নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: গত আট বছর ধরে জলপাইগুড়ি জেলা গ্রন্থাগারে লাইব্রেরিয়ান নেই। ঐতিহ্যবাহী এই লাইব্রেরিতে স্থায়ী কর্মী বলতে মাত্র দু’জন। বাধ্য হয়ে গ্রন্থাগার চালাতে তিনজন রুরাল লাইব্রেরিয়ানকে নিয়ে এসে লাইব্রেরি অ্যাসিস্ট্যান্ট করা হয়েছে। এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে সার্ভার খারাপ থাকায় জলপাইগুড়ি জেলা লাইব্রেরিতে ই-ক্যাটালগ নেই। ফলে বইয়ের হিসাব রাখতে গিয়ে হিমশিম অবস্থা কর্মীদের। আগের সরকারের আমলে পড়ুয়াদের স্বার্থে জলপাইগুড়ি জেলা গ্রন্থাগারে ই-লাইব্রেরি চালু হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। জেলা গ্রন্থাগার ছাড়াও জলপাইগুড়ি জেলায় সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত ৭৩টি লাইব্রেরি রয়েছে। এর মধ্যে বহু ক্ষেত্রে একজন লাইব্রেরিয়ান একাধিক গ্রন্থাগারের দায়িত্বে। ফলে সপ্তাহের সবদিন খোলা থাকে না লাইব্রেরিগুলি।
লাইব্রেরিতে শূন্যপদে অবশ্য দ্রুত নিয়োগের আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ। টেলিফোনে তিনি বলেন, আমরা রাজ্যে বেশকিছু গ্রন্থাগারে ই-লাইব্রেরি চালু করব। সেইসঙ্গে যেসব গ্রন্থাগারে দীর্ঘদিন ধরে লাইব্রেরিয়ান নেই, সেখানে যাতে অবিলম্বে নিয়োগ করা যায়, তার চেষ্টাও শুরু হয়েছে। বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের মধ্যে একটা বড়ো অংশ মোবাইলে আসক্ত। তাঁদের লাইব্রেরিমুখী করতে বেশ কিছু নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান গ্রন্থাগার মন্ত্রী। সেক্ষেত্রে পাঠকের দুয়ারে যাতে তাঁদের পছন্দের বই পৌঁছে দেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যে ভ্রাম্যমান লাইব্রেরির কথাও ভাবা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া এলাকায় যেখানে বাসিন্দাদের বেশিরভাগেরই তাঁদের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য বইপত্র কিনে দেওয়ার সামর্থ্য নেই, সেই এলাকাগুলিতে লাইব্রেরিতে বেশি করে পাঠ্যবই ও রেফারেন্স বই রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। • জেলা গ্রন্থাগার। - নিজস্ব চিত্র।