পারে না কোনও পাবক দগ্ধ করতে। আজ বুঝি অনুভূতির কোন স্তরে পৌঁছে কবি গাইতে পেরেছিলেন—‘তোমার মহাবিশ্বে কভু হারায় নাকো কিছু।’ আজ বারবার কেন যেন ঘুরে ফিরে দাদু, আনিসুর, রেজ্জাককে মনে পড়ছে। মনে পড়ছে রংপুর পাটগ্রাম দেশভাগ জলপাইগুড়ি। চোখে পড়ছে খবরের কাগজে জুনেইদকে ট্রেনের কামরায় কুপিয়ে মারার খবর। আর সেইসঙ্গে মনে ভাসছে ফিরোজা বেগমের কণ্ঠস্বর—‘ভুলি কেমনে আজও যে মনে বেদনা-সনে রহিল আঁকা...।’
এবার যার কথা বলব তাঁর সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পর্কের সৌভাগ্য আমার হয়নি। ধারাবাহিক লেখা ‘দেশে বিদেশে’ দিয়ে পরিচয়ের শুরু। তারপর ‘চাচা কাহিনী’, ‘পঞ্চতন্ত্র’ পেরিয়ে ‘শবনম’-এ এসে তাঁর প্রতি মুগ্ধতা। যা গাঢ়তর করল ‘শহর ইয়ার’। তখন পথেঘাটে বইমেলায় বরীন্দ্রজয়ন্তী অনুষ্ঠানে ‘শবনম’ আর ‘শহর ইয়ার’ যে কত খুঁজেছি, কোথাও পাইনি। অবাক বিস্ময়ে ভেবেছি সৈয়দ মুজতবা আলি এই বাংলায় ‘শবনম’ আর ‘শহর ইয়ার’ পেলেন কী করে? আবার ভেবেছি উনি নিজেই তো রস স্বরূপ। ওঁর পক্ষে পাওয়া অসম্ভব নয়। তাঁর নাগাল আমি পাব কী করে? এর অনেকদিন পর আমার পরিণত বয়সে হাতে এল, একদা মাসিক ‘বসুমতী’ পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর ‘শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব’ প্রবন্ধটি। পড়ে চমকে উঠলাম। শ্রীরামকৃষ্ণদেবের আবির্ভাবের ঐতিহাসিক গুরুত্ব এত স্বল্পপরিসরে, এত সুন্দর করে আর কেউ কি কোথাও তুলে ধরেছেন? আমার জানা নেই। তন্ময় চিত্তে প্রবন্ধটির পাঠ শেষ হতে না হতেই অনুভব করলাম, আমার মন আলি সাহেবের উদ্দেশ্যে আভূমি নত হয়ে পড়েছে। প্রসঙ্গত, আবু সইয়দ আইয়ুবের কথাও মনে পড়ল। এই দুই মহান মানুষ—আইয়ুব ও আলির কথা মনে পড়ল। এই দুই মহান ‘মুসলমান’—আইয়ুব ও আলি যেভাবে উপনিষদস্নাত রবীন্দ্রনাথকে আত্মস্থ করতে পেরেছিলেন, আমরা ক’জন হিন্দু তা পেরেছি, বলুন তো! ইদানীং আবার রবীন্দ্রনাথের গানের সঙ্গে দেশি-বিদেশি গানের ফিউশন চালু হয়েছে। কিন্তু, রবীন্দ্রনাথের ভাব-ভাবনা, উপলব্ধির সঙ্গে শ্রোতা বা শিল্পীদের ভাব-ভাবনা-উপলব্ধির ফিউশন কই?
শ্রীরামকৃষ্ণদেব সম্পর্কে সৈয়দ মুজতবা আলি একদা লিখেছিলেন, ‘এর শরীরটি যেমন পরিষ্কার, এঁর মনটিও তেমনই পরিষ্কার। মেদিনীপুর অঞ্চলে যাকে বলে ‘নিখিরকিচ’—চাঁচাছোলা, যেন এইমাত্র তৈরি হয়েছে কাঁসার ঘটিটি—কোনও জায়গায় টোল ধরেনি।’
আমার মনে হয়, এই কথাগুলিই বলা যায় ‘চাচাকাহিনী’র লেখক সম্পর্কেও। এমন মানুষকে প্রণাম জানাতে না পারলে নিজেকে ‘হিন্দু’ বলে পরিচয় দেব কী করে?
15th  July, 2017
শুধুই প্রচার, রেজাল্ট কই!
সমৃদ্ধ দত্ত

