Bartaman Patrika
সাম্প্রতিক
 

ভালোবাসার শহর সেন্ট পিটার্সবার্গ
রাশিয়া থেকে ফিরে
সন্দীপন বিশ্বাস

সেন্ট পিটার্সবার্গ যেমন ইতিহাসের শহর, তেমনই ভালোবাসারও শহর। এই শহরের প্রাসাদে, নদীতে, গির্জায়, মেট্রোয়, পথে পথে মিশে আছে এক রোমান্টিসিজম। তাকে দেখা যায়, অনুভব করা যায়। প্রেমের শহর সেন্ট পিটার্সবার্গ। জার শাসকদের সময় ছুঁয়ে আজ পর্যন্ত এই শহর দেখেছে বহু প্রেম। সেই প্রেম কখনও সফল, কখনও রক্তাক্ত, কখনও ব্যর্থ, কখনও বা সেই প্রেম এনে দিয়েছে মৃত্যুর গন্ধ।

আলেকজান্দ্রোভস্কি গার্ডেনে সেদিন অনেকক্ষণ বসেছিলাম। সকালে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গিয়েছে। বেলায় রোদ উঠলেও হাওয়ায় ছিল কনকনে ভাব। আবহাওয়া খুবই মনোরম। শহরের এদিকটাকে বলা হয় প্যালেস স্কোয়ার। পার্কের অদূরেই হার্মিটেজ মিউজিয়াম এবং জারদের উইন্টার প্যালেস। অন্যদিকে সেন্ট আইজাক ক্যাথেড্রাল চার্চ। সামনেই নেভা নদী। আর এক পাশে ‘বরিস ইয়েলৎসিন প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি’। তার পাশ দিয়ে যে রাস্তাটা চলে গিয়েছে, সেটা ধরে একটু এগলেই এখানকার বিখ্যাত রেস্তরাঁ। নাম স্ট্রোগানফ স্টেক হাউস। সব মিলিয়ে এই জায়গাটা স্থানীয় ছেলেমেয়েদের খুব পছন্দ। এই জায়গাটা ওদের প্রেমের গুঞ্জনের জায়গা। সকাল থেকে রাত একটা পর্যন্ত দেখেছি, প্রেমিক-প্রেমিকারা এখানে বসে গল্প করছেন। সঙ্গে একটা ভদকার বোতল থাকবেই। আর একটু কিছু বার্গার জাতীয় খাবার। সেইসব নিয়ন্ত্রিত শরীরী আখ্যানের কালবেলায় দেখেছি সেন্ট পিটার্সবার্গকে। বড় চঞ্চল ওক, ম্যাপেল, বার্চ গাছগুলো। কত রকমারি ফুলের গাছ। শীতের প্রার্থনার শেষে এখন বসন্তের উত্তর মিশে যাচ্ছে শহরের রূপে, রসে, গন্ধে। এ যেন এক ম্যাজিক রিয়ালিজম। স্বপ্নের গভীর থেকে তা যেন নিয়ে যায় বাস্তবে। অথবা বাস্তবকে টেনে নিয়ে যায় আরও এক অধরা পরাবাস্তবের দিকে। রিয়ালিটি আর ফ্যান্টাসি একসঙ্গে হাত ধরাধরি করে এগিয়ে যায়। সমস্ত কিছু মধুময় হয়ে ওঠে রোমান্টিকতার আবহে।
সেন্ট পিটার্সবার্গ যেমন ইতিহাসের শহর, তেমনই ভালোবাসারও শহর। এই শহরের প্রাসাদে, নদীতে, গির্জায়, মেট্রোয়, পথে পথে মিশে আছে এক রোমান্টিসিজম। তাকে দেখা যায়, অনুভব করা যায়। প্রেমের শহর সেন্ট পিটার্সবার্গ। জার শাসকদের সময় ছুঁয়ে আজ পর্যন্ত এই শহর দেখেছে বহু প্রেম। সেই প্রেম কখনও সফল, কখনও রক্তাক্ত, কখনও ব্যর্থ, কখনও বা সেই প্রেম এনে দিয়েছে মৃত্যুর গন্ধ। বহু বিখ্যাত মানুষের প্রেমের উচ্ছ্বাস বা বেদনা মিশে আছে এর হাওয়ায়।
