Bartaman Patrika
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
 

প্রথম ভোট
সমৃদ্ধ দত্ত

সকলেই চাইছে লাঙল। ১৯৫১ সালের ১ জুলাই। রাজনৈতিক দলগুলিকে নিয়ে দেশের প্রথম নির্বাচন কমিশনার সুকুমার সেন মিটিং ডেকেছেন। নির্বাচনী প্রতীক বন্টন করা হবে। প্রতিটি দলকে বলা হয়েছিল আপনারা নিজেদের পছন্দমতো প্রতীক নিয়ে আসবেন সঙ্গে করে। সেটা প্রথমে জমা নেওয়া হবে। তারপর স্থির করা হবে কাকে কোন প্রতীক দেওয়া যায়। কিন্তু, মিটিং শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রবল ঝগড়া শুরু হয়ে গেল। কারণ প্রায় সিংহভাগ দলেরই পছন্দ লাঙল। কেন? কারণ, কৃষিপ্রধান এই দেশের মানুষের কাছে লাঙল বড় কাছের। লাঙল চাল দেয়। লাঙল খিদে মেটায়। লাঙল ঘর চালায়। লাঙল ভরসা দেয়। যে দেশে ৮৫ শতাংশ মানুষ পড়তেই পারে না, সেখানে অবশ্যই নির্বাচনে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র প্রতীক। কে কোন দল এসবের থেকেও এই গরিব নিরক্ষণ মানুষগুলির সামনে আসবে একটি চিহ্ন। যে চিহ্ন তাঁদের খুব কাছের। খুব চেনা। খুব আপন। অতএব সকলের একবাক্যে পছন্দ লাঙল।

শুধু কৃষকদের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়াই একমাত্র কারণ নয়। প্রকৃত কারণ গ্রাম। গান্ধীজি বলেছিলেন, ভারত বাস করে গ্রামে। সুতরাং শহর নয়, সকলেই বুঝে গিয়েছিল গ্রামীণ মানুষ যে প্রতীকের সঙ্গে নিজেদের আইডেন্টিফাই করতে পারবে, সেটি হল লাঙল। তাই সকলের দাবি লাঙল! কিন্তু লাঙল চিহ্ন সকলকেই দেওয়া যায় কীভাবে? সোশ্যালিস্ট পার্টি মিটিংয়ের মধ্যেই চিৎকার করে বলে উঠল আশ্চর্য ব্যাপার! কংগ্রেস তো চিরকাল চরকাকে নিজেদের দলের প্রতীক পরিণত করেছে, তারা এখন তাহলে লাঙল চাইছে কেন? কী ব্যাপার? আপনারা কী গান্ধীজীকে ভুলে যেতে চান? তাই গান্ধীজীর প্রিয় চরকা আর পছন্দ নয়? রাগী কন্ঠে জানতে চায় সোশ্যালিস্ট পার্টি। নির্বাচন কমিশনার সুকুমার সেন ঠিক করলেন কাউকেই তাহলে লাঙল চিহ্ন দেওয়া হবে না। কারণ একটি দলকে দিলে অন্য দল ক্রুদ্ধ হবে। অতএব একটা সমাধান করতে হবে।
প্রত্যেককে দ্বিতীয় পছন্দ জমা দিতে বলা হল। আর সেইমতোই অবশেষে জওহরলাল নেহরুর কংগ্রেস পেল দু’টি বলদ, সোস্যালিস্ট পার্টি পেল গাছ, হিন্দু মহাসভাকে দেওয়া হল ঘোড়ায় চড়া এক সওয়ারি, বি আর আম্বেদকেরর শিডিউলড কাস্ট ফেডারেশন পার্টি প্রতীক পেল হাতি। কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া নিয়েছিল কাস্তে ধানের শিষ। ভারতীয় জনসঙ্ঘ পরবর্তী সময়ে পায় প্রদীপ। ফরওয়ার্ড ব্লক (মার্কসিস্ট) পেয়েছিল সিংহ। রাম রাজ্য পরিষদ নামে পার্টির প্রতীক ছিল উদীয়মান সূর্য, রেভলিউশনারি কমিউনিস্ট পার্টি প্রতীক পেল মশাল, বলশেভিস্ট পার্টির ভাগ্যে গেল তারা। সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ হল, কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামা দলগুলির নেতারা এই কিছুদিন আগে পর্যন্তও ছিলেন স্বাধীন ভারতের প্রথম সরকারের সঙ্গে। প্রবল নেহরু ও কংগ্রেস বিরোধী হওয়া সত্ত্বেও এই নেতাদের যোগ্যতাবলেই একটি সম্পূর্ণ পক্ষপাতহীন ও উন্নত মন্ত্রিসভা গঠনের তাগিদে জওহরলাল নেহরু ও সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল এই নেতাদের প্রথম মন্ত্রিসভায় নিয়েছিলেন। কিন্তু, তাঁরা কেউই ওই সরকারে থাকতে পারেননি। প্রত্যেকেই প্রথম সাধারণ নির্বাচনের আগেই কোনও না কোনও ইস্যুতে মন্ত্রিসভা পরিত্যাগ করে বেরিয়ে এসে নিজেদের দল গঠন করেন। ফলে ১৯৫১-৫২ সালের প্রথম লোকসভা নির্বাচন হয়ে উঠেছিল একঝাঁক স্টেটসম্যানের মধ্যের তুমুল আদর্শগত লড়াইয়ের ময়দান। তবে, ১৯৫১ সালের জুলাই মাসে বিভিন্ন দলকে দেওয়া নির্বাচনী চিহ্নগুলির মধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য হল একটি চিহ্ন। সেটি হল হাত। আজ ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের যে নির্বাচনী প্রতীক, সেই হাত চিহ্নটি প্রথম লোকসভা নির্বাচনে ব্যবহার করেছিল ফরওয়ার্ড ব্লকের একটি ভেঙে যাওয়া পৃথক গোষ্ঠীর পার্টি। সেই বিক্ষুব্ধ ফরওয়ার্ড ব্লকের নেতৃত্বে ছিলেন শ্রমিক নেতা আর এস রুইকর। অথচ সেই লোকসভা নির্বাচনে দেখা গেল, রুইকরের দল সেরকম কোনও উল্লেখযোগ্য ফলাফল করতেই পারেনি কোনও কেন্দ্রে। তাই ভোটের পরই সেই দল মিশে গেল জে বি কৃপালনির প্রজা সোশ্যালিস্ট পার্টিতে। আর সেই থেকে হাত চিহ্নটিও হয়ে গেল নির্বাচনের ময়দান থেকে ভ্যানিশ। ইন্দিরা গান্ধী আবার বহু বছর পর সেই হাত চিহ্নকে নিয়ে এলেন নিজের দলের নির্বাচনী প্রতীক হিসাবে। আশির দশকের শুরুতে সিপিএম তাদের দেওয়াল লিখনে ডাকিনীরূপী ইন্দিরা গান্ধীর ‘হাত’ থেকে রক্ত ঝরছে এরকম একটি প্রতীকী আক্রমণাত্মক প্রচার করতো নিয়ম করে।

