Bartaman Logo
৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ফ্রি-কিক ম্যাজিক! বাঁ পায়ে শান দিয়ে নক আউটে মেসি

রবিবারের আগে ফ্রি-কিকে লিও মেসির ঝুলিতে ছিল ৭১টি গোল। তবে ইদানীং তাতে পড়েছিল ভাটার টান। একের পর এক ফিল্ড গোলে দলকে জেতালেও, ফ্রি-কিক থেকে তার লক্ষ্যভেদের অপেক্ষায় প্রহর গুনছিলেন অনুরাগীরা।

ফ্রি-কিক ম্যাজিক! বাঁ পায়ে শান দিয়ে নক আউটে মেসি
  • ২৯ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শিশির ঘোষ: রবিবারের আগে ফ্রি-কিকে লিও মেসির ঝুলিতে ছিল ৭১টি গোল। তবে ইদানীং তাতে পড়েছিল ভাটার টান। একের পর এক ফিল্ড গোলে দলকে জেতালেও, ফ্রি-কিক থেকে তার লক্ষ্যভেদের অপেক্ষায় প্রহর গুনছিলেন অনুরাগীরা। মেসিও হয়তো বুঝতে পারছিল, ফাইন টিউনিংয়ে কোথাও একটা সমস্যা হচ্ছে। অবশেষে আক্ষেপ মেটাল বাঁ পায়ের জাদুকর। জর্ডনের বিরুদ্ধে পরিবর্ত হিসাবে মাঠে নেমে কেরিয়ারের ৭২তম ফ্রি-কিক গোলটি সেরে ফেলল আর্জেন্তাইন মহাতারকা। অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভেদ করল প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের সাজানো ওয়াল। বিদ্যুৎগতিতে বল আছড়ে পড়ল জালে। নক-আউটের আগে শানিয়ে নিল তূণের অন্যতম অস্ত্র।

Advertisement

গোটা বিশ্বে পীঠস্থানের অভাব নেই। আমার মতে, অদূর ভবিষ্যতে আর্জেন্তিনাকেও মানুষ চিনবে মারাদোনা আর মেসির দেশ হিসাবেই। একই দেশে দু’জন ফুটবল কিংবদন্তির জন্মানো সত্যিই ভগবানের দান। সেরা ফর্মের পেলেকে দেখার সৌভাগ্য হয়নি। তবে মারাদোনার পর এখন মেসিকে দেখছি। প্রশংসার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। মার্কিন মুলুকে কাপযুদ্ধ যেদিকে এগচ্ছে, তাতে আবারও আর্জেন্তিনা চ্যাম্পিয়ন হলে অবাক হব না। পুরো দলটা এক সুতোয় বাঁধা। কার্যকরী ফুটবল খেলছে। আর যোগ্য সেনাপতির মতো দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছে বাঁ পায়ের জাদুকর। চলতি বিশ্বকাপে ৬টি গোল হয়ে গেল এলএমটেনের। সোনার বুটের দৌড়ে লিও এখন সবার আগে।
বিশ্বকাপের আসরে প্রায় দু’দশক পর আর্জেন্তিনার প্রথম একাদশে ছিল না মেসির নাম। আগেই নক-আউটের টিকিট নিশ্চিত হওয়ায় রিজার্ভ বেঞ্চ পরখ করে নিতে চেয়েছিলেন আর্জেন্তাইন কোচ। স্কালোনির সিদ্ধান্ত একেবারে সঠিক। তবে এই আর্জেন্তিনা দল যে মেসিকে ছাড়া অসম্পূর্ণ, তা আরও একবার প্রমাণিত। জর্ডন ম্যাচটাকে যদি আমরা দু’টি ভাগে দেখি, প্রথম ৬০ মিনিটে মেসিহীন আর্জেন্তিনা খুব একটা খারাপ খেলেনি। সুযোগ পেয়ে সেরাটা মেলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে সিমিওনে-নিকো পাজের মতো তরুণরা। ১৯ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে দুরন্ত শটে জাল কাঁপায় জিওভানি লো সেলসো (১-০)। তার ১২ মিনিট বাদেই পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়ায় লাওতারো মার্তিনেজ (২-০)। প্রথমার্ধে দল দু’গোলে লিড নিয়ে মাঠ ছাড়ে। তবে বিরতির পর চলতি আসরে প্রথম গোল হজম করে আর্জেন্তিনা। জর্ডনের হয়ে ব্যবধান কমায় মুসা (২-১)।
এই গোলটা যেন অ্যালার্মিং বেল হিসাবে কাজ করে। আর সময় নষ্ট না করে মেসিকে মাঠে নামান কোচ স্কালোনি। পরের ৩০ মিনিটে পুরোপুরি ভিন্ন এক আর্জেন্তিনার দেখা মিলল। এই পর্বে অনেক বেশি চাপমুক্ত দেখায় পারাডেস-পালাসিওসদের। আর ৮০ মিনিটে ফ্রি-কিকে সেই চেনা মেসি-ম্যাজিক, যা দেখে সত্যিই চোখ জুড়াল। তবে বিপক্ষ গোলরক্ষক দায় এড়াতে পারে না। দু’টি গোলের ক্ষেত্রেই ওয়ালের পিছনে তার লুকিয়ে থাকা, আমাকে অবাক করেছে।
গতবারের চ্যাম্পিয়নদের সামনে এবার কেপ ভার্দে। চলতি বিশ্বকাপের সারপ্রাইজ প্যাকেজ এই আফ্রিকান দেশটি। ওদের লড়াইকে পূর্ণ সম্মান জানিয়েই বলছি, রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে মেসিময় আর্জেন্তিনার সঙ্গে যুঝে ওঠা ওদের পক্ষে সত্যিই কঠিন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