এই শহরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ফিওদর দস্তয়েভস্কির নাম। তাঁর বিখ্যাত বইগুলির মধ্যে অন্যতম ‘ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট’, ‘দি ইডিয়টস’ ইত্যাদি। দস্তয়েভস্কি তাঁর নতুন উপন্যাসের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। উপন্যাসের নাম ‘দ্য গ্যাম্বলার’। বয়স তাঁর তখন ৪৫ বছর। বইটা তাড়াতাড়ি শেষ করতে হবে। প্রকাশক তাড়া দিচ্ছেন। কিন্তু তিনি তাড়াতাড়ি লিখতে পারেন না। সে কারণে তাঁর একজন স্টেনো দরকার। যিনি শুনে শুনে সব লিখে রাখবেন। দস্তয়েভস্কির বন্ধু একজন তরুণীর সন্ধান দিলেন। অ্যানা স্নিৎকিনা। বয়স ২০ বছর। দস্তয়েভস্কি বলে যান, অ্যানা লিখে চলেন। মাঝে মাঝে চরিত্রের মনস্তত্ত্ব সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিলে দস্তয়েভস্কি আলোচনা করেন অ্যানার সঙ্গে । অ্যানার সঙ্গে কথা বলে ভালো লাগে দস্তয়েভস্কির। গল্পে রয়েছে এক বৃদ্ধ চিত্রশিল্পী। সেই চরিত্রটি এক তরুণীর প্রেমে পড়ে যান। তিনি সেই তরুণীটির কাছে ভালোবাসার প্রস্তাব রাখেন। কিন্তু মেয়েটি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করবে না, ফিরিয়ে দেবে! বুঝতে পারেন না লেখক। আলোচনা করেন অ্যানার সঙ্গে। নভেম্বরের শীতের সকাল। মনটা কেমন যেন উদাস হয়ে যায়। দস্তয়েভস্কি অ্যানাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ধরো, আমি সেই বৃদ্ধ চিত্রশিল্পী, আর তুমি সেই তরুণী। আমি তোমায় প্রস্তাব দিয়ে বললাম, ইয়া ভাস লুবলু। আমি তোমায় খুব ভালোবাসি। মি পাজেনিমশা। তোমাকে আমার স্ত্রী হিসাবে পেতে চাই।’
অ্যানার মুখের ভাব বদলে গেল। তিনি নরম স্বরে বললেন, ‘আমিও তোমাকে ভালোবাসি এবং সারা জীবন ভালোবেসে যেতে চাই। তুমি যেন আমাকে অস্বীকার কোরো না।’
দুজনেই বাকরুদ্ধ। দস্তয়েভস্কি বুঝতে পারেন না, এই উত্তর কার! এই স্বরের মধ্যে তো কোনও অভিনয় নেই। সেটা কি তাহলে অ্যানার অন্তরের কথা! অপ্রস্তুত দস্তয়েভস্কি। তখন লেখকের হাত দুটো নিজের হাতে ধরলেন অ্যানা। বাইরে তখন তুষার পড়ছে। বুকের ভিতরেও তখন দুজনেরই ভালোবাসার তুষারপাত শুরু হয়েছে। সেই সময় অ্যানার উষ্ণ হাতটা পরম আপনজনের মতো মনে হচ্ছিল। দস্তয়েভস্কির মনে হল, এই হাত যেন অ্যানা কখনও না ছাড়েন।
এখানেই দুজনের বিয়ে হয়েছিল ১৮৬৭ খ্রিস্টাব্দের ১৫ ফেব্রুয়ারি। দস্তয়েভস্কির মৃত্যুর সময় অ্যানার বয়স ছিল ৩৫। আর কখনও তিনি বিয়ে করেননি। স্বামীর সাহিত্যকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তিনি আজীবন প্রয়াসী হয়েছিলেন। এবছর অ্যানার মৃত্যুশতবার্ষিকী চলছে।
আর একজন মহান সাহিত্যিক এই শহরেই ভালোবাসার যুদ্ধে প্রাণ দিয়েছিলেন। তিনি হলেন নাট্যকার, কবি ও সাহিত্যিক আলেকজান্দার পুশকিন। ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দ। তখন একদিকে তিনি দেনায় ডুবে আছেন। আবার অন্যদিকে সারা শহরে ঢি ঢি পড়ে গিয়েছে। তাঁর স্ত্রী নাতালিয়া নাকি গোপনে প্রেমপর্ব চালাচ্ছেন ফরাসি সেনা অফিসার হেকেরেন ডি অ্যান্থেসের সঙ্গে। বিশ্বাস করতে পারেন না পুশকিন। তাঁর স্ত্রী তাঁকে কতই ভালোবাসেন। বিয়ের পরও দু’জনে প্রেমপত্র লেখেন পরস্পরকে। ভালোবাসার অন্ধ গলিতে হারিয়ে গিয়ে তবে কি তিনিই কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না! নিজের