১৯৫১ সালের নির্বাচনে প্রত্যেক দলকে প্রতীক ব্যবহার করে গোটা দেশে প্রচারের সুযোগ দেওয়া হলেও একথাও জানিয়ে দেওয়া হয় ভবিষ্যতে এই সুযোগ তখনই পাওয়া যাবে যদি মোট ভোটের ৩ শতাংশ অন্তত পায় কোনও দল। তার থেকে কম পেলে আর জাতীয় দলের প্রতীক হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না। পরবর্তীকালে মাত্র চারটি দল ওই পাস মার্ক অতিক্রম করতে পেরেছিল। নির্বাচনী প্রতীককে সকলে তো আর রাস্তায় নামাতে পারে না। কেউ কেউ পারে। যেমন পশ্চিমবঙ্গের এক প্রার্থী পেয়েছিলেন উট নির্বাচনী প্রতীক। তাঁকে দেখা গিয়েছিল উত্তর কলকাতায় উটের পিঠে চেপে প্রচার করতে। আর সেই উটের গায়ে লাগানো থাকতো বড় এক পোস্টার যেখানে লেখা ছিল, ‘সমস্যা রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ আজ মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। আর মরুভূমিতে একমাত্র আপনাদের সাহায্য করতে পারে উট!’ কংগ্রেস পিছিয়ে রইল না। প্রতিটি রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো গোরুর গায়েই লেখা দেখা যেত ‘কংগ্রেসকে ভোট দিন’। সুতরাং স্বাধীন ভারতের প্রথম লোকসভা ভোটের সেই প্রথম গণতন্ত্রের পরীক্ষার দিন থেকেই নির্বাচনী লড়াইয়ের অন্যতম বর্ণময় চরিত্র হয়ে উঠেছে নির্বাচনী প্রতীক। আজ এই ২০১৯ সালেও তাই।
এই তো অন্ধ্রপ্রদেশের কথাই ধরা যাক। রেজোল বিধানসভা কেন্দ্রের দু’জন প্রার্থী আছেন। দু’জনের নামই রাজেশ্বর রাও। সেটা তো হতেই পারে। ডামি ক্যান্ডিডেট নতুন কিছু নয়। সর্বত্র এই প্রচলন আছে। কিন্তু, এটা তো সবকিছু ছাপিয়ে গেল। কারণ, দু’জনের নামের পরই ব্র্যাকেটে একটা ডাকনাম লেখা। দু’টিই এক। বনথু। এখানেও শেষ নয়। তাঁদের একজনের নির্বাচনী প্রতীক সিলিং ফ্যান। আর অন্যজনের নির্বাচনী প্রতীক হেলিকপ্টারের চলন্ত ব্লেড। অর্থাৎ দেখতে দুটোই এক। এবার ভোটাররা কী করবেন? কোন রাজেশ্বর রাও কার ভোট পাবেন? এই তো মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রের কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচন কমিশনে নালিশ করেছেন একটি পুকুরকে সম্পূর্ণ ঢেকে দিতে হবে। কারণ সেই পুকুরে ফুটে আছে অসংখ্য পদ্মফুল। বিজেপির সিম্বল। আর সেই নালিশ শুনেই বিজেপি পালটা কমিশন বলেছে ওই পুকুর যদি ঢেকে ফেলা হয় তাহলে সকলের হাতও কাপড় দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। কারণ হাত কংগ্রেসের প্রতীক! সেটা প্রকাশ্যে দেখানো চলবে না! দু’টি নালিশই অগ্রাহ্য করেছে কমিশন!