 গোরখপুর থেকে ৪৩ কিলোমিটার দূরের জৈনপুর গ্রামের লক্ষ্মী আর শৈলেন্দ্র তিন সপ্তাহ বয়সি মেয়ের মৃতদেহ নিয়ে অনেক দেরি করে বাড়িতে ফিরতে পেরেছিল। গোরখপুরের হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মেয়ে মারা যাওয়ার পর হাসপাতালের বাবুদের কাছে বারংবার ধমক খেতে হয়েছে তাঁদের।
বিশদ

 কেন্দ্রের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণেই মেডিকেল ভরতিতে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা বঞ্চনার শিকার
গৌতম পাল

 নিট পরীক্ষার দায়িত্ব সিবিএসই-কে দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষমতাকে কেন্দ্রীভূত করেছে। নিট পরীক্ষায় যাঁরা বিষয় বিশেষজ্ঞ হিসাবে সাহায্য করেছেন তাঁরা অধিকাংশই দিল্লির কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, এবং বেশিরভাগই কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালনাকারী একটি বড় রাজনৈতিক দলের সদস্য বা কাছের মানুষ। অথচ পশ্চিমবাংলার বা অন্যান্য রাজ্যের খ্যাতনামা যে সকল অধ্যাপক অত্যন্ত দক্ষতা এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে রাজ্যের প্রবেশিকা পরীক্ষায় এ যাবৎ সাহায্য করে এসেছেন, সিবিএসই কিন্তু তাঁদেরকে নিটের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করেনি, বা এই সম্পর্কে রাজ্যের কোনও মতামতও নেয়নি। অনেকেই বলছেন রাজ্যের পাঠ্যক্রম সংশোধন করে নিটের সমমানের করলেই রাজ্যের ছেলে-মেয়েরা নিটে ভালো র‌্যাংক করবে।
বিশদ

17th  August, 2017
স্বাধীনতার ৭০ বছর, নেতাতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র?
হিমাংশু সিংহ

বিয়াল্লিশের ভারত ছাড়ো আন্দোলন আমি দেখিনি। ৪৭-এর ঐতিহাসিক স্বাধীনতা লাভের মুহূর্তে মধ্যরাতের জওহরলাল নেহরুর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ চাক্ষুষ করার সুযোগও হয়নি। হওয়ার কথাও নয়, কারণ ওই ঘটনার প্রায় দু’দশক পর আমার জন্ম। সেদিনের কথা বইয়ে, ইতিহাসের পাতায় পড়েছি মাত্র।
বিশদ

15th  August, 2017
গভীর রাতের নাটক শেষে স্যালুট
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়

জেতা ম্যাচ কী করে হারতে হয়, এই নির্বাচন তার একটা বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে। হারতে হারতে জিতে গিয়েছেন আহমেদ প্যাটেল। এই দুর্দিনে তাঁর জয় কংগ্রেসের মরা গাঙে বান হয়তো ডেকে আনবে না, তবে মনোবল সামান্য হলেও বাড়াবে। সোনিয়া গান্ধীর দলের এই দুর্দিনে এটাই বা কম কী? তবে আহমেদ প্যাটেল নন, অমিত শাহও নন, শেষ বিচারে আসল জয়ী নির্বাচন কমিশন। ভারতীয় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এটাই। ওই গভীর রাতে নির্বাচন কমিশনকেই তাই স্যালুট জানিয়েছি।
বিশদ

13th  August, 2017
স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে: কিছু প্রশ্ন
শুভা দত্ত

শুধু ভারত ছাড়ো কেন? রামনবমী রাখিবন্ধন পুজোপাঠ স্বাধীনতা দিবস প্রজাতন্ত্র—সবকিছুতেই এখন এত বেশি বেশি রাজনৈতিক দখলদারি শুরু হয়েছে যে, সাধারণ মানুষের পক্ষে উৎসবের মেজাজ ধরে রাখাই মুশকিল হচ্ছে। রাজনীতি ছাড়া যেন কিছু হতেই পারে না!
বিশদ

13th  August, 2017
বাৎসল্য রসের পরাকাষ্ঠা মা যশোদার আত্মাভিমান চূর্ণ করলেন শ্রীকৃষ্ণ
চিদানন্দ গোস্বামী

 ভারতবর্ষের পৌরাণিক সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক সূর্য-করোজ্জ্বল ঘটনা। তত্ত্বে গভীর, দার্শনিকতায় গভীর, নৈতিকতাতেও। তাই বিশ্ব-জাগতিক জীবনে আকর্ষণে চিরন্তন মূল্যবান রত্ন সম্পদ।
বিশদ