উপর বিশ্বাস হারাতে থাকেন ক্রমে। আবার কখনও প্রতিশোধের জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। সে এক ভয়ঙ্কর মানসিক অবস্থা! কী করবেন তাই নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান তিনি। অবশেষে তিনি ডি অ্যান্থেসকে ডুয়াল লড়ার জন্য আহ্বান জানান। উন্মুক্ত স্থানে দুজনে দাঁড়ালেন। দুজনের হাতেই পিস্তল। ঝুপঝুপ করে বরফ পড়ছে। সেই লড়াইয়ে গুলিতে জখম হলেন পুশকিন। একটি গুলি লাগে তাঁর উরুতে, অন্যটি পেটে। চারিদিকে জমা বরফের মধ্যে আঁকাবাঁকা স্রোতে মিশে যাচ্ছে পুশকিনের রক্ত। প্রতিটি ফোঁটার ভিতরে ভালোবাসার অনন্ত সুবাস! সময় তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এক মূত‌্যুর দিকে। ভালোবাসার যুদ্ধে হেরে গেলেন পুশকিন। এই শহর এখনও ভুলে যায়নি পুশকিনের প্রেম।
‘কিসের জন্য আমরা লড়াই করি? সে কি স্বাধীনতা, না ঈশ্বর, না অর্থ, নাকি প্রেম। জীবনের সব প্রেমকে এক করে মাথা তুলে দাঁড়াও। সমস্ত প্রেমকে এক করে ছুঁড়ে দাও সেই মোক্ষম প্রশ্ন, তোমরা কেন যুদ্ধ কর, এভাবে মৃত্যুর তমসুক লিখে যাও!’ মায়াকোভস্কি মেট্রো স্টেশনের চলমান সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে কবির এই কবিতাটা মনে আসছিল। এক স্বপ্নের কবি মায়াকোভস্কি। তাঁর প্রেমের স্মৃতি বুকে নিয়েও বেঁচে আছে সেন্ট পিটার্সবার্গ। সে প্রেম হল মায়াকোভস্কি এবং লিলিয়া ব্রিকের প্রেম। ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে মায়াকোভস্কি এলেন সেন্ট পিটার্সবার্গে। এখানে তাঁর সঙ্গে দেখা হল ম্যাক্সিম গোর্কির। ব্রিকের সঙ্গে তাঁর প্রেমপর্ব চলেছিল ১৯১৫ থেকে ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত। লিলিয়া ব্রিকের স্বামী ওসিয়া ব্রিক ছিলেন মায়াকোভস্কির বন্ধু। মায়াকোভস্কির সব বইয়ের প্রকাশক। ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে মায়াকোভস্কি ‘চেইনড বাই দ্য ফিল্ম’ ছবির চিত্রনাট্য লেখেন। সে ছবির নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করেন লিলিয়া। লিলিয়ার বিপরীতে মায়াকোভস্কি নিজেও কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। মায়াকোভস্কির বহু প্রেমের কবিতায় মিশে আছে লিলিয়ার প্রেম ও সৌন্দর্য। তারপরে তাঁর জীবনে আসেন অন্য এক নারী। অভিনেত্রী ভেরোনিকা পোলোনস্কায়া। কিন্তু সেই প্রেম পূর্ণতা পেল না। মাত্র ৩৭ বছর বয়সে আত্মহত্যা করলেন মায়াকোভস্কি। কোন যন্ত্রণার শিকার ছিলেন তিনি? সে কি প্রেমের ব্যর্থতা নাকি কমিউনিজমের বিশ্বাসঘাতকতা? আজও তার সন্ধান মেলেনি। গবেষণা চলছে।
