Bartaman Patrika
হ য ব র ল
 

কাগাড়ু
স্বস্তিনাথ শাস্ত্রী

আমাদের অভয়চরণ কুচবালা বিদ্যানিকেতন (উঃ মাঃ) দিবা বিভাগ-এর খ্যাতি গোটা জেলায়। সে খ্যাতি অবশ্য পড়াশুনোর জন্য নয়। খেলাধুলোর জন্যেও নয়। আমাদের খ্যাতি দুষ্টুমির জন্য। এই স্কুলের প্রতিটি ক্লাসে ‘এক সে বড়কর এক’ দুষ্টু ছেলে আছে। আর তারা এমন এমন সব কাণ্ড করে বেড়ায় যে গোটা জেলা আমাদের স্কুলের নাম জেনে গিয়েছে। তেমনই একজন দুষ্টু ছেলে হল ক্লাস সেভেনের নিত্যানন্দ কুণ্ডু। সবাই অবশ্য ওকে নিত্য বলে ডাকে, নিত্য কুণ্ডু। নিত্যর মাথায় সারাক্ষণ অদ্ভুত অদ্ভুত সব ভাবনা গিজগিজ করে। সামান্য তোতলা ও। রেগে গেলে বা উত্তেজিত হয়ে পড়লে তুতলে যায়। নিত্যর সামনের বেঞ্চের বৈদ্যনাথ ওকে নিয়ে একটা ছড়া লিখেছিল। কবি হিসেবে ইস্কুলে বৈদ্যনাথের খ্যাতি আছে। একবার বৈদ্যনাথের মামা বিদেশ থেকে বেশ বড়সড় একটা চকোলেট এনে দিয়েছিল ওকে। বৈদ্যনাথ সেটা ইস্কুলে এনে সবাইকে দেখিয়ে এক কামড় খেয়ে আবার মুড়ে রেখে দিয়েছিল ব্যাগে। তারপর বাথরুমে গিয়েছিল। ফিরে এসে আর বাকি চকোলেটটা খুঁজে পায়নি। তার সন্দেহ গিয়ে পড়েছিল নিত্যর ওপর। রাগে বৈদ্যনাথ লিখে ফেলেছিল—
কুণ্ডুবাড়ির মুণ্ডু পুজো/পাতে পড়েছে দই
সব কুণ্ডু খেতে বসেছে/নিত্য কুণ্ডু কই?
ছড়া হিট। মুহূর্তে সে ছড়া ছড়িয়ে পড়েছিল সবার মুখে মুখে। ছাত্ররা তো বটেই, শেষ পর্যন্ত আমাদের পি টি টিচারও যখন সে ছড়া শুনিয়ে গেল ক্লাসে তখন নিত্য আর নিজেকে বশে রাখতে পারেনি। চরম তুতলে বৈদ্যনাথের উদ্দেশে বলেছিল, তো.. তো.. তোকে আ.. আ.. আমি দেখে নেব। দেখে সে নিয়েছিল। সবার অগোচরে এক টিউব ফেভি কুইক
নিয়ে উজাড় করে দিয়েছিল বৈদ্যনাথের কোঁকড়া চুল ভর্তি মাথাতে। পরদিন বেচারা বৈদ্যনাথকে নেড়া হয়ে স্কুলে ঢুকতে হয়েছিল।
এহেন নিত্যকে সবাই একটু সমঝেই চলত। কে জানে বাবা কখন কী করে বসে! তা সেদিন ছিল ক্যুইন্টাল স্যারের ক্লাস। ক্যুইন্টাল
স্যার আমাদের অঙ্ক আর ফিজিক্যাল সায়েন্স ক্লাস নিতেন। আসলে ওনার নাম কুন্তল। আমাদের হেডস্যারের বাঙাল উচ্চারণে সেটা হয়ে যেত কুইন্তল। আর কুইন্তল থেকে ক্যুইন্টাল হতে কতক্ষণ! বর্ণ বিপর্যয়ের অসাধারণ উদাহরণ। যাই হোক সেদিন ক্যুইন্টাল স্যার এসে কে সি নাগের
বই থেকে একটা খটমট ত্রৈরাশিকের অঙ্ক কষতে দিলেন সবাইকে। নিত্য বেশ খানিকক্ষণ পাশের ছেলের সঙ্গে কাটাকুটি খেলার পর উঠে দাঁড়িয়ে বলল, স্যার একটু বাথরুমে যাব? ক্যুইন্টাল স্যার কড়া চোখে তাকিয়ে বললেন, দু’ মিনিটের বেশি যেন সময় না লাগে, যা। খুশি মনে মাথা নাড়তে নাড়তে বেরিয়ে গেল নিত্য। কিন্তু দু’ মিনিট তো নয়ই, কুড়ি মিনিট বাদেও নিত্যর ফেরার নাম নেই! ক্যুইন্টাল স্যারের সেটা নজরে এল খাতা জমা নেওয়ার সময়। রেগে চিৎকার করে উঠলেন, অ্যাই নিত্যটাকে কান ধরে বাথরুম থেকে নিয়ে আয় কেউ! বৈদ্যনাথ আগ্রহ ভরে বলে উঠল, আমি যাব স্যার? স্যারের অনুমতি নিয়ে বৈদ্যনাথ বেরতে