Bartaman Logo
৩ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার মূল অভিযুক্ত

বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার। পুলিশ সূত্রে খবর, সকাল পর্যন্ত মোট ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পাশাপাশি আরও ৩ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল।

বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার মূল অভিযুক্ত
  • ৬ জুলাই, ২০২৬ ১০:০৩
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বারুইপুর: বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার মূল অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার। পুলিশ সূত্রে খবর, সকাল  পর্যন্ত মোট ২ জনকে গ্রেপ্তার  করা হয়েছিল। পাশাপাশি আরও ৩ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। পরে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ বারুইপুরের পুরাতন বাজার এলাকা থেকে আনন্দ সর্দারকে গ্রেপ্তার করে। সূত্রের খবর পুলিশের নজর এড়াতে সেখানেই গা ঢাকা দিয়েছিল আনন্দ। এখন মোট ৩ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃত তিনজনের নাম প্রভাস মণ্ডল, আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দার। প্রভাস মণ্ডল ও দিবাকর সর্দারকে গতকাল গ্রেপ্তার করা হয়েছিল । তাদের জেরা করে আনন্দ সর্দারের হদিশ পায় পুলিশ।

Advertisement

ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ওই নাবালিকাকে যৌন নিপীড়ন, মাথায় আঘাত ও অচৈতন্য অবস্থায় পুকুরে ফেলে দেওয়ার মতো অভিযোগ উঠে এসেছে। আবার এদিকে বারইপুর থানার ভূমিকায় অসন্তুষ্ট রাজ্য পুলিশের শীর্ষকর্তারা। থানায় আইসি সহ অন্যান্য পুলিশ কর্মীদের কী ভূমিকা ছিল এবং খবর পাওয়ার পর কী কী করেছিলেন তার বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে। প্রাথমিকভাবে গাফিলতি প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। রিপোর্টে কারো বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ এলে  সংশ্লিষ্ট অফিসারকে  কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলে রাজ্য পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

আজ বারুইপুর নির্যাতিতার পরিবারের সাথে দেখা যান সুজন চক্রবর্তী, শমিক লাহিড়ী সহ সহসিপিএমের একটি প্রতিনিধি দল। এলাকায় এদিন সকালেও যথেষ্ট উত্তেজনা ছিল। প্রচুর পরিমাণে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এখনো ক্ষোভে ফুসছেন এলাকার মানুষজন।  আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ টহলও জোরদার করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও রকম উত্তেজনা বা বেআইনি জমায়েতের সৃষ্টি না হয়, সেই লক্ষ্যে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন । বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর এবং সোনারপুর থানা এলাকায় বিএনএসএসের ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। 

রবিবার সকালে একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয় ১২ বছরের এক কিশোরীর মৃত দেহ। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বারুইপুরের সূর্যপুর হাট এলাকা। দেহ রাস্তায় রেখে টায়ার জ্বালিয়ে শুরু হয় প্রবল বিক্ষোভ-অবরোধ। শিয়ালদহ-লক্ষ্মীকান্তপুর শাখায় ট্রেন চলাচলও ঘণ্টাখানেকের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায়। অবরোধ তুলতে গেলে আক্রান্ত হয় পুলিশও। ভাঙচুর করা হয় পুলিশ ক্যাম্প-গাড়ি।  গণপিটুনিতে মৃত্যু হয় সন্দেহভাজন এক অভিযুক্তেরও। পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকালে বান্ধবীর জন্য জন্মদিনের উপহার কিনতে বেরিয়েছিল ১২ বছরের ওই কিশোরী। আর বাড়ি ফেরেনি। সারারাত ধরে চলে খোঁজাখুজি কিন্তু কোথাও দেহ মেলেনি। পরের দিন সকালে স্থানীয় একটি পুকুর থেকে মেলে ওই কিশোরীর বস্তাবন্দী মৃতদেহ।  মৃতা কিশোরীর বাবা জানান, কে রাস্তা থেকে ভুল বুঝিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, এলাকার এক স্কুলের বাইরে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে মেয়েটিকে একটি অটোয় উঠতে দেখা গিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায় অটোটি ইন্দ্রজিৎ তাঁতি নামে গ্রামেরই এক যুবকের। কাল তাঁকে দেখতে পেয়ে তেড়ে যান স্থানীয়রা। চলে ব্যাপক মারধর। পরে আধমরা অবস্থায় তাকে পুলিশ উদ্ধার করে বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। 

পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শেষ পর্যন্ত নাবালিকার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এরপরই দুপুর প্রায় ২টো নাগাদ আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন। পাশাপাশি, আগামী মঙ্গলবার নাবালিকার বাবাকে ভবানীভবনে সাক্ষাতের জন্য ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিকে, নিহত ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলে সমবেদনা জানান রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