এই শহর আলফ্রেড নোবেলের প্রেমকেও পূর্ণতা দিতে পারেনি। নোবেলের বাবা ইমানুয়েল নোবেল ছিল বিজ্ঞানী। নানা ধরনের যন্ত্রপাতির ব্যবসায় বারবার ব্যর্থ হয়ে শেষে তিনি সেন্ট পিটার্সবার্গে চলে এলেন ভাগ্যের অন্বেষণে। এই শহর তাঁকে সাফল্য দিয়েছে। তিনি ছিলেন প্লাইউডের আবিষ্কারক। সেই ব্যবসা তাঁকে এনে দিল প্রভূত অর্থ। ১৮৪২ খ্রিস্টাব্দে তাঁর পরিবারের সকলে চলে এলেন এখানে। আলফ্রেড নোবেলের বয়স তখন মাত্র নয় বছর। বেশ কিছুদিন তিনি এখানে ছিলেন। তাঁর প্রথম প্রেম আলেকজান্দ্রা নামে একটি রুশ মেয়ের সঙ্গে। কিন্তু কিন্তু করে একদিন নোবেল মেয়েটিকে প্রোপোজও করলেন। কিন্তু সেই প্রেম গ্রহণে অস্বীকার করলেন আলেকজান্দ্রা। প্রথম প্রেম বিষণ্ণতা ছাড়া কিছুই দিতে পারেনি নোবেলকে।
আবার এই শহর রাসপুতিনের শহর। ইতিহাস তাঁকে মনে রেখেছে এক কামাচারী, লোভী মানুষ হিসাবে। জারদের ঘনিষ্ঠ সাধু ছিলেন গ্রিগরি রাসপুতিন। তিনি নাকি কালা জাদু জানতেন। জার দ্বিতীয় নিকোলাস এবং তাঁর স্ত্রী আলেকজান্দ্রার ছিল চার কন্যা। দুজনেই চাইছিলেন বংশরক্ষায় তাঁদের একটি পুত্রসন্তান হোক। পুত্র আলেক্সি জন্মাল বটে। তবে তিনি ভুগছিলেন রক্তের এক দুরারোগ্য ব্যধিতে। অনেক চেষ্টা করেও কিছু হচ্ছিল না। শেষে রাসপুতিনের কালা জাদুতে নাকি রাজকুমারের রোগ সেরে যায়। সেই থেকে তিনি রাজপরিবারের এক প্রভাবশালী ব্যক্তিতে পরিণত হন। তাঁর নানা ধরনের অত্যাচারে অনেকে তাঁর বিরোধী হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর সঙ্গে রানিরও সম্পর্ক ছিল বলে শোনা যায়। শুধু রানি কেন, বহু মহিলাকে ক্ষমতার বলে তিনি শয্যাসঙ্গিনী করেছিলেন। এর বিরুদ্ধে গোপনে তাঁকে হত্যার ছক কষা শুরু হল। সেই ছক অনুযায়ী রাসপুতিনকে হত্যা করা হল। তাঁকে ভুলিয়ে রাতে আনা হল ময়কা নদীর তীরে উসুপোভ প্যালেসে। প্রথমে বিষ মেশানো কেক, তারপরে পটাশিয়াম সায়ানাইড মেশানো মদ খাওয়ানো হল। কিন্তু হত্যাকরীরা মনে করতে লাগলেন, কালা জাদুর শক্তিতে রাসপুতিন আবার বেঁচে উঠতে পারেন। তাই পিস্তল থেকে বেশ কয়েকটি গুলি তাঁর বুকের এফোঁড় ওফোঁড় করে দেওয়া হল। তারপর দেহটাকে একটা কার্পেটে মুড়ে ফেলে দেওয়া হল নেভা নদীতে। তিনদিন পর ভেসে উঠল দেহ। মৃত্যুর কয়েকদিন আগেই জার দ্বিতীয় নিকোলাসকে লেখা তাঁর শেষ চিঠিতে রাসপুতিন লিখেছিলেন, ‘আমি চারিদিকে একটা মৃত্যুর ছায়া দেখতে পাচ্ছি। আমাকে কেউ বা কারা হত্যা করবে। যদি আমাকে কেউ হত্যা করে, তবে তার মূল্য দিতে হবে রাজপরিবারকে। রাশিয়ার জনগণ রাজপরিবারের সবাইকে সমূলে হত্যা করবে।’ রাসপুতিনের মৃত্যুর পনেরো মাস পরে তাঁর কথা অক্ষরে অক্ষরে সত্যি হয়েছিল। রুশ বিপ্লবের পথ ধরে নির্বংশ হয়ে গিয়েছিল জার পরিবার। রাশিয়ার ইতিহাসে রাসপুতিন একটি অধ্যায়। সেন্ট আইজাক ক্যাথেড্রালের অদূরে এই উসুপোভ প্যালেস।
সেন্ট পিটার্সবার্গে কয়েকদিন থেকে তাই বারবার মনে হয়েছে, এই শহরের হারানো ইতিহাসের মধ্যে ভালোবাসারা কী মাঝে মাঝে জেগে ওঠে। কখনও মধ্যরাতে, বা রৌদ্রদীপ্ত অবকাশে কিংবা তুষারপাতের সময় অথবা পাতা ঝরার মরশুমে! এই প্রজন্মের মধ্যেও কী তারা মিশে যায় অব্যক্ত আবেগে? এভাবেই সময় এগোয়। বয়ে যায় নেভা নদী। সাক্ষী থাকে সেন্ট পিটার্সবার্গ।
22nd  July, 2018
কোলিন্দার ‘সুন্দর’ মুখের আড়ালে! 

