নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০০ বছর আগে স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। তারপর পুরী থেকে নিমকাঠের জগন্নাথ‑বলরাম‑সুভদ্রার মূর্তি তৈরি করিয়ে বাগবাজারের বাড়ির মন্দিরে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন দীনবন্ধু পান্ডা। শুদ্ধ বসনে উপবাস করে মূর্তি পুরী থেকে আনা হয়। স্বপ্নে তিনি জগন্নাথদেবের যে মূর্তির দর্শন পেয়েছিলেন সে মতোই শিল্পীদের কাঠখোদাই করে তৈরি করিয়েছিলেন। কলকাতায় বসে তিন মূর্তির অঙ্গরাগ করানো হয়েছিল। পাঁচফুটের মূর্তির কোমরে বাঁধা নারায়ণ শীলা। মাথায় অলঙ্কার শোভিত মুকুট। যা আলো পড়লে ঝলমল করে। উত্তর কলকাতার বাগবাজারে গঙ্গা লাগোয়া রবীন্দ্র সরণি ও নিয়োগী ঘাট রোডের কাছেই আছে মন্দিরটি। সেখানে একাধিক দেবদেবীর পাশাপাশি স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত নিমকাঠের এই তিন মূর্তি। বহুবছর আগে মারা যান মন্দির প্রতিষ্ঠাতা দীনবন্ধু পান্ডা। এখন বংশপরম্পরায় মন্দিরের কাজকর্ম করেন পান্ডা পরিবার। দুই সেবায়েত বিশ্বনাথ ও প্রশান্ত পান্ডা জানান, মন্দিরের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল, রথের দিন মন্দিরের ভিতর প্রভূ জগন্নাথদেবের পুজো হয় না। মন্দিরের বাইরে মণ্ডপ তৈরি হয়। সেখানে আনা হয় বিগ্রহ। পুজো‑পাঠ সেখানেই হয়। উল্টোরথ পর্যন্ত বিগ্রহ সেখানে থাকে। রাতে পুজো, আরতি, ভোগ নিবেদনের পর শয়ন দিয়ে পর্দা টেনে দেওয়া হয়। উল্টোরথের বিগ্রহ মূল মন্দিরে আনা হয়। মন্দির সূত্রে জানা গিয়েছে, রথের দিন ঢাউস কড়াইয়ে তৈরি হয় খিচুড়ি। সঙ্গে থাকে আলুর দম, চাটনি, পায়েস। মন্দির দর্শনে আসা ভক্তদের মধ্যে তা বিতরণ হয়। বাকি দিন প্রসাদ হিসাবে থাকে মালপো, লুচি, সুজি, মিষ্টি, ফল প্রভৃতি। উল্টোরথ পর্যন্ত প্রতিদিন চলে ধর্মীয় অনুষ্ঠান। নিজস্ব চিত্র