যাচ্ছিল, এমন সময়ে নিত্যর প্রবেশ। কিন্তু এ কী! নিত্যর হাতে ধরা এটা কী? আমরা অবাক বিস্ময়ে চেয়ে দেখলাম একটা আস্ত কাক ধরে নিয়ে ক্লাসে ঢুকছে নিত্য। কাকটা তার হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার আশায় ডানা ঝাপটাচ্ছে আর কা কা রবে ক্লাস মাথায় করে তুলছে। কাক হাতে নিত্যকে ক্লাসে ঢুকতে দেখে ক্যুইন্টাল স্যারের মুখটা প্রথমে কেমন যেন ভেবলে গেল। তারপর কেমন যেন ভয় পেয়ে গেলেন। বোধহয় ভাবলেন কাকটা যদি উড়ে এসে ঠুকরে দেয়! নিত্য অবশ্য অকুতোভয়। সে কাক হাতে করে বীরদর্পে হাসতে হাসতে স্যারের টেবিলের কাছে এগিয়ে গেল। ভাবখানা এমন যে, সে বিশ্বজয় করে ফেলেছে এবং ক্যুইন্টাল স্যার তাকে বিজয়মাল্য দিয়ে ভূষিত করবেন!
কিন্তু নিত্যকে বিজয়মাল্যে ভূষিত করার বদলে স্যার চেয়ার থেকে উঠে তাড়াতাড়ি সরে যেতে গিয়ে চেয়ারের পায়ায় ঠোক্কর খেয়ে প্রায় পড়ে যাচ্ছিলেন। কোনওমতে টেবিলের কোনাটা ধরে সামলে নিলেন। তারপর প্রচণ্ড জোরে চিৎকার করে বললেন, গেট আউট! আই সে গেট আউট!! স্যারের চিৎকারে আমরা সবাই বেশ ভয় পেয়ে গেলাম। কিন্তু নিত্যর মধ্যে কোনও ভাবান্তর নেই। সে দাঁত বের করে স্যারের সামনে দাঁড়িয়ে রইল। স্যার আবারও চিৎকার করে বললেন, হতভাগা তুই অঙ্ক না কষে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে কাক ধরছিস! কাক একটা ধরার মতো জানোয়ার হল? নিত্য বলল, কাক তো স্যার জানোয়ার নয়, কাক তো পক্ষী!
—পক্ষী! দাঁড়া তোকে মজা দেখাচ্ছি লক্ষ্মীছাড়া। বলে হাতটা লম্বা করে স্যার নিত্যর কানটা ধরে হ্যাঁচকা টান মারলেন। নিত্য টাল সামলাতে না পেরে একটু কাত হয়ে গেল আর হাতটা ঢিলে হয়ে যাওয়ায় কাকটা ডানা ঝটপটিয়ে জানালা দিয়ে উড়ে চলে গেল। তবে যাওয়ার আগে বোধহয় ভয়ে বা রাগে স্যারের টেবিলের ওপর হাগু করে দিয়ে গেল। নিত্যর মুখটা কেমন যেন পাংশু হয়ে গেল। অবশ্য সেটা কানের ব্যথায় নয়, কাকটা উড়ে যাওয়ার দুঃখে। সে বলেই ফেলল, স্যার এত কষ্ট করে কাকটা ধরলাম, আর আপনি উড়িয়ে দিলেন! স্যার তেড়ে উঠে বললেন, ব্যাটা গর্দভ! লোকে টিয়া ধরে, ময়না ধরে, কোথাও শুনেছিস যে কেউ কাক ধরেছে? আজ থেকে তোর নাম আমি দিলাম কাগাড়ু। আর তোর শাস্তি হল, এই টেবিলটা প্রথমে পরিষ্কার করবি তারপর প্রশ্নমালার সবকটা অঙ্ক করে তবে কাল স্কুলে ঢুকবি।
নিত্যর একটা কান তখনও স্যারের হাতে। সেইভাবেই ঘাড় বেঁকিয়ে নিত্য বলে উঠল, স্যার নামটা কাগাড়ুর বদলে বাঘাড়ু রাখলে ভালো হতো না?
—বাঘাড়ু! কেন তুই কি বাঘ ধরেছিস নাকি?
— স্যার আসলে কাগাড়ু নামটা শুনতে ভালো নয়। আর তাছাড়া ভালো করে ভেবে দেখুন, বাঘ ধরার চাইতে কাক ধরাটা কোনও অংশেই সহজ কাজ নয়। বাঘাড়ু নামটার মধ্যে একটা বেশ ভারিক্কি ব্যাপারও আছে, যেটা কাগাড়ুতে নেই।
ক্লাসের অন্যরা বেশ হাসি হাসি মুখ করে এই কথোপকথন শুনছিল। এমন সময় ক্লাস শেষের ঘণ্টা পড়ে যাওয়াতে স্যার রণে ভঙ্গ দিয়ে বেরিয়ে গেলেন।