প্রথম গণতন্ত্রে স্বাদ কী এসেছিল ১৯৫১ সালের প্রথম নির্বাচনে? স্বাধীন ভারতের ক্ষেত্রে সেটা ঠিক। তবে তার আগেও ভারত প্রথম ভোটাধিকারের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগটি পেয়েছিল ১৯২০ সালে। ১৯১৭ সালে ব্রিটিশ সরকার মনে করল ভারতকে দায়িত্বপূর্ণ সরকার উপহার দেওয়া জরুরি। কিন্তু, ভারতের বিদেশসচিব এডউইন মণ্টেগু ওই টার্মটা একটু বদলে দিতে চাইলেন। তিনি মন্ত্রিসভাকে বললেন, একটা কাজ করা যাক। আমরা রেসপনসিবল গভর্নমেন্টের পরিবর্তে বরং বলব সেল্ফ গভর্নমেন্ট। সেটা শুনতে অনেক বেশি ভালো। তার জন্য দরকার ভারতের একটি রাজনৈতিক সংস্কার। ভারতে এসে সবথেকে বড় আঘাত তিনি পেলেন সেটি হল, নিজের দেশের ব্রিটিশ অফিসারদের ভারতীয়দের প্রতি ঘৃণা দেখে। তিনি দেখলেন, বিভিন্ন ক্লাবে ভারতীয়দের প্রবেশাধিকার নেই। ১৯১৮ সালের জুলাই মানে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড চেমসফোর্ডের সঙ্গে মন্টেগুর একটি চুক্তি হল। সেটিকে মন্টেগু চেমসফোর্ড এগ্রিমেন্ট বলা হয়। সেখানেই স্থির হল শুধু কেন্দ্রীয় আইনসভা নয়, প্রাদেশিক বিধানসভার মাধ্যমে আরও বেশি ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে ভারতে। দু’টি ভাগে বিভাজিত হবে প্রশাসনিক ক্ষমতা। রিজার্ভড। যাবতীয় অর্থনৈতিক, বিচারবিভাগীয়, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন গভর্নর (যিনি সর্বদাই একজন ব্রিটিশই হবেন) এবং তাঁর পরামর্শদাতারা। আর ট্র্যান্সফার্ড বিভাগের মধ্যে থাকবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, মৎস্যচাষ ইত্যাদি। এই ভিত্তিতেই ভোট হবে। কিন্তু, ভোটার কারা হবে? আশ্চর্য এক সিদ্ধান্ত! আয় এবং সম্পত্তির নিরীখেই ভোটাধিকার নির্ধারণ করা হল। যার ফলে দেশের সিংহভাগ মানুষেরই ভোটাধিকার থাকবে না। যেমন, মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সিতে সাড়ে চার কোটি মানুষের বসবাস। সেখানে ভোটাধিকার পেলেন মাত্র ৫ লক্ষ। বম্বে প্রেসিডেন্সির সাড়ে চার কোটি মানুষের মধ্যে ভোটার হবেন মাত্র সাড়ে ৬ লক্ষ। সর্বোপরি গোটা দেশের নারী সমাজ এই ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। এরকম সেল্ফ গভর্নমেন্টের গণতন্ত্র পরিণত হয়েছিল নিছক প্রতীকি এক প্রদর্শন। কারণ, ওই ১৯২০ সালেই কলকাতায় কংগ্রেসের অধিবেশন থেকেই মহাত্মা গান্ধী ডাক দিলেন অসহযোগ!
