Bartaman Logo
৩১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

ই-কেওয়াইসি ছাড়া মিলবে না আয়ুষ্মান, গ্রাহকদের জন্য সুরাহা ডাকঘরে

‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে গ্রাহকের ই-কেওয়াইসি বাধ্যতামূলক। সেই কাজে গতি আনতে এবার ডাক বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করল স্বাস্থ্যদপ্তর।

ই-কেওয়াইসি ছাড়া মিলবে না আয়ুষ্মান, গ্রাহকদের জন্য সুরাহা ডাকঘরে
  • ২২ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে গ্রাহকের ই-কেওয়াইসি বাধ্যতামূলক। সেই কাজে গতি আনতে এবার ডাক বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করল স্বাস্থ্যদপ্তর। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে ১ কোটি ৪ লক্ষ উপভোক্তার ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ হয়েছে। রাজ্য সরকার ৬ কোটির বেশি মানুষকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার উদ্যোগ নিচ্ছে। এই বিপুল সংখ্যক উপভোক্তার ই-কেওয়াইসি যাতে দ্রুততার সঙ্গে শেষ করা যায়, তার জন্যই ডাক বিভাগের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের। 

Advertisement

‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পে প্রত্যেক উপভোক্তার নির্দিষ্ট একটি নম্বর থাকে। ই-কেওয়াইসি করার ক্ষেত্রে ওই নম্বরটি প্রয়োজন। আশা কর্মীরা মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে যে ফর্ম পূরণ করাচ্ছেন, তাতেই থাকছে ওই নম্বর। পশ্চিমবঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়নের রাজ্য সম্পাদিকা ইসমত আরা খাতুন বলেন, ‘কোন কোন ব্যক্তি আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা পাবেন, তাঁদের নামের তালিকা ও ফর্ম প্রশাসন থেকেই দেওয়া হয়েছে আমাদের। আমরা উপভোক্তার বাড়ি গিয়ে সেই ফর্ম পূরণ করিয়ে আনছি। কাজ অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। কিন্তু গোল বেধেছে অন্য জায়গায়। ই-কেওয়াইসি করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি আশা কর্মীদের দেওয়া হলেও তাঁদের প্রশিক্ষণ হয়েছে নামমাত্র। ফলে বহু কর্মী ই-কেওয়াইসি করাতে পারছেন না। তাছাড়া, যে পোর্টালের মাধ্যমে এই কাজ করা হয়, তাতেও বিস্তর সমস্যা থাকছে। নেটওয়ার্ক কাজ করছে না অনেক জায়গায়। ফলে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে বা অনেক ক্ষেত্রে ই-কেওয়াইসি করানো যাচ্ছে না।’ তাঁর আরও বক্তব্য, আশা কর্মীরা মা ও শিশুকে ভালো রাখার ব্যাপারে দক্ষ। এনিয়ে তাঁরা নিয়মিত ট্রেনিংও পান। কিন্তু এসব কাজে তাঁদের সমস্যা বিস্তর। তাঁরা এনিয়ে প্রশাসনকে বারবার জানানোর পাশাপাশি প্রতিবাদও করেছেন। এখন বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে ডাকঘরের সঙ্গে চুক্তি করায় তাঁদের দাবিই মান্যতা পেল বলে মনে করছেন তিনি। প্রসঙ্গত, ন্যাশনাল রুরাল লাইভলিহুড মিশন (এনআরএলএম)-এর আওতায় থাকা কর্মীরাও ই-কেওয়াসি করানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন। 
এক্ষেত্রে ডাকঘর কীভাবে সাহায্য করবে? ডাক বিভাগের পোস্টমাস্টার জেনারেল (মেল অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্ট) ঋজু গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘উপভোক্তারা তাঁদের আয়ুষ্মান ভারতের নির্দিষ্ট নম্বরটি আনবেন। সঙ্গে আনবেন মোবাইল ও আধার। আমাদের কর্মীরা ওটিপির মাধ্যমে ই-কেওয়াইসি যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। রাজ্যের সব পোস্ট অফিসেই এই সুযোগ মিলবে। এর জন্য কর্মীদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। পোস্টমাস্টারদের মোবাইলে নির্দিষ্ট সফ্টওয়্যার দেওয়া হবে। এই কাজগুলি শেষ হলেই আমরা পরিষেবা চালু করে দিতে পারব। ইতিমধ্যে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের সঙ্গে আমাদের মউ স্বাক্ষর হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসগুলিতেও গ্রাহকরা এই পরিষেবা পাবেন।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