নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ায় চারদিনে জনকল্যাণ শিবিরে আড়াই লক্ষের বেশি মানুষ হাজির হয়েছিল। জেলাবাসীর মধ্যে আয়ুষ্মান ভারত নিয়ে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ লক্ষ্য করা গিয়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও মহিলাদের মধ্যে যথেষ্ট আগ্রহ ছিল। মোটের উপর ডবল ইঞ্জিন সরকারের তরফে নেওয়া মানুষের দুয়ারে প্রথম কর্মসূচি সফল বলেই জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা দাবি করেছেন।
বাঁকুড়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, চারদিনের শিবিরে মোট ২ লক্ষ ৫৯ হাজার মানুষ উপস্থিত হয়েছিল। আয়ুষ্মান ভারত, অন্নপূর্ণা যোজনা সহ অন্যান্য প্রকল্পের সুবিধা পেতে অনেকেই আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। যোগ্য উপভোক্তারা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরিষেবা পাবেন।
বাঁকুড়া শহরের পাটপুরের বাসিন্দা নমিতা মালাকার, গোবিন্দনগরের বিপ্লব সাহানা বলেন, আগের সরকারের আমলে দুয়ারে সরকারের মতো একছাতার তলায় সব দপ্তরের কর্মী-আধিকারিকরা এলাকার শিবিরে উপস্থিত ছিলেন। ফলে সরকারি অফিসে গিয়ে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার ঝক্কি এড়ানো গিয়েছে। তবে আগের মতো প্রতিটি ওয়ার্ডে আলাদা আলাদা শিবির করলে ভালো হত। এবার ৭-৮টি ওয়ার্ড নিয়ে একটি শিবির করার ফলে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে, ভিড়ে ঠেলাঠেলি করে নির্দিষ্ট টেবিলে পৌঁছতে হয়েছে। এরফলে মহিলা ও বয়স্কদের চরম সমস্যা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ায় এবার মোট ৪৪টি শিবির করা হয়েছিল। ওইসব শিবিরে ১৯টি দপ্তর পঞ্চাশের বেশি প্রকল্পের ডালা নিয়ে হাজির হয়েছিল। জেলায় আয়ুষ্মান ভারতের জন্য সবচেয়ে বেশি ৯৩ হাজার মানুষ আবেদন করেছে। অন্নপূর্ণা যোজনায় ২০ হাজার আবেদনপত্র জমা পড়েছে। সম পরিমাণ আবেদন জমা হয়েছে জিরামজি প্রকল্পেও। ওই প্রকল্পের আওতায় মূলত নতুন জবকার্ডের জন্য অনেকে আবেদন করেছেন। কেউ কেউ আবার কাজ পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট ফর্ম জমা দিয়েছেন। বার্ধক্য ভাতার জন্য প্রথমে আবেদনপত্র জমা না নেওয়া হলেও পরে তা শুরু হয়। শিবিরে মোট ১৬ হাজার মানুষ ওই ভাতার জন্য আবেদন করেছেন। বিধবা ভাতার জন্য এক হাজার মহিলা আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে অপ্রচলিত শক্তির ব্যবহারের প্রতিও বাঁকুড়াবাসীর উৎসাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর প্রকল্পে সুবিধা পাওয়ার জন্য আট হাজার জেলাবাসী আবেদন করেছেন। এছাড়াও ভূমি, কৃষি সহ অন্যান্য দপ্তরের আওতায় পরিষেবা পেতেও অনেকে আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। চারদিনে শিবিরে ১১ হাজার মানুষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছে।