নয়াদিল্লি, ২৩ জুলাই: ছাত্র-যুব আন্দোলনের ঢেউ দিল্লি থেকে ক্রমশ দেশের অন্যান্য প্রান্তে ছড়িয়ে পড়তেই আরও সুর নরম কেন্দ্রের। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে আরও একবার ময়দানে নামতে হল স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। বুধবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানালেন, প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের বিচারের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। যদিও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার যে দাবি আন্দোলনকারীরা তুলেছেন, সেই বিষয়ে এদিনও ‘নিরুত্তর’ প্রধানমন্ত্রী।
গত ১০ বছরে ১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। অথচ দোষী সাব্যস্ত হয়নি একজনও। এই তথ্যকে হাতিয়ার করে গতকাল সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রকে তোপ দেগেছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। চেয়েছিলেন সরকারের জবাব। সেই রেশ ধরেই প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা সংস্কার ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য আজ কংগ্রেস, আপ সহ বিভিন্ন বিরোধী দলের সাংসদের তরফে মুলতুবি প্রস্তাবের নোটিসও দেওয়া হয়েছে। বিরোধীদের পাশাপাশি সরকারকে ঘিরছে আন্দোলনকারীরাও। ‘সরকার দাবি না মানলে এবার লক্ষ লক্ষ ছেলেমেয়ে রাস্তায় নামবে’ বলে ইতিমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ককরোচ পার্টির নেতারা। যার প্রেক্ষাপটে এদিন সকালে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ক্ষুব্ধ ছাত্র-যুবদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে একাধিক ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি লিখেছেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা ফাস্ট ট্র্যাক আদালত স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ ব্যাপারে সকল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় আমাদের ধারাবাহিক পদক্ষেপের এটি একটি অংশ।’ একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস, ‘যারা আমাদের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের রেহাই দেওয়া হবে না।’