কখনও টিমের জন্য গলা ফাটাচ্ছেন, কখনও ফুটবলারদের সঙ্গে মেতে উঠছেন উদ্দাম সেলিব্রেশনে। দেখে কে বলবে তিনিই ছোট্ট দেশটার প্রথম নাগরিক। প্রেসিডেন্ট কোলিন্দা গ্রাবার কিতারোভিচ। পাপারাৎজিরা কেন তাঁর পিছু ছাড়ে না? তিনি নাকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গেও খুনসুঁটি করতে ছাড়েন না! র‌্যাকিটিচ, মডরিচদের ফুটবল স্কিলে যখম সম্মোহিত ক্রীড়া দুনিয়া, তখন ক্রোটদের সুন্দরী প্রেসিডেন্টের প্রাণোচ্ছলতায় মজেছে নেট দুনিয়া।
বিশদ

22nd  July, 2018
থাই শিশুদের নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহী হলিউড 

ঘটনা অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি। ১৭ দিন পর থাইল্যান্ডের বিপজ্জনক গুহায় আটকে পড়া কিশোরদের উদ্ধার করেছেন দুঃসাহসী ডুবুরিরা। চিয়াং রাই হাসপাতালের বেডে মুখে মাস্ক ও হাসপাতালের গাউন পরা অবস্থায় রয়েছে তারা।
বিশদ

15th  July, 2018
ইতিহাসের সন্ধানে... 
সেন্ট পিটার্সবার্গে
(রাশিয়া থেকে ফিরে সন্দীপন বিশ্বাস)

জুন, জুলাই মাসের এই সময়টায় সেন্ট পিটার্সবার্গে সূর্যের আলস্য দেখার মতো। অস্ত যেতে যেন মন চায় না তার। সারাদিন মাথার উপর জ্বলছে তো জ্বলছেই। ঘড়িতে তখন সাড়ে এগারোটা বেজে গেল। সেটাকে রাত বলব কিনা বুঝতে পারছি না! তখন পশ্চিমের আকাশে সূয্যিমামার অনিচ্ছার ডুব।
বিশদ