তখনকার মতো এই ঘটনায় ইতি পড়লেও স্কুলময় বিষয়টা ছড়িয়ে পড়ল। বিশেষ করে স্যারের দেওয়া নিত্যর ‘কাগাড়ু’ নামটা। সবাই নিত্যকে কাগাড়ু বলেই ডাকতে শুরু করে দিল। এমনকী স্কুলের বাইরে যে বিহারীটা আচার আর কুল বিক্রি করে সেও নিত্যর নতুন নাম জেনে গেল। পরদিন টিফিনের সময় নিত্য কুলের আচার কিনতে গেলে বিহারীটা তাকে দেখে মশকরা করে বলে উঠল, আও আও কাগাড়ু বাবু!
এই অপমানটা নিত্য ঠিক হজম করতে পারল না। পাশেই আমি ছিলাম। আমাকে বলল, ক্যুইন্টাল স্যারের কাণ্ডজ্ঞানটা দেখলি! দেশময় লোকের কাছে আমাকে কীভাবে হেয় করল!
তবে অনেকের কাছে নিত্য আবার হিরো হয়েও উঠল। সত্যিই তো কাক ধরাটা তো আর চাট্টিখানি কথা নয়! নিচু ক্লাসের ছেলেরা এসে যখন নিত্যকে জিজ্ঞেস করে, নিত্যদা কাকটা কীভাবে ধরলে? তখন নিত্যর বুকের ছাতি বেড়ে যায় আর সে সাতকাহন করে বলতে থাকে তার কাক ধরার গল্প। এতে তার ‘কাগাড়ু’ নামের ক্ষতে খানিকটা মলমও পড়ে।
তবে এরপর থেকে কাক ধরাটা নিত্যর বাতিকের পর্যায়ে পৌঁছে গেল। যেখানেই সে কাক বসে থাকতে দেখে স্থান, কালের পরোয়া না করে সেখানেই চেষ্টা করে কাকটাকে ধরার। সবসময় পারে না, আবার কখনও কখনও পেরেও যায়। এই করতে
গিয়ে একাধিকবার সে মাথায়
কাকের ঠোক্করও খেয়েছে। কিন্তু
নিত্য ‘লা পরোয়া’। ধীরে ধীরে
কাকের আচার ব্যবহার সম্পর্কে
নিত্য একজন অথরিটি হয়ে উঠল। টিফিনের সময়ে সে আমাদের একেকটা কাক দেখিয়ে বলত,
দেখ এই কাকটা কিন্তু এখন বসে ঝিমোচ্ছে, এখন এটাকে ধরা খুব সহজ। আবার কখনও বলত, এখন কাকটা খাবার খুঁজছে, এসময়ে
ধরতে যাওয়াটা বোকামো। আবার কোনও কাককে দেখিয়ে বলত, এই কাকটা এ অঞ্চলের কাকেদের সর্দার। একেক সময়ে মনে হতো প্রতিটা কাককে যেন ও আলাদা আলাদা
ভাবে চেনে। তখন যদি নিত্যকে ‘আমার জীবনের লক্ষ্য’ রচনা লিখতে বলা হতো তাহলে নির্ঘাত ও লিখত,
‘আমি একজন দক্ষ কাক শিকারি
হতে চাই’।
তিন
এই গল্পের যবনিকা পড়ল টিচার্স ডে-র দিন। সেদিন ছাত্রদের তরফে স্কুলে স্যারদের জন্য খাওয়াদাওয়ার এলাহি আয়োজন করা হয়েছিল। এলাহি মানে অবশ্য চিকেন বিরিয়ানি। নিত্যর বাবার ফাস্ট ফুডের দোকান।
