Bartaman Logo
৩১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গুন্ডাদমন আইনে পুলিশের গুন্ডাগিরির বিরুদ্ধে সুরাহা রয়েছে? প্রশ্ন হুমায়নের

অবশেষে শক্তিপুর থানায় হাজিরা দিলেন নওদার আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)-এর বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তবে, ভাঙলেও মচকালেন না তিনি।

গুন্ডাদমন আইনে পুলিশের গুন্ডাগিরির বিরুদ্ধে সুরাহা রয়েছে? প্রশ্ন হুমায়নের
  • ২০ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: অবশেষে শক্তিপুর থানায় হাজিরা দিলেন নওদার আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)-এর বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তবে, ভাঙলেও মচকালেন না তিনি। রবিবার থানায় ঢোকার আগে পুলিশকে একহাত নেন তিনি। বলেন, ‘পুলিশ গুন্ডাগিরি করলে তার বিরুদ্ধে কে ব্যবস্থা নেবে? নতুন গুন্ডা দমন আইনে তার কী সুরাহা রয়েছে?’ থানা থেকে বেরিয়ে অবশ্য সুর নরম হুমায়ুনের। তিনি বলেন, ‘রাগের চোটে শক্তিনগর থানার ওসির বিরুদ্ধে নানা বিরূপ মন্তব্য করেছিলাম। সেগুলি আমার বলা ঠিক হয়নি। এদিন আমাকে ডেকে যা যা জানতে চেয়েছিলেন, তা বলেছি। অত্যন্ত ভালো পরিবেশে কথাবার্তা হয়েছে।’ 

Advertisement

গত ৭ মে শক্তিপুরের একটি কর্মিসভা থেকে স্থানীয় ওসিকে তীব্র আক্রমণ করেন হুমায়ুন। ওসির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিতে গিয়ে উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলেছিলেন বলে অভিযোগ। তা নিয়ে মামলা দায়ের হয়। শক্তিপুর থানার তরফে হুমায়ুনকে ডেকে পাঠানো হয়। কিন্তু, তিনি হাজিরা না দেওয়ার ব্যাপারে গোঁ ধরেছিলেন। ফের তাঁকে দ্বিতীয়বার নোটিস ধরানো হয়। 
এদিন শক্তিনগর থানায় যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন বলেন, ‘বাংলায় ব্রিটিশ পুলিশের শাসন শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী গর্ব করে বুক চিতিয়ে দাবি করছেন তিনি সবল মুখ্যমন্ত্রী। সবল মুখ্যমন্ত্রীর সবল পুলিশ মানুষের উপর কীভাবে অত্যাচার করছে দেখুন। মনে রাখবেন, চিরদিন কারও সমান যাবে না।’ এরপরেই তাঁর সংযোজন, ‘সরকারের মেয়াদ তিন মাসও হয়নি। পুলিশের আচরণ কী? এর জন্য দায়ী মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশ মস্তানি, গুন্ডামি করছে।’ 
হুমায়ুনকে শক্তিনগর থানার পাশাপাশি রেজিনগর থানাতেও তলব করা হয়েছিল। গত ৪ জুলাই রেজিনগর থানায় অবশ্য হাজিরা দিয়েছিলেন হুমায়ুন।  ওইদিন ৪ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ফের ১৪ জুলাই হাজিরা দেওয়ার জন্য হুমায়ুনকে নোটিস ধরায় রেজিনগর থানা। সেই মতো থানায় গিয়েছিলেনও। সেদিনও প্রায় পাঁচ ঘণ্টা তাঁকে জেরা করে পুলিশ। দু’দিনই জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিওগ্রাফি করা হয়েছে বলে খবর। তবে হুমায়ুন শক্তিপুর থানা এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। ১৪ জুলাই ফের দ্বিতীয় নোটিস পাঠানো হয় তাঁর বাড়িতে। ১৯ জুলাই, রবিবার তাঁকে তলব করে পুলিশ। সেই মতো এদিন সকাল ১১টা নাগাদ শক্তিপুর থানায় এসে পৌঁছন হুমায়ুন।
যদিও শক্তিপুর থানায় প্রথমবার হাজিরা এড়িয়ে সাংবাদিক বৈঠকে ডেকে শক্তিপুর থানার ওসির বিরুদ্ধে একাধিক মন্তব্য করেছেন হুমায়ুন। পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নও তুলেছিলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, গত ৩০ জুন থেকে শক্তিপুর থানার ওসি দলীয় কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে ভয় দেখাচ্ছেন। তিনি হুমায়ুন কবীরের বাপ হয়েছেন বলে জাহির করে বেড়াচ্ছেন। তো সেই বাপের সঙ্গে পরে দেখা করতে যাব। কত জনকে নিয়ে যাব সেটা জেলা পুলিশ-প্রশাসনকে জানিয়ে যাব।’ এদিন অবশ্য একাই হাজিরা দিতে থানায় ঢোকেন হুমায়ুন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