Bartaman Logo
১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জেলার সরকারি স্কুলের ভোল বদলাতে চলেছে, তৈরি হবে স্মার্ট ক্লাসরুম

জেলার অধিকাংশ স্কুলের পরিকাঠামো বদল হতে চলেছে। কর্পোরেট সংস্থার মতো সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি ঝাঁ চকচকে হয়ে উঠবে।

জেলার সরকারি স্কুলের ভোল বদলাতে চলেছে, তৈরি হবে স্মার্ট ক্লাসরুম
  • ১৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: জেলার অধিকাংশ স্কুলের পরিকাঠামো বদল হতে চলেছে। কর্পোরেট সংস্থার মতো সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি ঝাঁ চকচকে হয়ে উঠবে। স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরির পাশাপাশি মিড ডে মিলের রান্না ঘরেরও ভোল বদলে যাবে। ক্লাসের পর পড়ুয়ারা যাতে অবসরে একটু অন্য রকম সময় কাটাতে পারে সেই ব্যবস্থাও করা হবে। পড়ুয়ারা খেলার ছলে বাস্তব শিক্ষা পাবে। প্রতিটি স্কুলে বাউন্ডারি প্রাচীর তৈরি করা হবে। এছাড়া পড়াশোনার মানোন্নয়নের ব্যবস্থা করা হবে। যেসব স্কুল ভাল ফল করতে পারে না, সেগুলিকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হবে। উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলির পরিকাঠামো বদল করা হচ্ছে।

Advertisement

এক আধিকারিক বলেন, নতুন রাজ্য সরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে চাইছে। মাঝে কয়েক বছর বেসরকারি বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেপরোয়া মনোভাব দেখিয়েছিল। ওই সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির রাশ টানা হবে। নিজেদের ইচ্ছে মতো ফি বাড়ানো বা বিভিন্ন অজুহাতে অভিভাবকদের থেকে টাকা আদায়ের দিনও শেষ হয়ে আসছে। সরকারি স্কুলগুলিতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো আধুনিক পদ্ধতিতে পড়াশোনা হবে। প্রতিটি শিক্ষক শিক্ষিকাদের নির্দিষ্ট সময়ে স্কুলে আসা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এক সময় বহু শিক্ষক স্কুলে না এসেই বেতন তুলেছেন। কেউ কেউ আবার নাম কা ওয়াস্তে স্কুলে এলেও ঠিক মতো ক্লাস করতেন না। সেই ব্যবস্থারও অবসান ঘটাতে চলেছে সরকার। 
শিক্ষাদপ্তরের আর এক আধিকারিক বলেন, জেলায় অনেক স্কুলের পরিকাঠামো বেহাল হয়ে রয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের বসার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেই। কোথাও আবার ছাদ থেকে জল পড়ে। পুরানো পরিকাঠামোর উপর স্কুলগুলি দাঁড়িয়ে রয়েছে। শিক্ষাদপ্তর ওই স্কুলগুলির পরিবেশ বদলে দিতে চাইছে। সেই মতো স্কুলগুলিতে অর্থ বরাদ্দ করা হবে। শিক্ষাদপ্তরের আধিকারিকরা সেই প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। ড্রপআউট বন্ধ করে পড়ুয়াদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে শিক্ষক শিক্ষিকাদের কাঁধে বড়ো দায়িত্ব থাকবে। আচমকা কেউ স্কুলে আসা বন্ধ করে দিলে তার বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতে বলা হয়েছে। এতে ড্রপ আউট কমার পাশাপাশি নাবালিকাদের বিয়েও বন্ধ হবে। নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকেই আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে। যদিও শিক্ষাদপ্তরের অনেকেই বলছেন, বহু স্কুলে প্রয়োজনীয় শিক্ষক শিক্ষিকা নেই। আগে শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগে জোর দেওয়া দরকার। কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত শিক্ষক রয়েছে, আবার কোথাও অনেক কম শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছে। এই বৈষম্য দূর করা দরকার। শহরের বহু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের তুলনায় শিক্ষক শিক্ষিকা বেশি রয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁরা শহরের স্কুলে পোস্টিং নিয়েছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