সেখান থেকেই হেভি ডিসকাউন্টে স্যারেদের জন্য আমরা বিরিয়ানি আনিয়েছিলাম। বিরিয়ানি খেয়ে টিচার্স রুমের বেসিনে সাবান দিয়ে কচলে কচলে হাত ধুচ্ছিলেন ক্যুইন্টাল স্যার। বিরিয়ানিতে দেওয়া সস্তার ডালডা হাত চটচটে করে দিয়েছিল কিনা! যাই হোক হাত ধোয়ার সময়ে বেসিনের সামনের খোলা জানলায় ডান হাতের মধ্যমার দামি পাথর বসানো সোনার আঙটিটা খুলে রেখেছিলেন তিনি। হাত ধুয়ে সেটা আবার পরে নেবেন এমনটাই ইচ্ছে ছিল স্যারের। কিন্তু কপাল মন্দ হলে যা হয়! একটা কাক এসে হঠাৎ আঙটিটা মুখে করে নিয়ে উড়ে চলে গেল। স্যার বোকার মতো জানলা দিয়ে ফ্যালফ্যাল করে দেখলেন সামনের মাঠের কোনায় দারোয়ানদের থাকার ঘরের মাথায় টিনের চালটায় উড়ে গিয়ে বসল কাকটা। ক্যুইন্টাল স্যার মাথা চাপড়ে ডাক ছেড়ে কেঁদে উঠলেন, আমার দশ হাজার টাকা দামের আঙটিটা গেল! ওরে নিত্য, বাবা আমার, কাকটাকে ধর শিগগিরি। কাক ধরায় তোর বিশ্বজোড়া নামডাক! এবার সত্যিকারের প্রয়োজনে তুই এগিয়ে আয় বাবা, বীরের মতো ঝাঁপিয়ে পড় তোর স্যারকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে!
নিত্য মাঠে বসে একটা ডাঁসা পেয়ারা চিবোচ্ছিল। স্যারের হাহাকার শুনে জানলার সামনে এসে বলল, আপনি চিন্তা করবেন না স্যার ব্যাপারটা আমি দেখছি। তবে একটা প্রমিস করুন, আপনি আমার কাগাড়ু নামটা উইথড্র করে নেবেন! তখন স্যার পারলে নিত্যর পায়ে ধরেন, নাম উইথড্র তো সামান্য ব্যাপার। স্যার নব্বই ডিগ্রি মাথা কাত করে বললেন, কাগাড়ু নাম উইথড্র করে তোকে আমি বাঘাড়ু নাম দেব। তুই শুধু আমার আঙটিটা উদ্ধার করে দে বাবা!
নিত্য স্যারের কথা শুনে এক মুহূর্ত দেরি না করে ছুটল দারোয়ানদের ঘরের দিকে। ওদিকে কাকটা ততক্ষণে টিনের চাল থেকে স্কুল কমপাউন্ডের পাঁচিলের ওপর গিয়ে বসেছে। স্কুলের তাবৎ ছাত্র স্যারের আর্ত চিৎকার শুনে ছুটে এসেছিল টিচার্স রুমে। তারা এবার মাঠে গিয়ে ভিড় করেছে। নিত্য পা টিপে টিপে পাঁচিলের ওপর বসে থাকা কাকটার দিকে এগচ্ছে, আর সমবেত ছাত্রের দল চাপাস্বরে নিত্যকে উৎসাহিত করে যাচ্ছে। স্যাররাও এসে ভিড় করেছেন টিচার্স রুমের জানলায়। এমনকী বাইরের সেই বিহারী আচারওয়ালাটাও কীভাবে যেন জানতে পেরে এসে জুটেছে খেলার মাঠে। সেও ‘জিও কাগাড়ু বাবু’, ‘সামনে বাড়ো’ এসব