সংবাদদাতা, ঝালদা: ঝালদা পুরসভায় লাগামহীন দুর্নীতির অভিযোগে গণ ডেপুটেশন দিল ঝালদাবাসী। ২০২১ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত তৃণমূল পরিচালিত পুর বোর্ডের বিরুদ্ধে ওঠা একের পর এক গুরুতর অভিযোগে সরব হয়েছেন বাসিন্দারা। ঝালদা মহকুমা শাসকের কাছে এই দুর্নীতির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রসঙ্গত, রাজ্যে শাসন ক্ষমতার বদল হলেও ঝালদা পুরসভা এখনও তৃণমূলের দখলে।
এলাকার বাসিন্দা কৃষ্ণা কান্দুদের অভিযোগ, এতদিন রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় থাকায় ভয়ে কেউ মুখ খোলেননি। কিন্তু এখন পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে, তাই মানুষ আর চুপ করে থাকতে রাজি নন। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন পুরপ্রধান সুরেশ আগরওয়াল। বাসিন্দাদের দাবি, পুরসভায় টাকা ছাড়া কোনো কাজ হতো না। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সরকারি নিয়মাবলীকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাতের অন্ধকারে গোপনে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যানের মদতে একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে অনৈতিকভাবে কাজ পাইয়ে দেওয়া হতো। অন্য ঠিকাদারদের ভয় দেখানো বা বিল আটকে দেওয়ার মতো ঘটনাও ছিল নিত্যনৈমিত্তিক। মা ক্যান্টিন প্রকল্পে প্রকৃত উপভোক্তার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি বিল দেখিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করা হতো, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় উপভোক্তাদের থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন আদায় এবং অফলাইন মিউটেশনের আড়ালে সাধারণ মানুষের থেকে মোটা টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া, প্রভাব খাটিয়ে পুরনো পুকুর ভরাট করা, ভয় দেখিয়ে অসহায় মানুষের জমি দখলের অভিযোগও উঠেছে। বহু গরিব মানুষকে মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে নামমাত্র মূল্যে জমি রেজিস্ট্রি করতে বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি বাসিন্দাদের।
বিজেপির স্থানীয় নেতা বিজয়কুমার ভগত এই দুর্নীতির সঠিক তদন্তের দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের জামানায় যে চরম দুর্নীতির শিকার হতে হয়েছে মানুষকে, তার বিরুদ্ধে আমরা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। দোষীদের আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি দিতে হবে।’
অন্যদিকে, জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাতো এই দুর্নীতিতে সরকারি আধিকারিকদের যুক্ত থাকার বিষয়টিও সামনে এনেছেন। তিনি বলেন, ‘ঝালদা পুরসভা মানেই দুর্নীতি। শুধু জনপ্রতিনিধি নন, যেসব সরকারি আধিকারিক এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তাদেরও চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’ সব মিলিয়ে, পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ ঝালদা পুরসভা। চেয়ারম্যান সুরেশ আগরওয়ালকে ফোনে পাওয়া যায়নি। সরকারি অর্থ তছরুপ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে এখন এলাকাজুড়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মহকুমা শাসকের কাছে জমা দেওয়া এই গণ ডেপুটেশনের প্রেক্ষিতে প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে ঝালদাবাসী।