Bartaman Logo
৩ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিজেপি-তৃণমূলের জোটে নয়া পুরবোর্ড? কামারহাটি নিয়ে রিপোর্ট তলব শমীকের

পালাবদলের পর রাজ্যের একের পর এক পুরসভার চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলাররা পদত্যাগ করছেন। এই আবহে কামারহাটি পুরসভা যেন এক ব্যতিক্রম!

বিজেপি-তৃণমূলের জোটে নয়া পুরবোর্ড? কামারহাটি নিয়ে রিপোর্ট তলব শমীকের
  • ৭ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পালাবদলের পর রাজ্যের একের পর এক পুরসভার চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলাররা পদত্যাগ করছেন। এই আবহে কামারহাটি পুরসভা যেন এক ব্যতিক্রম! বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের দাদা সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় এই পুরসভার চেয়ারম্যান হয়েছেন। তারপর থেকে বিজেপি-তৃণমূলের সেটিং তত্ত্ব আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। গেরুয়া শিবিরের অভ্যন্তরে বিতর্ক চরমে উঠেছে বিষয়টি নিয়ে। পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো যে সোমবার এনিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি জানিয়েছেন, কামারহাটি পুরসভায় নতুন বোর্ড গঠনের সঙ্গে বিজেপির কোনো সম্পর্ক নেই। কীভাবে বিজেপির নাম জড়িয়ে প্রচার ছড়িয়ে পড়ল, তা জানতে এদিনই বিকাল ৪টার মধ্যে রিপোর্ট চাওয়া হয়। সূত্রের খবর, জেলা থেকে ইতিমধ্যে সেই রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, বরানগরেও গেরুয়া শিবিরের অন্দরে চলছে ডামাডোল। এলাকার তৃণমূল কাউন্সিলার, নেতা-কর্মী ও তাঁদের আশ্রিত ‘গুন্ডা’-দের বিজেপিতে নেওয়া আটকাতে আদি বিজেপির নাম দিয়ে সর্বত্র পোস্টার ও ব্যানার লাগানো হয়েছে।

Advertisement

গত শুক্রবার কামারহাটির নয়া চেয়ারম্যান হন পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের নির্দল কাউন্সিলার সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়। চেয়ারম্যান নির্বাচনের কয়েকদিন আগে বিজেপি নেত্রী লকেট কামারহাটির আরেক নির্দল কাউন্সিলার তথা বাহুবলী বাবু মণ্ডল আয়োজিত জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রায় হাজির ছিলেন। তা নিয়ে চরম বিতর্ক হয়। বিজেপি সূত্রে খবর, কামারহাটির এই নয়া সমীকরণ নিয়ে গেরুয়া শিবির কার্যত দ্বিধাবিভক্ত। শহরতলির একের পর এক পুরসভায় এমন সমীকরণ তৈরি হলে সাধারণ মানুষের মধ্য দলের ভাবমূর্তি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে চিন্তিত দলেরই একাংশ। এই আবহে সোমবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকীর একাধিক অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে কামারহাটি নিয়ে কড়া বার্তা দেন শমীকবাবু। তিনি বলেন, ‘কামারহাটিতে কে চেয়ারম্যান হয়েছেন, সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। বিজেপির নাম ব্যবহার করে কীভাবে প্রচার হচ্ছে, তা জেলা নেতৃত্বকে চিঠি দিয়ে জানাতে বলেছি। রিপোর্ট দিতে হবে অমিতাভ চক্রবর্তীকে।’ সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে রবিবারই শমীকবাবু জেলা নেতৃত্বের কাছে খোঁজখবর নেন। এদিন সামগ্রিক রিপোর্ট পাঠিয়েছে দলের জেলা নেতৃত্ব। তাবে তাতে বিজেপির নীচুতলায় হইচই কমছে না। অনেকের প্রশ্ন, পুরবোর্ড তৈরিতে পিছন থেকে মদত দেওয়া রাজ্য নেতাদের বিরুদ্ধে আদৌ কোনো পদক্ষেপ করবে রাজ্য নেতৃত্ব? নাকি শুধু মণ্ডল সভাপতিদের সাসপেন্ড করেই ক্ষমতার আস্ফালন হবে? কামারহাটির চেয়ারম্যান সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘আগের চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন। আমি নির্দল কাউন্সিলার। নাগরিক পরিষেবা সুনিশ্চিত করতে সংখ্যাগরিষ্ঠ তৃণমূল কাউন্সিলারের সমর্থনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। তাই এই পুরবোর্ডকে বিজেপির বা বিজেপির সমর্থনে গঠিত বোর্ড বলার ভিত্তি নেই।’
অন্যদিকে, বিজেপির উত্তর শহরতলি জেলা কিষাণ মোর্চার সাধারণ সম্পাদক শান্তনু ভট্টাচার্যকে দলবিরোধী কাজের অভিযোগে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে নিমতার পাইকপাড়াসহ বিভিন্ন জায়গায় জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