বলে টলে নিত্যকে উৎসাহ দিতে শুরু করে দিয়েছে। নিত্য পা টিপে টিপে এগচ্ছে আর তার প্রতিটি পদক্ষেপের তালে তালে আমাদের নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস পড়ছে। ঠিক যেন ওয়ান ডে ম্যাচের লাস্ট বল। ব্যাট হাতে বিরাট কোহলি। জিততে গেলে ইন্ডিয়াকে শেষ বলে ছ’ রান করতেই হবে। বোলার’স এন্ড থেকে রান আপ নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার প্যাট কামিন্স। ঠিক সেই রকম সিচুয়েশন।
পা টিপে টিপে কাকটার নীচে এসে একটু থমকাল নিত্য। তারপর গোলকিপারের ক্ষিপ্রতায় লাফিয়ে উঠে নিখুঁত নিশানায় কাকটার লেজ পাকড়ে ধরল। কাকটার মুখে তখনও চকচক করছিল স্যারের সোনার আঙটি। কিন্তু সম্ভবত লেজে টান পড়াতে কাকটা যেই ঠোঁটটা ফাঁক করল অমনি আঙটিটা টপ করে তার গলায় ঢুকে গেল। আবার হাহাকার করে উঠলেন ক্যুইন্টাল স্যার। ছাত্ররা অবশ্য ততক্ষণে নিত্যকে বিজয়ী বীরের মতো কাঁধে তুলে নিয়েছে। যেন বিরাট কোহলি শেষ বলে ছয় মেরে ইন্ডিয়াকে জিতিয়ে দিয়েছে। নিত্যর হাতের মুঠোয় ট্রফির মতো ধরা রয়েছে কাকটা। ছাত্রদের কাঁধে চেপেই টিচার্স রুমে প্রবেশ করল নিত্য। হাতে কাক। কিন্তু কুইন্ট্যাল স্যার কাঁদোকাঁদো। তিনি ককিয়ে উঠে বললেন, হ্যাঁরে আঙটিটা তো গিলে ফেলল, এবার কী হবে?
বায়োলজি স্যার শশধরবাবু বললেন, আপনার কোনও চিন্তা নেই। আমি ল্যাবরেটারিতে নিয়ে গিয়ে ওটাকে কেটে আঙটি বের করে দেব। বলেই হাঁক দিলেন, অ্যাই কেউ একটা ডিসেকশন বক্স নিয়ে আয় তো!
নিত্য দেখল তার ক্রেডিট অর্ধেক হয়ে যেতে বসেছে। সে তাড়াতাড়ি বলে উঠল, দরকার নেই স্যার, আমি কাক কাটতে পারি। আমি একাই এটা কেটে ফেলব।
শুনে হেডস্যার বললেন, তুই কাক ধইরতে পারস শুনছিলাম, আজ স্বচক্ষে দেখলাম। কিন্তু তুই কাক কাটতেও পারস তা তো কুনওদিন শুনি নাই! হেডস্যারের কথা শুনে ঘরে সাময়িক নৈঃশব্দ নেমে এল!
এরপর সবাইকে অবাক করে দিয়ে নিত্য বলল, স্যার আমাদের দোকানে মুরগি কম পড়লে তো কাক দিয়েই কাজ চালানো হয়, তাই!
শুনেই হেডস্যার মুখে হাত চাপা দিয়ে ছুটলেন বেসিনের দিকে। আর তার পিছন পিছন আরও কয়েকজন স্যার!
অলংকরণ : সুব্রত মাজী
18th  August, 2019
বিদ্যাসাগরের জন্মের দ্বিশতবর্ষ 