তাই প্রকৃত গণতন্ত্রের হাওয়া ভারতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করল ১৯৫১ সালে। চারমাস ধরে সেই নির্বাচন হল। শীতকালে তো আর হিমাচলপ্রদেশ কিংবা হিমালয় পাদদেশের অন্য রাজ্যগুলিতে নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই প্রথমেই ১৯৫১ সালের ২৫ অক্টোবর হিমাচল প্রদেশ থেকে শুরু হল স্বাধীন ভারতের প্রথম ভোটদান। এই ভোটগ্রহণ এরপর গোটা দেশে হবে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ পর্যন্ত। ১৯৫০ সালের মার্চ মাসে প্রেসিডেন্সি কলেজ ও লন্ডন ইউনিভার্সিটির ছাত্র সুকুমার সেন নিযুক্ত হলেন দেশের নির্বাচন কমিশনার। একইসঙ্গে দেশজুড়ে ৫০০টির বেশি লোকসভা আসনে এবং চার হাজার বিধানসভা আসনে বুথ। ২০ লক্ষ ব্যালট বক্স। ভোটার তালিকা তৈরি আর টাইপ করার জন্য ১,৬৫,০০ জন্য ক্লার্ক নিয়োগ করা হল নির্বাচনের জন্য। ৫৬ হাজার প্রিসাই঩ডিং অফিসার। ২ লক্ষ ৮০ হাজার সহায়ক। প্রায় আড়াই লক্ষ পুলিশ কর্মী। সবেমাত্র স্বাধীন হয়েছে একটি দেশ। এবং একদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে অন্তহীন সীমান্তযুদ্ধ। আর অন্যদিকে জলস্রোতের মতো উদ্বাস্তুর আগমন। এই প্রবল চাপে নেহরুর সবথেকে বড় ভরসা ছিলেন প্রচুর বাগবিতণ্ডা, মতান্তর থাকা সত্ত্বেও একজনই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল। ভোটের ঠিক আগের বছর ১৯৫০ সালে সেই প্যাটেলের জীবনাবসান হল। নেহরুর পক্ষে তাই এই বিপুল প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করা ছিল জীবনের সেরা চ্যালেঞ্জ। কারণ প্যাটেল নেই পাশে। ভোটগ্রহণ করতে হবে।
সকলের জন্য কী গণতন্ত্রের এই উৎসব সমানভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছিল? মোটেই নয়। দেশীয় রাজারা ভয় পেয়েছিল। রাজ্য চলে যাওয়ার পর জমিও চলে যাবে সরকারের হাতে। এই ভয় ছিল। কারণ, কংগ্রেস জমিদার ও রাজাদের হাত থেকে জমি নিয়ে নেওয়ার একটি ঘোষণা করেছিল। আর তারই ফলশ্রুতি হল গুজরাতের সৌরাষ্ট্রে আবির্ভাব হল এক দুর্ধর্ষ ডাকাতের। তার নাম ভূপত সিং। ৭০ টি মার্ডারের আসামী। একসঙ্গে চারজন রাজা ও জমিদার ভূপতকে অস্ত্র আর টাকা পয়সা দিয়ে নামালো বানচাল করার লক্ষ্যে। ভূপতের সঙ্গীরা বাছাই করা মাখওয়ান। তারা নিজেদের বলতো আলেকজান্ডারের সেনাবাহিনীর বংশধর। সেই বাহিনী নিয়ে ভূপত গ্রামে গ্রামে ভয় দেখানো, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া, অপহরণ ও খুন, জখম চালিয়ে গেল ১৯৫১ সাল থেকে। লক্ষ্য কেউ যেন ভোট না দেয়। ১৯৫১ সালের বিচারে ৫০ হাজার টাকা তার মাথার দাম ধার্য হল। জীবিত বা মৃত। কিন্তু, কার সাহস আছে ভূপত সিংকে ধরবে? গোটা সৌরাষ্ট্রের মানুষ তটস্থ। শেষ পর্যন্ত দেখা গেল, সেই প্রথম সাধারণ নির্বাচনে সবথেকে বড় গণতন্ত্রের জয়কে প্রমাণ করেছিল ওই সৌরাষ্ট্রের গ্রামবাসীরাই। ভূপত দস্যুর অত্যাচার আর ভয়কে অগ্রাহ্য করে তারা দলে দলে বেরিয়ে ভোট দেন। আর ৬টি লোকসভা আসনের সবকটি আসনেই জয়লাভ করে কংগ্রেস। ৫৫টি বিধানসভা আসনের ৫০টিতেই।

