Bartaman Logo
৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দাম বিপুল, মোটা লাভের আশায় অপরিণত পাট কাটছেন কৃষকরা

এ বছর পাটের বাজারে সোনা ফলছে! বাজারে পাটের আকাশছোঁয়া দাম মেলায় মুখে চওড়া হাসি চাষিদের। এই বাড়তি লাভের গুড় দ্রুত ঘরে তুলতে নদীয়ার তেহট্ট মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় অপরিণত পাট কেটে ফেলা হচ্ছে।

দাম বিপুল, মোটা লাভের আশায় অপরিণত পাট কাটছেন কৃষকরা
  • ২৯ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তেহট্ট: এ বছর পাটের বাজারে সোনা ফলছে! বাজারে পাটের আকাশছোঁয়া দাম মেলায় মুখে চওড়া হাসি চাষিদের। এই বাড়তি লাভের গুড় দ্রুত ঘরে তুলতে নদীয়ার তেহট্ট মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় অপরিণত পাট কেটে ফেলা হচ্ছে।

Advertisement

স্থানীয় চাষিদের দাবি, গত বছরও বাজারে পাটের সর্বোচ্চ দাম ছিল কুইন্টাল প্রতি ন’ হাজার টাকা। আর সাধারণ মানের পাট বিকিয়েছে আট হাজার টাকা কুইন্টালে, যা বিগত কয়েক বছরের নিরিখে ছিল রেকর্ড। কিন্তু চলতি মরশুমে সেই সমস্ত রেকর্ড ভেঙে চুরমার। এ বছর পাটের বাজারদর গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বর্তমানে পুরনো ভালো মানের পাট সাড়ে ১৮ থেকে ১৯ হাজার টাকা কুইন্টাল দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, সাধারণ মানের নতুন পাটের দর ঠেকেছে ১৮ হাজার টাকা কুইন্টালে।
এরই মধ্যে মরশুমের শুরুতে হঠাৎ ঝড়ে পাট গাছ নুইয়ে পড়ায় অনেক চাষি তড়িঘড়ি আগাম পাট কেটে জাঁক দিতে শুরু করেছেন। তেহট্ট মহকুমার করিমপুর ১ ও করিমপুর ২ ব্লকে এখন এই ছবিটাই খুব চেনা। করিমপুর ২ ব্লকের কিশোরপুর গ্রামের পাটচাষি অনুপ ঘোষ জানালেন, ‘গত বছর থেকেই পাটের দারুণ দাম মিলছে। লোকসান এড়াতে এবং বাড়তি লাভের আশায় এবার আগাম বোনা পাট কেটেই জাঁক দিয়ে দিচ্ছি।’ অনেক চাষি আবার অপরিণত পাট কেটে সেই জমিতে আমনের বীজতলা তৈরির কাজও শুরু করে দিয়েছেন। বাজারে চাহিদা এতটাই যে, অল্প জলে জাঁক দেওয়া অপরিণত পাটও দেদার বিকোচ্ছে ১৮ হাজার টাকা কুইন্টাল দরে। গুড্ডু আগরওয়াল নামে এক পাট ব্যবসায়ী বাজারের এই রমরমা প্রসঙ্গে বলেন, ‘পাটকলগুলোতে হঠাৎ পাটের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। পরিস্থিতি এমন যে, পুরনো পাটও গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দামে বিকোচ্ছে।’
কিন্তু হঠাৎ পাটের বাজারে এমন অগ্নিমূল্য কেন? সংশ্লিষ্ট মহলের সূত্রের দাবি, বিগত প্রায় দু’ বছর ধরে বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাত পণ্য আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেছে ভারত সরকার। অন্য দিকে, দেশের আভ্যন্তরীণ বাজারে পাটজাত পণ্যের চাহিদা এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়েছে। এই জোগানের ঘাটতি ও চাহিদার ভারসাম্যের কারণেই পাটের দাম এভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।
জুট কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (জেসিআই) সূত্রে জানা গিয়েছে, বিগত কয়েক বছরে জেলা পিছু সাধারণত এক লক্ষ তিন থেকে চার হাজার হেক্টরের কাছাকাছি জমিতে পাট চাষ হতো। কিন্তু এ বছর দামের ঊর্ধ্বগতি দেখে চাষের এলাকা অনেকটাই বেড়েছে। চলতি মরশুমে শুধুমাত্র জেলাতেই প্রায় এক লক্ষ ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে।
নাজিরপুর ও করিমপুর জেসিআই পাট সংগ্রহ কেন্দ্রের আধিকারিকদের মতে, গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় ২০ শতাংশের বেশি জমিতে পাটের ফলন হয়েছে। চাষিরাও এ বছর পাটের অভাবনীয় দাম পাচ্ছেন। তবে দাম ভালো থাকলেও পাটের গুণগত মান যাতে কোনোভাবে নষ্ট না হয়, তার জন্য চাষিদের আধুনিক ও উন্নত পদ্ধতিতে পাট জাঁক দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পাট নিগমের আধিকারিকরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