এই মহান মানুষটি তাদের বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা। সেই বিদ্যাসাগরের জন্মের দুশো বছর উপলক্ষে তাঁকে নিয়ে লিখল মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন (মেন)-এর ছাত্ররা। 
বিশদ

22nd  September, 2019
বিদ্যাসাগরের ছেলেবেলা 

আমাদের এই দেশকে গড়ে তোলার জন্য অনেকে অনেকভাবে স্বার্থত্যাগ করে এগিয়ে এসেছিলেন। এই কলমে জানতে পারবে সেরকমই মহান মানুষদের ছেলেবেলার কথা। এবার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। লিখেছেন চকিতা চট্টোপাধ্যায়। 
বিশদ

22nd  September, 2019
শ্যুটিং ফ্লোর ছেড়ে পুজোর প্যান্ডেলে 

অ্যাকশন, কাট শব্দগুলো এখন শুনতে একঘেয়ে লাগছে ছোট্ট অভিনেতা-অভিনেত্রীদের। মন তাদের উড়ুউড়ু। আকাশ নীল, কাশের বনে দোলা লেগেছে। সব্বার প্ল্যানিং সারা। কে কী করবে জানাল হ য ব র ল’র বন্ধুদের। 
বিশদ

15th  September, 2019
শিউলি কুঁড়ির সকাল 
কার্তিক ঘোষ

দাপুটে কানা নদীর গা ঘেঁষে তখন বোসেদের একটাই বাড়ি। তবু সবাই বলত বোসপাড়া!
আসলে, যত রাজ্যের পড়াশোনা করা ছেলে-মেয়েরা তখন সব ওই বাড়িতেই বেশি।
কেউ কলকাতায় নামী বিজ্ঞানী, তো, কেউ ডাক্তার!
পাশের বাড়িটা বড্ড গরিব! 
বিশদ

15th  September, 2019
 ড.‌ মারিয়া মন্টেসরির জন্মদিনে জে আই এস গোষ্ঠীর অনুষ্ঠান

ড.‌ মারিয়া মন্টেসরির ১৪৯তম জন্মদিনে জেআইএস গোষ্ঠীর প্রি-স্কুল ‘‌লিটল ব্রাইট স্টারস প্লে স্কুল’‌ পথ চলা শুরু করল। গত ৩১ আগস্ট সংস্থাটি এ নিয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। প্রিস্কুলের পঠনপাঠনের পরিবর্তন নিয়ে একটি আলোচনাচক্রের আয়োজন করা হয়।   বিশদ

08th  September, 2019
 পৃথিবীতে বন্দি ভিনগ্রহী?

খোদ আমেরিকার বুকেই নাকি রয়েছে ভিনগ্রহীরা বন্দি হয়ে! এমনই দাবি বেশ কিছু মানুষের। কোথায় বন্দি হয়ে থাকতে পারে তারা? কেনই বা বন্দি করে রাখা হতে পারে তাদের? হ য ব র ল’র পাতায় রইল সেই নিয়ে খোঁজখবর।
বিশদ

08th  September, 2019
 লাইব্রেরি অব কংগ্রেসে কয়েক ঘণ্টা...

আমেরিকা থেকে ফিরে তোমাদের জন্য লিখেছেন মৃণালকান্তি দাস।
বিশদ

08th  September, 2019
ঘুঘুরাম
বাণীব্রত চক্রবর্তী

লোকটার চোখের দিকে তাকিয়ে কিট্টু ভয় পেয়ে গেল। নৌকোটা নদীর ঘাটের কাছে। ওখানে এক কোমর জল। তবে নৌকো ও ঘাটের মধ্যে পাটাতন পাতা আছে। সে সহজেই নৌকোয় উঠে যেতে পারে। নৌকোটা পাড়ের বটগাছের গুঁড়ির সঙ্গে দড়ি দিয়ে শক্ত করে বাঁধা। তবু নৌকো দুলছে। লোকটাও।
বিশদ

08th  September, 2019
গভর্নমেন্ট স্পনসর্ড মাল্টিপারপাস স্কুলের অনুষ্ঠান 

সাড়ম্বরে ৭৩ তম স্বাধীনতা দিবস পালন করল গভর্নমেন্ট স্পনসর্ড মাল্টিপারপাস স্কুল (বয়েজ), টাকী হাউজ। এদিন সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধান শিক্ষিকা স্বাগতা বসাক। 
বিশদ