মাঠে ময়দানে রাস্তায় প্রচার হচ্ছে। কিন্তু, এসবের মধ্যেই এক আশ্চর্য প্রচারের সুযোগ পেয়েছিল কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া। এই দলটির নির্বাচনী প্রচার পাওয়া যাচ্ছিল রেডিওতে। অল ইন্ডিয়া রেডিও নয়। মস্কো রেডিও! তাসখন্দের রেডিও স্টেশন থেকে মস্কো রেডিও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানিয়ে প্রচারে নেমেছিল। কারণ, রাশিয়ার ধারণা ছিল নেহরু আমেরিকার খপ্পড়ে পড়েছেন। তাই ভারতে কমিউনিস্ট সরকার আসা দরকার। খবরের কাগজে নির্বাচনী সংবাদের একটি ইন্টারেস্টিং সংবাদ জায়গা করে নিয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের খড়্গপুরে নেহরু এসেছিলেন প্রচারে। তাঁর ভাষণ শুনতে হাজির হয়েছিলেন প্রচুর মহিলাও। নেহরুর ভাষণের আগেই ওই ভিড়ে আগত এক তেলুগুভাষী মহিলার গর্ভযন্ত্রণা শুরু হয় সভাস্থলেই। যন্ত্রণায় তিনি যখন ছটফট করছেন তখন তাঁকে ঘিরে দ্রুত অন্য মহিলারা ও সভায় থাকা অ্যাম্বুলেন্সের নার্স কাপড় দিয়ে একটি মেকশিফট লেবার রুম তৈরি করে ফেললেন খোলা আকাশের নীচে। নেহরুর ভাষণের মধ্যেই ওই মহিলার সন্তানের জন্ম হয়। প্রথম লোকসভা ভোটের একঝাঁক চমকপ্রদ কাহিনী লিখেছেন ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ তাঁর ‘ইন্ডিয়া আফটার গান্ধী’ গ্রন্থে। নেহরু কতটা জনপ্রিয় ছিলেন? অসমের এক প্রত্যন্ত গ্রামের ৯০ বছরের বৃদ্ধা মহিলা এসেছিলেন ভোট দিতে। কিন্তু, সেটা তিনি দিতে পারলেন না। তাঁকে ক্ষুণ্ণমনে ফিরে যেতে হয়। কারণ, নেহরু অসম থেকে প্রার্থী নন। তাই নেহরুকে তিনি প্রার্থী হিসাবে ভোট দিতে না পেরে আর কাউকেই না দিয়ে চলে গিয়েছিলেন।
কী ফলাফল হয়েছিল? ৪৮৯টি লোকসভা আসনে শেষ পর্যন্ত ভোট হয়েছিল। তার মধ্যে কংগ্রেস একাই জয়ী হল ৩৬৪টি আসনে। কিন্তু, কংগ্রেস ভোটপ্রাপ্তির নিরিখে বিপুল ভোট-শেয়ার পায়নি। ৪৫ শতাংশ ভোট পেল নেহরুর কংগ্রেস। সবথেকে বড় যদি কোনও অঘটন হয় সেটি হল, বি আর আম্বেদকরের পরাজয়। খুব সাধারণ অপরিচিত এক কংগ্রেস প্রার্থীর কাছে তিনি পরাজিত হলেন। এর কারণও স্পষ্ট। বম্বেতে নেহরু ছিলেন বিপুল জনপ্রিয়। ভারতীয় জনসঙ্ঘের তিনজন নির্বাচিত হয়েছিলেন। বাংলা থেকে দুজন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং দুর্গাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আর রাজস্থান থেকে উমাশঙ্কর ত্রিবেদি। চারটি আসন জিতেছিল হিন্দু মহাসভা। আর তিনটি আসনে জয়ী হয় রাম রাজ্য পরিষদ। এই তিন দল যেহেতু হিন্দুত্ববাদী আদর্শে বিশ্বাসী, তাই লোকসভার মধ্যে পরবর্তী সময়ে তিন দল একটি ব্লক হিসাবেই জোট গড়ে সংসদীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। কংগ্রেসের ৩৬৪টি আসনের পর সর্ববৃহৎ পার্টি কারা ছিল? কমিউনিস্ট পার্টি অব ইণ্ডিয়া। তারা পেয়েছিল ১৬টি আসন। তারপর সোশ্যালিস্ট পার্টি। ১২টি আসন।
দেশজুড়ে গণতন্ত্রের উৎসব চলছে। ১৯৫১ থেকে ১৯৫২ সালে। প্রথম লোকসভা নির্বাচন। ঠিক তখন অন্যদিকে বাংলার চিত্রটি কেমন ছিল? ৭ অক্টোবর ১৯৫২ সালের ৭ অক্টোবর একটি সংবাদপত্রের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে —বরিশাল, যশোর, ঢাকা, নোয়াখালি, চট্টগ্রাম, রাজশাহী থেকে কখনও হলদিবাড়ি প্যাসেঞ্জার, কখনও সিরাজগঞ্জ প্যাসেঞ্জার, কখনও বা ঢাকা মেলে চেপে বার্নপুরে নামছে হাজার হাজার উদ্বাস্তু। চাঁদপুর, গোয়ালন্দ, নারায়ণগঞ্জের স্টিমারঘাটে ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে আসা নর-নারী শিশুদের দল আটকে রয়েছে। কারণ, স্টিমার আর ট্রেনে আর জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। তাই তাঁরা আসতে পারছেন না। হয় স্টিমারঘাটে, কিংবা স্টেশনে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস কাটাচ্ছেন। ১৯৫১ সালের ১৬ জুলাই হাওড়া স্টেশনে হাউ হাউ করে কাঁদছেন ৫০টি পরিবার। তাঁদের ঘিরে ধরে রাখা হয়েছে। চলে যেতেই হবে। তাঁরা যাবেন না। তাঁদের পাঠানো হয়েছিল বীরভূম, শালবনী, জলপাইগুড়ি, দিনাজপুরের ক্যাম্পে। সেখানে তাঁরা থাকতে চাইছেন না। খাওয়া পাওয়া যায় না। মেয়েদের সম্মান রক্ষা হয় না। তাই তাঁরা ফিরে এসেছেন। কিন্তু, ফিরলে চলবে কেন? এভাবে তো শিয়ালদহ আর হাওড়ায় সারাজীবন রেখে দেওয়া যায় না। যদি ফিরে যায় তাহলে প্রত্যেকে মাসে ৭ টাকা আর বাচ্চাদের ৫ টাকা করে দেওয়া হবে। তারা রাজি হল। অন্যথা উপায় নেই!
৩০ জানুয়ারি ধুবুলিয়া ক্যাম্পের দৃশ্য। হাইওয়ে ধরে যখন পরপর লাইন দিয়ে তিনটি গাড়ি যাচ্ছে ভোটকর্মীদের নিয়ে, তখন দেখা যায় একটি গাছের নীচে অবিরল কেঁদে চলেছে এক কিশোর। তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে বোন। তারা মাদারিপুর থেকে আসার পথে হাতে থাকা একটি বাক্স হারিয়ে ফেলেছে। কি ছিল বাক্সে? সেই ফেলে আসা স্কুলের খাতা আর কিছু জমানো ঝিনুক!
ঠিক সেখান থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরের এক শহর কলকাতায় ওই প্রথম সাধারণ নির্বাচনের উদ্মাদনার মধ্যেই ওই ১৯৫১ সালে রিলিজ হয়ে গেল কিছুদিনের ব্যবধানে দু’টি বাংলা সিনেমা। ‘ওরে যাত্রী’ এবং ‘সহযাত্রী’। একটি অচেনা তরুণকে দেখা গেল পোস্টারে। তখনও কেউ চেনে না। সেই তরুণই পরবর্তীকালে উত্তমকুমার!
07th  April, 2019
পুজোর ফুলের যন্ত্রণা
বিশ্বজিৎ মাইতি