12th  August, 2017
কঠিন বর্জ্যের কানুন
বিনয়কান্তি দত্ত

কেন্দ্রীয় ও রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদগুলিকে দায়িত্ব দেওয়া হল বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তির বিচার ও মূল্যায়ন, সংশ্লিষ্ট স্থানগুলির ভূগর্ভস্থ জল, বায়ু, মৃত্তিকা ও শব্দের গুণমানের মাপকাঠি নির্ধারণ, বিভিন্ন দপ্তরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া, ইত্যাদি কাজের। একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে এই নতুন কানুনে কঠিন বর্জ্য সমস্যার সব দিক বিচার করে, সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। মনে আসছে অসুরবধের জন্য দুর্গা দুর্গতিনাশিনীকে দশপ্রহরণে সজ্জিত করার কথা। এখন দেখতে হবে এই কানুন-রূপী দুর্গা বর্জ্যাসুরকে কতদিনে বধ করতে পারে। বিশদ

12th  August, 2017
গ্যাসে ভরতুকি ছাড়ার অনুরোধ আসলে ধান্ধা
মৃন্ময় চন্দ

 সরকারি অর্থনীতির চলন বোঝাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগন একবার বলেছিলেন—‘‘If it moves, tax it. If it keeps moving, regulate it. And if it stops moving, subsidize it.’’ ৫৭.৫ লাখ এলপিজি গ্রাহক ভরতুকি ছেড়ে দিয়েছেন। দেশে এলপিজি গ্রাহকের সংখ্যা এই মুহূর্তে ১৪.৭০ কোটি। বিশদ

11th  August, 2017
রেশনে আধার: এত তাড়াহুড়োর কি কোনও প্রয়োজন আছে?
নিমাই দে

 চাল দু’টাকা কেজি দরে। কিন্তু রেশন দোকানে গিয়ে তা পেতে হলে পকেট থেকে তখনই খরচ করতে হবে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। দু’টাকা কেজির গম। সেটাও পেতে গেলে বার করতে হবে নয় নয় করে ১৮ থেকে ২০ টাকা। এটাই নাকি কেন্দ্রের ক্যাশলেস ব্যবস্থা!
বিশদ

11th  August, 2017



একনজরে
সংবাদদাতা, কাঁথি: বুধবার এগরা ও কাঁথির দুই নাবালিকার বিয়ে রুখল পুলিশ ও প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কুদি এলাকার বছর ষোলোর এক নাবালিকার সঙ্গে এগরার পিরিচখাঁবাড় এলাকার এক যুবকের বিয়ে ঠিক হয়। পরিবারের লোকজনের চাপে ওই নাবালিকা বিয়েতে মত দেয় ...

 নিউ ইয়র্ক, ১৭ আগস্ট (পিটিআই): ভার্জিনিয়ার বর্ণবিদ্বেষী সংঘর্ষ ও মৃত্যুর ঘটনায় নিন্দার ঝড় চলছেই। সেই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনাও অব্যাহত। ...

 সৌম্যজিৎ সাহা, কলকাতা: রাজ্যের কলেজগুলিতে ভরতির প্রক্রিয়া শেষ। কিন্তু তারপরও দেখা যাচ্ছে, অনেক কলেজেই অনেক আসন ফাঁকা পড়ে রয়েছে। যা যথেষ্ট চিন্তার কারণ। উচ্চশিক্ষা দপ্তরে ...

রাতুল ঘোষ: মহান ফুটবলার ও সফল কোচ রূপে জিনেদিন জিদান ইতিমধ্যেই বিশ্ব ফুটবলের চিরকালীন তারকা সাম্রাজ্যে নিজের আসন পাকা করে ফেলেছেন। মারিও জাগালো, ফ্রানৎজ বেকেনবাওয়ার ...