01st  September, 2019
পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়া প্রাণী 

দাউ দাউ করে জ্বলছে পৃথিবীর ফুসফুস। ভয়ঙ্কর দাবানলের গ্রাসে পড়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে আমাজন জঙ্গলের অনেকটা অংশ। গাছপালার পাশাপাশি আগুনে পুড়ে প্রাণ হারিয়েছে অসংখ্য জীবজন্তু। হয়তো তাদের মধ্যে কোনও কোনও প্রজাতি চিরদিনের জন্য মুছে গেল পৃথিবীর মানচিত্র থেকে।  
বিশদ

01st  September, 2019
রসগোল্লার ভূতভোজন 
দেবল দেববর্মা

এই গল্পটা শুনেছিলাম আমার বাবার মুখে, তা সে বহুকাল আগের কথা। তখন এত বাস-ট্রাক বা ছোটখাট লরি যাকে কলকাতার লোকে এখন ছোটহাতি বলে, সে-সবের এমন রমরমা ছিল না। আর গ্রামাঞ্চলের কথা আলাদা। 
বিশদ

01st  September, 2019
স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন  

৭৩তম স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন করল দিল্লি পাবলিক স্কুল (জোকা)। এদিন বিদ্যালয় সেজে উঠেছিল শিক্ষার্থীদের আঁকা টি-শার্ট, নিজের তৈরি পতাকা প্রভৃতি দিয়ে। স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে প্রতিটি অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল নজর কাড়ার মতো।  
বিশদ

25th  August, 2019
ন’বছরের জ্যাকের চাকরির আবেদনে অবাক নাসা 

আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন পরিচালনা, কক্ষপথে স্যাটেলাইট প্রেরণ, মহাকাশ থেকে আবহাওয়ার নজরদারি, সৌরজগতের বিভিন্ন গ্রহের তথ্য উদ্‌ঘাটনে বিভিন্ন মহাকাশ মিশন পরিচালনা, চাঁদ, মঙ্গল বা ইউরোপায় বসবাসের সম্ভাবনা সম্পর্কে গবেষণা প্রভৃতি নানা ধরনের কাজ করে নাসা। 
বিশদ

25th  August, 2019
রেনি ডে 

রেনি ডে মানেই একরাশ মজা। পড়ে পাওয়া একদিনের ছুটি, রাস্তার জমা জলে ইচ্ছেমতো হুটোপুটি আর বাড়িতে গরম গরম খিচুড়ি খেয়ে দুপুরবেলা গল্পের বই নিয়ে সোজা বিছানায়। সেই রেনি ডে নিয়ে এবার কলম আর রং-তুলি ধরেছে হিন্দু স্কুলের ছোটরা।  
বিশদ

25th  August, 2019
একনজরে
হিউস্টন, ২২ সেপ্টেম্বর: অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির পাশাপাশি রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভায় ভাষণ দেওয়ার নির্ঘণ্টও রয়েছে। কিন্তু মার্কিন সফর চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী মোদির পাতে থাকছে কী কী পদ? খাবার-দাবার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজে বিশেষ কোনও অনুরোধ করেননি। তাঁর খাবার তৈরির দায়িত্বে থাকছেন শেফ কিরণ ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলি টাকা খরচ করেও তার শংসাপত্র জমা দিচ্ছে না। এ নিয়ে কারিগরি শিক্ষা ডিরেক্টরেটের তরফে বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কোনও কোনও প্রশিক্ষণকেন্দ্র চিঠি পেয়েও সাড়া দিচ্ছে না বলে অভিযোগ। এবার কড়া চিঠি দিল ভোকেশনাল এডুকেশন ও ...