 বিশ্বজিৎ মাইতি: হাওড়া‑খড়্গপুর রেলওয়ে শাখার বালিচক স্টেশন। মার্চ মাসের এক শুক্রবারের সকালে বেশ কয়েকজনকে ধরেছেন টিটি। বিনা টিকিটে ট্রেন সফর। তাঁদের মধ্যে এক যুবকের হাতে গোটা চারেক বস্তা। হাতে একগুচ্ছ ব্যাগ। গাল ভর্তি দাড়ি। উসকো-খুসকো চুল। পরনে নানান দাগে ভর্তি জামা ও হাফপ্যান্ট। করুণ চোখে আচমকাই নিজের মানিব্যাগ টিটির মুখের সামনে দেখিয়ে ধরা গলায় বলল, ‘স্যার একটা টাকাও নেই। পুরো শরীর চেক করে দেখুন...।
বিশদ

ভো-কাট্টা

বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে ঘুড়ি ওড়ানোটা সমার্থক হয়ে গিয়েছে। বিশ্বকর্মা পুজো মানেই আকাশজোড়া ঘুড়ির আলপনা। অসংখ্য ঘুড়ির ভেলায় যেন স্বপ্ন ভাসে। বহু কৈশোর আর যৌবনের মাঞ্জায় লেগে আছে ঘুড়ি ওড়ানোর স্মৃতি। যে ছেলেটা কোনওদিন সকাল দেখেনি, সেও বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে সূর্য ওঠার আগেই ঘুড়ি-লাটাই নিয়ে ছাদে উঠে যায়।  
বিশদ

15th  September, 2019
নির্মাণশিল্পী বিশ্বকর্মা
সন্দীপন বিশ্বাস

জরাসন্ধ তখন প্রবল প্রতাপান্বিত। বারবার মথুরা আক্রমণ করছিলেন। কিন্তু সপ্তদশ প্রচেষ্টাতেও মথুরা জয় করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। তাই ফের তিনি মথুরা আক্রমণের প্রস্তুতি নিতে লাগলেন। কৃষ্ণ অবশ্য জানতেন জরাসন্ধ কিছুতেই মথুরা জয় করতে পারবেন না।
বিশদ

15th  September, 2019
আগুন বাজার
বীরেশ্বর বেরা

 ‘কেন? আপনি যে পটল বেচছেন, এমন পটল তো আমরা ৩০-৩২ টাকায় কিনছি!’ গ্রাম্য যুবক তাঁর আপাত-কাঠিন্যের খোলস ছেড়ে সহজ হয়ে গেলেন হঠাৎ। তেলের টিনের উপর চটের বস্তা বেঁধে টুলের মতো বসার জায়গাটা এগিয়ে দিয়ে বললেন, ‘বসুন তাহলে, বলি। বিশদ

08th  September, 2019
সমাপ্তি
সমৃদ্ধ দত্ত

মহাত্মা গান্ধীর প্রকাশিত রচনাবলীর খণ্ড সংখ্যা ৯০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। এ পর্যন্ত জওহরলাল নেহরুর লেখা নিয়ে প্রকাশিত যত রচনা আছে, তা প্রায় ৫০ খণ্ড অতিক্রান্ত। বাবাসাহেব আম্বেদকরের সারা জীবনের যাবতীয় রচনা সমন্বিত করে এখনও পর্যন্ত ১৬টি খণ্ডসংবলিত রচনাবলী প্রকাশ পেয়েছে। 
বিশদ

01st  September, 2019
রাজীব ৭৫
মণিশঙ্কর আইয়ার

 ছিয়াশি সালের ডিসেম্বর। অঝোরে তুষারপাত হচ্ছে। আমরা যাচ্ছি কাশ্মীর। কিন্তু একটা সময় আর্মি জানাল, আর যাওয়া সম্ভব নয়। এত তুষারপাতে হেলিকপ্টার ওড়ানো যাবে না। তাহলে? যাব কী করে? বাকিরাও বলল, দিল্লি ফিরে চলুন। কিন্তু প্রধাননমন্ত্রী বললেন, তা হয় না। যাব যখন বলেছি যেতে হবে। লোকেরা অপেক্ষা করে থাকবে যে!
বিশদ

25th  August, 2019
শতবর্ষে  সারাভাই
মৃন্ময় চন্দ

চন্দ্রযান-২’র সাফল্যে গর্বিত ভারত। অভিজাত মহাকাশ ক্লাবের সদস্যদেশগুলির সঙ্গে ভারত আজ এক পংক্তিতে। মহাকাশ গবেষণায় ভারতের ঈর্ষণীয় সাফল্যের রূপকার নিঃসন্দেহে ক্ষণজন্মা বিরল প্রতিভাধর মিতভাষী এক বিজ্ঞানী—বিক্রম সারাভাই। একার হাতে যিনি গড়ে দিয়ে গেছেন ভারতের বিপুলা মহাকাশ সাম্রাজ্য। ১২ই আগস্ট ছিল তাঁর জন্মশতবার্ষিকী। বিশদ

18th  August, 2019
জয় জওয়ান

ঝুঁকি শব্দটি যখনই উল্লেখ করা হয়, তখনই তার সঙ্গে আবশ্যিকভাবে যুদ্ধের বিষয়টি এসে পড়ে। কিন্তু শুধু যুদ্ধে নয়, ঝুঁকি রয়েছে প্রশিক্ষণ পর্বেও। একজন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে নানাভাবে তৈরি হতে হয়। আকাশপথে সেই প্রশিক্ষণ যখন শুরু হয়, তখন প্রতিটি স্তরেই ঝুঁকি থাকে। সেগুলো অতিক্রম করে সাফল্য পাওয়াই একজন পাইলটের কাছে চ্যালেঞ্জ। বিশদ