15th  July, 2018
হেরে গিয়েও জিতে যাওয়া বোধহয় একেই বলে 

হেরে গিয়েও জিতে যাওয়া বোধহয় একেই বলে!
বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের লড়াইয়ে বেলজিয়ামের সঙ্গে মুখোমুখি হয় জাপান। দুর্দান্ত খেলে দু’গোলে এগিয়েও যায় তারা। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই তিনটে গোল দিয়ে জাপানকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যায় বেলজিয়াম।
বিশদ

08th  July, 2018
ভলগা নদীর তীরে... 
রাশিয়া থেকে সোমনাথ বসু

উলিৎসা সেমাশকো থেকে হাঁটাপথেই গোর্কি মিউজিয়াম। সেখানে সংরক্ষিত রয়েছে ‘মা’ উপন্যাসের খসড়া। এমনকী প্রথম মুদ্রিত বইও। দুই খণ্ডে লেখা ‘মা’ বিপ্লবের আগমনি বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছিল গোটা রাশিয়ায়। সরল মানবিকতা থেকে গোর্কি উত্তীর্ণ হন শ্রেণী-মানবিকতায়। উৎপল দত্ত এ‌ই উপন্যাসের একটি অংশকে নিয়ে লিখেছিলেন ‘মে দিবস’ নাটক...
বিশদ

08th  July, 2018
বিশ্বকাপের ম্যাসকট
জাবিভাকার জন্মকথা
সন্দীপন বিশ্বাস

পশ্চিম সাইবেরিয়ার একটা ছোট্ট শহর কিদরোভি। মস্কো থেকে অনেক দূর। প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার। সেখানকার মেয়ে একাতেরিনা বোচারোভা আজ সারা বিশ্বে এক পরিচিত নাম। সে তো ওই জাবিভাকার দৌলতেই। জাবিভাকা একাতেরিনার কল্পনাপ্রসূত সৃষ্টি। সেই জাবিভাকা এবারের বিশ্বকাপের ম্যাসকট। বিশদ

03rd  June, 2018
সিলভিও গাজ্জানিগা
বিশ্বকাপের নকশার কারিগর
অরূপ দে

১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল জুরিখে ফিফা প্রেসিডেন্ট স্যার স্ট্যানলি রিউসের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি তৈরি করা হয় নতুন ট্রফির জন্য নকশা নির্বাচনের উদ্দেশ্যে। সেই কমিটি আহ্ববান করে নকশা প্রতিযোগিতার। খবর পেয়েই সিলভিও গাজ্জানিগা শুরু করলেন কাজ।
বিশদ

03rd  June, 2018
লেডি ডন

হেঁসেলের অন্ধকারে যাঁদের জীবন কাটিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। সন্তান পালন, স্বামীর সেবাই ছিল যাঁদের জীবনের আদর্শ। সেই তাঁরাই একদিন ঘোমটা ছেড়ে হাতে তুলে নিয়েছিলেন আগ্নেয়াস্ত্র। তাঁদের অঙ্গুলি হেলনে চলেছে বিরাট অপরাধের সাম্রাজ্য। এক ফোনে মুহূর্তে চলে গিয়েছে কারও প্রাণ।
বিশদ

13th  May, 2018
তারাপীঠ
মহাপীঠের ২০০ বছর 

তারাপীঠের মন্দিরের ইতিহাসকে দুশো বছরের মধ্যে আটকানো যায় না। তার ইতিহাস প্রাচীন, আবছায়া, অস্পষ্ট এক অতীতের মধ্যে মিশে আছে। একদিকে পুরাণ আর একদিকে ইতিহাস। একদিকে লোককথা, অন্যদিকে দলিল। সব মিলেই তারাপীঠের মন্দির এবং তারামায়ের কাহিনী একাকার হয়ে গিয়েছে... 
বিশদ

13th  May, 2018
তারামায়ের ছেলে বামাক্ষ্যাপা 

বহু সিদ্ধ পুরুষের সাধনক্ষেত্র তারাপীঠ। কিন্তু তারাপীঠের কথা উঠলেই যে সাধক পুরুষের নামটি মনে আসে, তিনি হলেন বামাক্ষ্যাপা। তারামায়ের ক্ষ্যাপা ছেলে বামাক্ষ্যাপা। নানা লৌকিক এবং অলৌকিক কাহিনী ছড়িয়ে আছে তাঁকে ঘিরে। তারাপীঠের অদূরে আটলা গ্রামে তাঁর জন্ম।
বিশদ