অমিত চৌধুরী, হরিপাল, হরিপাল থানার নালিকুল বড়গাছিয়া সিংহরায় বাড়ির পুজো এই বছর ২৮৭ বছরে পদার্পণ করল। একচালা চার হাতের অভয়া দুর্গা প্রতিমা, সবুজ রঙের মহিষাসুর ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস। এবার তার থিম পর্যটন এবং চাকরি। সেই ভাবনাকে সামনে রেখেই পর্যটন শিল্পে চাকরির পরিসর বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কলকাতায় আজ, সোমবার থেকে চাকরির মেলা শুরু করছে পর্যটন মন্ত্রক। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

সম্পত্তিজনিত মামলা-মোকদ্দমায় জটিলতা বৃদ্ধি। শরীর-স্বাস্থ্য দুর্বল হতে পারে। বিদ্যাশিক্ষায় বাধা-বিঘ্ন। হঠকারী সিদ্ধান্তের জন্য আফশোস বাড়তে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৪৭: বাংলার প্রথম র‌্যাংলার ও সমাজ সংস্কারক আনন্দমোহন বসুর জন্ম
১৯৩২: চট্টগ্রাম আন্দোলনের নেত্রী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মৃত্যু
১৯৩৫: অভিনেতা প্রেম চোপড়ার জন্ম
১৯৪৩: অভিনেত্রী তনুজার জন্ম
১৯৫৭: গায়ক কুমার শানুর জন্ম 

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.১৯ টাকা ৭২.৭০ টাকা
পাউন্ড ৮৬.৪৪ টাকা ৯১.১২ টাকা
ইউরো ৭৬.২৬ টাকা ৮০.৩৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
21st  September, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮, ৩৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬, ৩৭০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬, ৯১৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬, ১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬, ২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  September, 2019

দিন পঞ্জিকা

৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার, নবমী ৩২/৫১ রাত্রি ৬/৩৭। আর্দ্রা ১৫/১ দিবা ১১/২৯। সূ উ ৫/২৮/৫৭, অ ৫/২৯/৪১, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪ মধ্যে পুনঃ ৮/৪১ গতে ১১/৫ মধ্যে। রাত্রি ৭/৫২ গতে ১১/৫ মধ্যে পুনঃ ২/১৭ গতে ৩/৫ মধ্যে, বারবেলা ৬/৫৯ গতে ৮/২৯ মধ্যে পুনঃ ২/৩০ গতে ৪/০ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/০ গতে ১১/৩০ মধ্যে। 
৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার, নবমী ১৯/৪৮/৫৫ দিবা ১/২৪/১৪। আর্দ্রা ৫/৩৮/১৫ দিবা ৭/৪৪/৮, সূ উ ৫/২৮/৫০, অ ৫/৩১/৩০, অমৃতযোগ দিবা ৭/৭ মধ্যে ও ৮/৪১ গতে ১১/১ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪২ গতে ১০/৫৯ মধ্যে ও ২/১৭ গতে ৩/৬ মধ্যে, বারবেলা ২/৩০/৫০ গতে ৪/১/১০ মধ্যে, কালবেলা ৬/৫৯/১০ গতে ৮/১৯/৩০ মধ্যে, কালরাত্রি ১/০/৩০ গতে ১১/৩০/১০ মধ্যে। 
২৩ মহরম

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
নদীয়ার কলেজে বোমাবাজি, জখম ২
নদীয়ার মাজদিয়া কলেজে বোমাবাজির ঘটনা ঘটল। টিএমসিপি-এবিভিপি একে অন্যের বিরুদ্ধে ...বিশদ

06:28:00 PM

গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা চন্দননগরে
এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল হুগলী-চুঁচুড়া পৌরসভার ...বিশদ

06:23:18 PM

ষষ্ঠ বেতন কমিশন অনুযায়ী কেমন হচ্ছে কর্মচারীদের বেতন
ক্যাবিনেটেও অনুমোদিত হয়ে গেল ষষ্ঠ বেতন কমিশন । নতুন এই ...বিশদ

05:49:00 PM

ফায়ার লাইসেন্স ফি কমাল রাজ্য
ফায়ার লাইসেন্স ফি ৯২ শতাংশ কমিয়ে দিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। ...বিশদ

04:54:52 PM

কাটোয়ায় বাজ পড়ে মৃত ১ 
আজ সোমবার দুপুরে কাটোয়ায় বাজ পড়ে মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। ...বিশদ

04:54:00 PM

রাজীব কুমারের কোয়ার্টারে ফের সিবিআই 
ফের নোটিস দিতে রাজীব কুমারের কোয়ার্টারে হানা দিল সিবিআই।   ...বিশদ

04:48:06 PM