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চপদস্থ ব্যক্তির সহায়তায় কর্মস্থলে জটিলতার সমাধান। বাতজ বেদনায় কষ্ট পাবার সম্ভাবনা। প্রেম-প্রণয়ে সাফল্য। পরশ্রীকাতর ব্যক্তির ... বিশদ



ইতিহাসে আজকের দিন

১৯০০- রাজনীতিক বিজয়লক্ষ্মী পণ্ডিতের জন্ম
১৯৩৬- গীতিকার ও পরিচালক গুলজারের জন্ম
১৯৫৮- ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করলেন প্রথম এশীয় ব্রজেন দাস
১৯৮০- গায়ক দেবব্রত বিশ্বাসের মৃত্যু


ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৩.৪৫ টাকা ৬৫.১৩ টাকা
পাউন্ড ৮১.৩৭ টাকা ৮৪.১৮ টাকা
ইউরো ৭৪.০৮ টাকা ৭৬.৬৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
17th  August, 2017
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ২৯,৪৬৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৭,৯৫৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ২৮,৩৭৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৯,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৯,২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

দৃকসিদ্ধ: ১ ভাদ্র, ১৮ আগস্ট, শুক্রবার, একাদশী দিবা ১০/১, আর্দ্রানক্ষত্র রাত্রি ৯/৩, সূ উ ৫/১৮/১৩, অ ৬/২/৫১, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৯ পুনঃ ৭/৫১-১০/২৪ পুনঃ ১২/৫৭-২/৩৯ পুনঃ ৪/২০-অস্তাবধি, বারবেলা ৮/২৯-১১/৪১, কালরাত্রি ৮/৫২-১০/১৭।
১ ভাদ্র, ১৮ আগস্ট, শুক্রবার, একাদশী ৮/২৮/১১, আর্দ্রানক্ষত্র রাত্রি ৮/৪৬/১২, সূ উ ৫/১৫/৫৩, অ ৬/৪/৪১, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৮/২৩, ৭/৪৯/৩৯-১০/২৩/২৪, ১২/৫৭/১০-২/৩৯/৫০, ৪/২২/১১-৬/৪/৪১ রাত্রি ৭/৩৪/১১-৯/৩/১১, ৯/৩/৪০, ৩/১/৩৯-৩/৪৬/২৩, বারবেলা ৮/২৮/৫-১০/৪/১১, কালবেলা ১০/৪/১১-১১/৪০/১৭, কালরাত্রি ৮/৫২/২৯-১০/১৬/২৩।
২৫ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বিয়ে করলেন রিয়া সেন 
গুঞ্জন সত্যি প্রমাণ করে বিয়েটা সেরে ফেললেন রিয়া সেন। গত বুধবার পুনেতে প্রেমিক শিবম তিওয়ারির সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছেন তিনি। সূত্রের খবর, বিয়েতে নিমন্ত্রিতদের তালিকায় একেবারেই ঘনিষ্ঠ আত্মিয়রা ছিলেন। হাজির ছিলেন রিয়ার মা তথা বর্তমানে এমপি মুনমুন সেন এবং তাঁর অভিনেত্রী বোন রাইমা সেন। রাইমাই প্রথম বিয়ের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন। শিবম তিওয়ারির সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরেই ছবি পোস্ট করছিলেন সুচিত্রা সেনের নাতনি রিয়া। শোনা যাচ্ছিল, এমাসেই বিয়ে করবেন তাঁরা। বিয়ে অবশ্য করলেন কিন্তু লোকচক্ষুর আড়ালে গিয়ে। বি-টাউনের খবর, সন্তানসম্ভবা হয়ে পড়েছেন রিয়া। তাই তাড়াহুড়োয় বিয়ে সেরে ফেললেন।

04:06:08 PM

জলপাইগুড়ির নার্সিংহোমে চিকিৎসার গাফিলতিতে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ

 জলপাইগুড়ির একটি নার্সিংহোমে রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে পরিবারের পক্ষ থেকে।

03:34:00 PM

 নেতাজি ইস্যুতে বোস পরিবারের সদস্য ও নেতাজি অনুগামীদের মিছিল শুরু

03:32:00 PM

মানিক সরকারকে খুনের হুমকি 
স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ কাটছাঁট করা নিয়ে প্রসার ভারতীর সঙ্গে বিবাদে জড়িয়েছিলেন তিনি। এর তিনদিনের মধ্যেই ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকে ফেসবুকে খুনের হুমকি দেওয়া হল। পুলিশ সূত্রে খবর, ফেসবুকে এক মহিলার নামের অ্যাকাউন্ট থেকে একটি সংগঠনের নাম করে মানিক সরকারকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়েছে, যে বা যারা ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীকে খুন করতে পারবে, সে বা তাদের ৫ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। ঘটনার কথা জানতে পেরে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। 

03:04:39 PM

কেতুগ্রামে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ, গুলিবিদ্ধ হয়ে কিশোরের মৃত্যু 

02:53:12 PM

কোলাঘাট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ছাত্র বিক্ষোভ, অধ্যাপকদের ঢুকতে বাধা, পঠনপাঠন শিকেয় 

01:41:07 PM