11th  August, 2019
জাতীয়তাবাদ ও রবিঠাকুর 
সমৃদ্ধ দত্ত

জাতীয়তাবাদের সংজ্ঞা তাঁর কাছে আলাদা। বিশ্বাস করতেন, গ্রামই ভারতের চেতনা। সম্পদ। তাই শুধু ইংরেজ বিরোধিতা নয়, রবিঠাকুরের লক্ষ্য ছিল ভারতের উন্নয়ন। ভারতবাসীর উন্নয়ন। তাঁদের স্বনির্ভর করে তোলা। অন্যরকম তাঁর স্বদেশপ্রেম। আরও এক ২২ শ্রাবণের আগে স্মরণ এই অন্য রবীন্দ্রনাথকে। 
বিশদ

04th  August, 2019
গণহত্যার সাক্ষী
মৃণালকান্তি দাস

এ এক হিবাকুশার গল্প। পারমাণবিক বোমা হামলার পর হিরোশিমা ও নাগাসাকির যারা বেঁচে গিয়েছিলেন, তাদের বলা হয় হিবাকুশা। তাঁরা কেউই হিবাকুশা হতে চাননি, চেয়েছিলেন আর দশজন স্বাভাবিক মানুষের মতোই সুন্দর একটা জীবন কাটাতে। কিন্তু ‘ফ্যাট ম্যান’ ও ‘লিটল বয়’ নামে দুটি অভিশাপ তছনছ করে দিয়েছিল তাঁদের সাজানো সংসার, সাজানো স্বপ্ন সহ সবকিছু। তেমনই একজন হিবাকুশা সাচিকো ইয়াসুই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কেড়ে নিয়েছিল তার সর্বস্ব...।
বিশদ

28th  July, 2019
বদলের একুশ
জয়ন্ত চৌধুরী

 একুশে জুলাই। শহিদ স্মরণ। তৃণমূলের বাৎসরিক শহিদ তর্পণ। গত আড়াই দশকের বেশি সময় ধরে এটাই চল। ঝড়-জল-বৃষ্টি-বন্যা সবই অপ্রতিরোধ্য একুশের আবেগের কাছে। তাই কেন একুশ, এই প্রশ্নের চাইতে অনেক বেশি জায়গা দখল করে রয়েছে এই দিনকে ঘিরে বাঁধনহারা উচ্ছ্বাস।
বিশদ

21st  July, 2019
অচেনা কাশ্মীর
ফিরদৌস হাসান

 ২০১৪ সালের পর এই প্রথম এত তুষারপাত হয়েছে উপত্যকায়। সাদায় মুখ ঢেকেছিল ভূস্বর্গ। আর তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাল্লা দিয়েছিল পর্যটনও। বরফঢাকা উপত্যকার নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ কে-ই বা হাতছাড়া করতে চায়! তাই তো জানুয়ারিতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কোলাহলে উপত্যকা গমগম করছিল।
বিশদ

14th  July, 2019
জল সঙ্কট 

কল্যাণ বসু: দুধ সাদা ধুতি পাঞ্জাবি, মাথায় নেহরু টুপি, গলায় মালা ঝুলিয়ে মন্ত্রী দু’হাত জোড় করে হাসিমুখে মঞ্চের দিকে যাচ্ছেন। চারদিকে জয়ধ্বনি, হাততালি। মঞ্চে উঠে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে মন্ত্রী বলতে শুরু করেছেন সবে।  বিশদ

07th  July, 2019
জগন্নাথের ভাণ্ডার
মৃন্ময় চন্দ

‘রথে চ বামনং দৃষ্ট, পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে’। অর্থাৎ, রথের রশি একবার ছুঁতে পারলেই কেল্লা ফতে, পুনর্জন্ম থেকে মুক্তি। আসলে সর্বধর্মের সমন্বয়ে বিবিধের মাঝে মিলন মহানের এক মূর্ত প্রতিচ্ছবি এই রথযাত্রা। সেই কারণেই নিউজিল্যান্ডের হট প্যান্টের গা ঘেঁষে সাত হাত কাঞ্চীপূরমীয় ঘোমটা টানা অসূর্যমপশ্যা দ্রাবিড়ীয় গৃহবধূও শামিল হন রথের রশি ধরতে। অর্কক্ষেত্র, শঙ্খক্ষেত্র আর শৈবক্ষেত্রের সমাহারে সেই মিলন মহানের সুরটিই সতত প্রতিধ্বনিত নীলাচলে। তাই নীলাচলপতির দর্শনে অক্ষয় বৈকুণ্ঠ লাভের আশায় ভিড়ের ঠেলায় গুঁতো খেতে খেতে চলেন সংসার-বঞ্চিত বাল্যবিধবারা। একই মনোবাসনা নিয়ে চলেছেন অন্ধ, চলেছেন বধির, চলেছেন অথর্ব।
বিশদ

30th  June, 2019
একনজরে
 অভিমন্যু মাহাত, সোদপুর, বিএনএ: ১৫০ বছরের পুরনো আস্ত জমিদার বাড়িকেই তুলে ধরছে সোদপুরের উদয়ন সংঘ। এবার তাদের থিম ‘খিড়কি থেকে সিংহদুয়ার’। থিম ড্রামা, থিম সং ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃহস্পতিবার রাতে ছাত্র বিক্ষোভের জেরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মধ্যে উপাচার্য-সহ উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে উদ্ধার করতে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকার ক্যাম্পাসে যেতে ...

  নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত এক সপ্তাহ ধরে মহমেডান স্পোর্টিং মাঠের পরিচর্যা চলছে। কালো-সাদা ব্রিগেডের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর দীপেন্দু বিশ্বাসের উদ্যোগে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা এসে মাঠটির হাল ফেরানোর চেষ্টা করছেন। গত এক সপ্তাহর মধ্যে শনিবারই মহমেডান নিজেদের মাঠে অনুশীলন করল। ...

