নয়াদিল্লি: ১৯৯১ সালের মে মাস। কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী চন্দ্রশেখরের নেতৃত্বাধীন সরকার। মাথায় বিশাল আর্থিক দায়ভার ও বিপুল অর্থনৈতিক ঘাটতির বোঝা। সংকট মোকাবিলায় দেশের মাটি থেকে গোপনে উড়ল বিমান। প্রথম দফায় দেশের সরকারি স্বর্ণভাণ্ডার থেকে ৪৭ টন সোনা পৌঁছে গিয়েছিল ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে। কয়েক দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় ২০ টন সোনা গিয়েছিল ইউনিয়ন ব্যাংক অব সুইৎজারল্যান্ডে। সরকারের সেই গোপন পদক্ষেপ প্রকাশ্যে আসতেই গোটা দেশে তোলপাড় পড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ভরাডুবি হয় চন্দ্রশেখর সরকারের। ১৯৯১ সালের সেই স্মৃতি ফিরিয়ে কি ফের গোপনে সোনা বিক্রি করেছে ভারত? জ্বালানির দামবৃদ্ধি, টাকার মূল্যহ্রাস ও বিদেশি মুদ্রা তহবিল হ্রাসের সংকট সামলাতে কি চন্দ্রশেখর জমানার পথে হাঁটতে বাধ্য হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার? ব্লুমবার্গের একটি রিপোর্ট ঘিরে শোরগোল তুঙ্গে। সেই রিপোর্টেই দাবি, বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারে পতন রুখতে সরকারি স্বর্ণভাণ্ডারের একটা অংশ বিক্রি করেছে রিজার্ভ ব্যাংক (আরবিআই)। সেই সোনার আর্থিক মূল্য কত? ব্লুমবার্গের দাবি, সেই সোনার মূল্য ১ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার। যদিও এবিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বা আরবিআইয়ের কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে জ্বালানি আমদানির খরচ বেড়েছে। ডলারের সাপেক্ষে ভারতীয় মুদ্রার দর প্রায় ৯৭ টাকায় পৌঁছে গিয়েছিল। সংকটের আবহে ইতিমধ্যেই দেশবাসীর কাছে কৃচ্ছ্রসাধন সংক্রান্ত একঝাঁক আবেদন করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, জ্বালানির সুচিন্তিত ব্যবহার, আগামী এক বছরের জন্য সোনা কেনা বা বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ রাখার মতো পদক্ষেপ। তারই মধ্যে এবার বিদেশি মুদ্রা, আরও স্পষ্ট করে বললে ডলারের সঞ্চিত ভাণ্ডারে পতন ঠেকাতে সোনা বিক্রির রিপোর্ট প্রকাশ্যে এল। ব্লুমবার্গের দাবি, সরকার সোনায় আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি করা সত্ত্বেও রিজার্ভ ব্যাংকের সঞ্চিত স্বর্ণভাণ্ডার কমেছে। তা থেকেই ইঙ্গিত, সরকার সম্ভবত সোনা বিক্রির পথে হেঁটেছে।
ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে ভারতীয় বাজার থেকে বিদেশি পুঁজি প্রত্যাহার ও জ্বালানির ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির জেরে ভারতীয় অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। সরকার যে প্রবল উদ্বিগ্ন, সোনা বিক্রির এই পদক্ষেপ তারই প্রতিফলন। চলতি খাতে ঘাটতি বৃদ্ধির ফলে ভারতীয় মুদ্রা অর্থাৎ টাকার দর দুর্বল করছে। সংকট মোকাবিলার অস্ত্র হিসাবে এই মুহূর্তে বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার যতটা সম্ভব অটুট রাখাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে আরবিআই। ব্লমবার্গের দাবি, ২২ মে শেষ হওয়া সপ্তাহ ও তার ঠিক আগের সপ্তাহ মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার মূল্যের স্বর্ণভাণ্ডার কমেছে। এর মাধ্যমে সম্ভবত দেশের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারে প্রায় ৭৫০ কোটি ডলার সংযুক্ত করেছে আরবিআই। ব্লুমবার্গ ইকনমিক্সের ভারতীয় কর্তা অভিষেক গুপ্ত একথা জানিয়েছেন।