13th  May, 2018
রহস্যময়ী রিতা কাৎজ 
মৃণালকান্তি দাস

রিতা কাৎজ। বাংলাদেশের দুই বিদেশি নাগরিক খুন হওয়ার পর ৫২ বছরের এই মহিলাই প্রথম ট্যুইটারে দাবি করেছিলেন, এই হত্যাকাণ্ড আইএস (ইসলামিক স্টেট) ঘটিয়েছে। ঢাকার গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়ে ২০ জনকে জবাই করে হত্যা করার পর হামলাকারীদের ছবিও প্রথম প্রকাশ করেছিল রিতা কাৎজের ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’ ওয়েবসাইট।
বিশদ

06th  May, 2018
কলঙ্কিত দেশ 
কল্যাণ বসু

ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর পরিসংখ্যান বলছে ২০১২ সালে গোটা দেশে নথিভুক্ত ধর্ষণের সংখ্যা ছিল ২৪,৯২৩ আর ২০১৬ সালে সেটা ৩৮,৯৪৭! অর্থাৎ হ্রাস তো দূরের কথা, পাঁচ বছরে ধর্ষণের ঘটনা ৫৬ শতাংশ বেড়েছে!
বিশদ

06th  May, 2018
জঙ্গিদের থেকেও রাশিয়ার ভয় পঙ্গপালের দলকে 

সন্দীপন বিশ্বাস: ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে যে লোকটা পুলিশের হাড় পর্যন্ত কাঁপিয়ে দিয়েছিল, সে হল ফরিদ মেলুক। একজন আলজিরিয়ান ইসলামিক জঙ্গি। মেলুককে বলা হতো জঙ্গিদের ঠিকানা। সারা বিশ্বের জঙ্গিদের গতিবিধি, যোগাযোগের তথ্য ছিল তার নখের ডগায়।
বিশদ

29th  April, 2018
জোটের পথে... 

২০১৯-এর আগে বেশ কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। এর মধ্যে রয়েছে বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও ছত্তিশগড়ও। এই সব রাজ্যের ফল ২০১৯-এর সমীকরণ তৈরিতে অনেকটাই সাহায্যকরবে। কারণ বিধানসভায় বিজেপি ভালো ফল করলে, এখনকার মোদি বিরোধী হাওয়া আবার কমে যাবে। আর যদি বিজেপি হারে, তবে জোট রাজনীতির ঝড় উঠবে। লিখেছেন প্রীতম দাশগুপ্ত।
বিশদ

29th  April, 2018
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলি টাকা খরচ করেও তার শংসাপত্র জমা দিচ্ছে না। এ নিয়ে কারিগরি শিক্ষা ডিরেক্টরেটের তরফে বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কোনও কোনও প্রশিক্ষণকেন্দ্র চিঠি পেয়েও সাড়া দিচ্ছে না বলে অভিযোগ। এবার কড়া চিঠি দিল ভোকেশনাল এডুকেশন ও ...

বিএনএ, বর্ধমান: বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৫টি বেডের নতুন ডায়ালিসিস ইউনিটের কাজ শেষ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত দিয়ে উদ্বোধন করিয়ে শীঘ্রই ওই ইউনিট চালু করতে চাইছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।  ...

শ্রীনগর, ২২ সেপ্টেম্বর (পিটিআই): জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করার পর কেটে গিয়েছে টানা ৪৯ দিন। এখনও থমথমে উপত্যকা। স্বাভাবিক হয়নি মানুষের জীবনযাত্রা। এই পরিস্থিতিতে অস্থায়ীভাবে সাপ্তাহিক বাজার বসল শ্রীনগরের রাস্তায়।  ...