বিএনএ, রায়গঞ্জ: শনিবার দুপুরে রায়গঞ্জের বাহিন গ্রাম পঞ্চায়েতের শঙ্করপুরে জমিতে কাজ করার সময় এক মহিলা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম লক্ষ্মী দাস(২৫)। মৃতের বাড়ি বাহিনের হাঁটমুনি গ্রামে।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বেফাঁস মন্তব্যে বন্ধুর সঙ্গে মনোমালিন্য। সম্পত্তি নিয়ে ভ্রাতৃবিরোধ। সৃষ্টিশীল কাজে আনন্দ। কর্মসূত্রে দূর ভ্রমণের সুযোগ।প্রতিকার— ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৫৩৯: পাঞ্জাবের শহর কর্তারপুরে প্রয়াত গুরু নানক
১৭৯১: ইংরেজ বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডের জন্ম
১৮৮৮: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ম্যাগাজিন প্রথম প্রকাশিত
১৯১৫ - নদিয়া পৌরসভার নামকরণ বদল করে করা হয় নবদ্বীপ পৌরসভা
১৯৩৯: প্রথম এভারেস্ট জয়ী মহিলা জুনকো তাবেইয়ের জন্ম
১৯৬২ – নিউজিল্যাণ্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা ধারাভাষ্যকার মার্টিন ক্রোর জন্ম
১৯৬৫: শেষ হল ভারত-পাকি স্তান যুদ্ধ। রাষ্ট্রসংঘের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দু’দেশ যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করল
১৯৭০: লেখক শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু
১৯৭৬: ব্রাজিলের প্রাক্তন ফুটবলার রোনাল্ডোর জন্ম
১৯৮০: ইরান আক্রমণ করল ইরাক
১৯৯৫: নাগারকোভিল স্কুলে বোমা ফেলল শ্রীলঙ্কার বায়ুসেনা। মৃত্যু হয় ৩৪টি শিশুর। যাদের মধ্যে বেশিরভাগই তামিল
২০১১: ক্রিকেটার মনসুর আলি খান পতৌদির মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.১৯ টাকা ৭২.৭০ টাকা
পাউন্ড ৮৬.৪৪ টাকা ৯১.১২ টাকা
ইউরো ৭৬.২৬ টাকা ৮০.৩৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
21st  September, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮, ৩৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬, ৩৭০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬, ৯১৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬, ১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬, ২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার, অষ্টমী ৩৫/৫৪ রাত্রি ৭/৫০। মৃগশিরা ১৫/৪৪ দিবা ১১/৪৬। সূ উ ৫/২৮/৪০, অ ৫/৩০/৩৮, অমৃতযোগ দিবা ৬/১৬ গতে ৮/৪১ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৪ গতে ৩/৭ মধ্যে। রাত্রি ৭/৫৫ গতে ৯/৩০ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৪ গতে ১/২৯ মধ্যে পুনঃ ২/১৭ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৯/৫৯ গতে ১/০ মধ্যে, কালরাত্রি ১২/৫৯ গতে ২/২৯ মধ্যে।
৪ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার, অষ্টমী ২৩/৭/৩২ দিবা ২/৪৩/৩১। মৃগশিরা ৬/৫২/৫৬ দিবা ৮/১৩/৪০, সূ উ ৫/২৮/৩০, অ ৫/৩২/৩০, অমৃতযোগ দিবা ৬/২০ গতে ৮/৪১ মধ্যে ও ১১/৪৭ গতে ২/৫৪ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪২ গতে ৯/২১ মধ্যে ও ১১/৪৯ গতে ১/২৭ মধ্যে ও ২/১৭ গতে ৫/২৯ মধ্যে, বারবেলা ১০/০/০ গতে ১১/৩০/৩০ মধ্যে, কালবেলা ১১/৩০/৩০ গতে ১/১/০ মধ্যে, কালরাত্রি ১/০/০ গতে ১১/৩০/৩০ মধ্যে।
 ২২ মহরম

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
রাজীব কুমার ঘনিষ্ঠ ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ সিবিআইয়ের, রয়েছেন ২ ব্যবসায়ীও 

11:00:00 AM

বিশাখাপত্তনামে স্ত্রী, কন্যাকে খুন করে আত্মঘাতী এক ব্যক্তি 

10:35:00 AM

তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে উত্তপ্ত পাড়ুই 
তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বীরভূমের পাড়ুই। গতকাল রাতে সাত্তোর ...বিশদ

10:32:00 AM

পরবর্তী বায়ুসেনা প্রধানের নামেই রাফালের নম্বর আরবি-০১
 

ফ্রান্সের দাসো অ্যাভিয়েশনের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবারই প্রথম রাফাল যুদ্ধবিমান ভারতকে ...বিশদ

10:31:04 AM

শহরে ট্রাফিকের হাল
 

আজ, রবিবার সকালে শহরের রাস্তাঘাটে যান চলাচল মোটের উপর স্বাভাবিক। ...বিশদ

10:30:28 AM

পি১৭এ সিরিজের সপ্তম যুদ্ধজাহাজের নাম হতে পারে মহেন্দ্রগিরি

পি১৭এ রণতরী সিরিজের সপ্তম যুদ্ধজাহাজটির নাম রাখা হতে পারে ‘মহেন্দ্রগিরি’। ...বিশদ

10:06:30 AM