Bartaman Logo
৩১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৭ বছর পর চন্দ্রকোণা গ্রামীণ হাসপাতালে ফের চালু সিজার ও লাইগেশন পরিষেবা

দীর্ঘদিন পর অবশেষে চন্দ্রকোণা গ্রামীণ হাসপাতালে পুনরায় চালু হল সিজার ও লাইগেশন পরিষেবা।

৭ বছর পর চন্দ্রকোণা গ্রামীণ হাসপাতালে ফের চালু সিজার ও লাইগেশন পরিষেবা
  • ২৩ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: দীর্ঘদিন পর অবশেষে চন্দ্রকোণা গ্রামীণ হাসপাতালে পুনরায় চালু হল সিজার ও লাইগেশন পরিষেবা। দীর্ঘ সাত বছর পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে সফলভাবে প্রথম সিজার অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম অস্ত্রোপচারেই জন্ম নিয়েছে এক ফুটফুটে পুত্রসন্তান। চন্দ্রকোণার পিয়ারডাঙা গ্রামের বাসিন্দা প্রসূতি আলিয়া ভাঙ্গি এই সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। চন্দ্রকোণা-২ বিএমওএইচ হিমাংশু মাইতি বলেন, অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনেই সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন। চিকিৎসকের অভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এই পরিষেবা ফের চালু হওয়ায় খুশি চিকিৎসক থেকে শুরু করে রোগী ও তাঁদের পরিজন সকলে। 

Advertisement

তবে দীর্ঘ সময় পর এই অস্ত্রোপচার হওয়ায় রোগীর পরিজনদের অনুমতি পেতে চিকিৎসকদের প্রথমে অনেকটাই বেগ পেতে হয়। মঙ্গলবার প্রথম অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে রোগী ও তাঁর আত্মীয়রা রীতিমতো ভয় পাচ্ছিলেন। শেষমেশ চিকিৎসকরা তাঁদের বুঝিয়ে সম্মত করান। এরপর স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সুদীপা দত্ত, চিকিৎসক নিরূপম কান্তি দে এবং অ্যানাস্থেটিস্ট চিকিৎসক দিবাকর শীলের উপস্থিতিতে সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। এই বিষয়ে রোগীর আত্মীয় শেখ ইয়াসিন বলেন, দীর্ঘদিন এখানে সিজার বন্ধ থাকায় আমরা প্রথমে ঝুঁকি নিতে চাইনি। কিন্তু ডাক্তারবাবুরা আমাদের অনেক বুঝিয়ে সাহস জোগান। উনাদের আশ্বাসে রাজি হওয়ার পর সফলভাবে অপারেশন হয়েছে, এখন মা ও ছেলে সুস্থ থাকায় আমরা দারুণ খুশি। অপর এক রোগীর আত্মীয়  ছায়া মুর্মু স্বস্তির সুর প্রকাশ করে জানান,  আগে এই হাসপাতালে কোনও প্রসূতিকে ভর্তি করার পর সিজারের প্রয়োজন হলে রোগীকে ওই অবস্থাতেই স্থানান্তরিত করে নিয়ে মেদিনীপুর বা ঘাটালে ছুটতে হত। যাতায়াতের পথে প্রসূতির কষ্ট দেখার পাশাপাশি আমাদেরও অনেক হয়রানি পোহাতে হতো। ঘরের কাছের হাসপাতালে এই পরিষেবা চালু হওয়ায় আমাদের বিশাল সুবিধা হল।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের পর থেকে মূলত অভিজ্ঞ প্রসূতি চিকিৎসক ও অ্যানাস্থেটিস্টের অভাবে এই হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার বন্ধ পড়েছিল। ২০২২ সালে একবার পরিষেবা চালু হলেও চিকিৎসকরা বদলি হয়ে যাওয়ায় তা ফের মুখ থুবড়ে পড়ে। ফলে প্রতি মাসে প্রায় একশোর কাছাকাছি প্রসূতিকে চিকিৎসার জন্য ৪৫ কিলোমিটার দূরের মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ বা ২৫ কিলোমিটার দূরের ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে রেফার করতে হতো। চন্দ্রকোণা, গড়বেতা, কেশপুর সহ বিস্তীর্ণ এলাকার কয়েক হাজার মানুষ এই হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল। প্রতিদিন আউটডোরেই প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন প্রসূতি চিকিৎসা করাতে আসেন। তাই এত বড় একটি এলাকার মানুষের জন্য এই পরিষেবা চালু হওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