নুর সুলতান (কাজাখস্তান), ২২ সেপ্টেম্বর: ফাইনালে উঠে টোকিও ওলিম্পিকসের টিকিট নিশ্চিত করেছিলেন শনিবার। সেই সাফল্যের রেশ ধরেই বিশ্ব কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপে দীপক পুনিয়াকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

সম্পত্তিজনিত মামলা-মোকদ্দমায় জটিলতা বৃদ্ধি। শরীর-স্বাস্থ্য দুর্বল হতে পারে। বিদ্যাশিক্ষায় বাধা-বিঘ্ন। হঠকারী সিদ্ধান্তের জন্য আফশোস বাড়তে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৪৭: বাংলার প্রথম র‌্যাংলার ও সমাজ সংস্কারক আনন্দমোহন বসুর জন্ম
১৯৩২: চট্টগ্রাম আন্দোলনের নেত্রী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মৃত্যু
১৯৩৫: অভিনেতা প্রেম চোপড়ার জন্ম
১৯৪৩: অভিনেত্রী তনুজার জন্ম
১৯৫৭: গায়ক কুমার শানুর জন্ম 

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.১৯ টাকা ৭২.৭০ টাকা
পাউন্ড ৮৬.৪৪ টাকা ৯১.১২ টাকা
ইউরো ৭৬.২৬ টাকা ৮০.৩৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
21st  September, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮, ৩৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬, ৩৭০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬, ৯১৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬, ১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬, ২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  September, 2019

দিন পঞ্জিকা

৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার, নবমী ৩২/৫১ রাত্রি ৬/৩৭। আর্দ্রা ১৫/১ দিবা ১১/২৯। সূ উ ৫/২৮/৫৭, অ ৫/২৯/৪১, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪ মধ্যে পুনঃ ৮/৪১ গতে ১১/৫ মধ্যে। রাত্রি ৭/৫২ গতে ১১/৫ মধ্যে পুনঃ ২/১৭ গতে ৩/৫ মধ্যে, বারবেলা ৬/৫৯ গতে ৮/২৯ মধ্যে পুনঃ ২/৩০ গতে ৪/০ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/০ গতে ১১/৩০ মধ্যে। 
৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার, নবমী ১৯/৪৮/৫৫ দিবা ১/২৪/১৪। আর্দ্রা ৫/৩৮/১৫ দিবা ৭/৪৪/৮, সূ উ ৫/২৮/৫০, অ ৫/৩১/৩০, অমৃতযোগ দিবা ৭/৭ মধ্যে ও ৮/৪১ গতে ১১/১ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪২ গতে ১০/৫৯ মধ্যে ও ২/১৭ গতে ৩/৬ মধ্যে, বারবেলা ২/৩০/৫০ গতে ৪/১/১০ মধ্যে, কালবেলা ৬/৫৯/১০ গতে ৮/১৯/৩০ মধ্যে, কালরাত্রি ১/০/৩০ গতে ১১/৩০/১০ মধ্যে। 
২৩ মহরম

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
নদীয়ার কলেজে বোমাবাজি, জখম ২
নদীয়ার মাজদিয়া কলেজে বোমাবাজির ঘটনা ঘটল। টিএমসিপি-এবিভিপি একে অন্যের বিরুদ্ধে ...বিশদ

06:28:00 PM

গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা চন্দননগরে
এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল হুগলী-চুঁচুড়া পৌরসভার ...বিশদ

06:23:18 PM

ষষ্ঠ বেতন কমিশন অনুযায়ী কেমন হচ্ছে কর্মচারীদের বেতন
ক্যাবিনেটেও অনুমোদিত হয়ে গেল ষষ্ঠ বেতন কমিশন । নতুন এই ...বিশদ

05:49:00 PM

ফায়ার লাইসেন্স ফি কমাল রাজ্য
ফায়ার লাইসেন্স ফি ৯২ শতাংশ কমিয়ে দিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। ...বিশদ

04:54:52 PM

কাটোয়ায় বাজ পড়ে মৃত ১ 
আজ সোমবার দুপুরে কাটোয়ায় বাজ পড়ে মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। ...বিশদ

04:54:00 PM

রাজীব কুমারের কোয়ার্টারে ফের সিবিআই 
ফের নোটিস দিতে রাজীব কুমারের কোয়ার্টারে হানা দিল সিবিআই।   ...বিশদ

04:48:06 PM