Bartaman Logo
৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ধৃত দেবরাজ, ব্যান্ড বাজিয়ে বিজেপির উচ্ছ্বাস-বিলি মিষ্টি

তৃণমূলের দেবরাজ চক্রবর্তী গ্রেপ্তার হওয়ার পর বাগুইআটিতে ব্যান্ড বাজিয়ে উচ্ছ্বাস বিজেপির। ফাটল আতসবাজি। ‘খুশির খবর’ বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিষ্টিও বিলি করা হয়েছে।

ধৃত দেবরাজ, ব্যান্ড বাজিয়ে বিজেপির উচ্ছ্বাস-বিলি মিষ্টি
  • ৩ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর ও বারাসত: তৃণমূলের দেবরাজ চক্রবর্তী গ্রেপ্তার হওয়ার পর বাগুইআটিতে ব্যান্ড বাজিয়ে উচ্ছ্বাস বিজেপির। ফাটল আতসবাজি। ‘খুশির খবর’ বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিষ্টিও বিলি করা হয়েছে। দলীয় কর্মীদের উচ্ছ্বাসে সামিল হন রাজারহাট-গোপালপুরের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারি। কর্মীদের সঙ্গে গেরুয়া আবির খেলেন। দেবরাজ চক্রবর্তী সঙ্গীতশিল্পী অদিতি মুন্সির স্বামী। তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী বলে পরিচিত।

Advertisement

এক প্রমোটারের কাছ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন দেবরাজ। বুধবার রাতে এ খবর আসার পর বিজেপি কর্মীরা উচ্ছ্বাস দেখাতে শুরু করেন। আতসবাজি ফাটান। বৃহস্পতিবার সকালে তরুণজ্যোতিবাবুর নেতৃত্বে দলের কর্মীরা বাগুইআটিতে রাস্তায় নেমে পড়েন। ব্যান্ডপার্টি ভাড়া করে বাজনা বাজানো হয়। খুশি ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও।
বাগুইআটির বাসিন্দা ৮৬ বছরের বৃদ্ধ দেবকুমার দাশগুপ্ত জানান, তাঁর ছেলে বিজেপি করেন। সেই অপরাধে দেবরাজ অত্যাচার শুরু করেছিলেন। তা মাত্রাছাড়া হওয়ায় ছেলে-বউমা ঘরছাড়া। তাঁকে ২৫ লক্ষ টাকা দিতে হয়েছিল। অত্যাচার থেকে বাঁচতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ পর্যন্ত হয়েছিলেন। তবে আশাহত হন। এখন দেবরাজ গ্রেপ্তার হওয়ায় স্বস্তির শ্বাস নিতে পারছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ৩টে নাগাদ বাগুইআটি থানা থেকে দেবরাজকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয় বারাসত জেলা আদালতে। বারাসত আদালতে তোলা হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আদালত চত্বরে ভিড় জমাতে থাকে বিজেপি কর্মী এবং আইনজীবী সেলের সদস্যরা। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কায় আদালত চত্বরে মোতায়েন হয় বড়ো পুলিশবাহিনী, র‌্যাফ এবং কেন্দ্রীয়বাহিনী। ব্যারিকেড করে দেওয়া হয় কোর্ট লকআপের চারপাশ। তবুও নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে আদালত চত্বরে কয়েকজন বিজেপিকর্মীর হাতে হাতে পৌঁছে যায় ডিম। বিজেপির আইনজীবী সেলের সদস্য মিলি বিশ্বাসের কাছ থেকে দু’টি ডিম উদ্ধার করতে যায় পুলিশ। এ নিয়ে বচসা বাধে। র‌্যাফের এক মহিলাকর্মী কেড়ে নেওয়ার সময় একটি ডিম মাটিতে পড়ে ভেঙে যায়। অন্যটি পুলিশ বাজেয়াপ্ত করে। পরে মিলি দাবি করেন, তিনি দুপুরের খাবারের জন্য ডিম এনেছিলেন। যদিও এর পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য, ডিম থেরাপি বন্ধ হবে না।
বিকেল ৩টে নাগাদ পুলিশি নিরাপত্তায় দেবরাজকে আনা হয় আদালতে। তখন তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়। তবে ডিম তাঁর গায়ে না লেগে পুলিশের গাড়িতে পড়ে ফেটে যায়। কয়েকটি ডিম গিয়ে লাগে এক পুলিশকর্মীর শরীরে। সবমিলিয়ে চরম উত্তেজনা দেখা দেয় কোর্ট চত্বরে। দেবরাজকে ১০ দিনের জন্য হেপাজতে চেয়ে আবেদন করে পুলিশ। আদালত ৭ দিনের পুলিশ হেপাজত মঞ্জুর করেছে।  ধৃত দেবরাজ। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