Bartaman Logo
৩ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কলেজে মহিলা কর্মীর শ্লীলতাহানি, অভিযুক্ত ‘কানকাটা’ দেবাশিস

কলেজের ইউনিয়ন রুমের আলমারিতে সুটকেস ভরতি লক্ষ লক্ষ টাকা। কলেজের ভিতরে বিলাসবহুল শয়নকক্ষ।

কলেজে মহিলা কর্মীর শ্লীলতাহানি, অভিযুক্ত ‘কানকাটা’ দেবাশিস
  • ৮ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলেজের ইউনিয়ন রুমের আলমারিতে সুটকেস ভরতি লক্ষ লক্ষ টাকা। কলেজের ভিতরে বিলাসবহুল শয়নকক্ষ। তার আলমারিতে জন্ম নিরোধকের প্যাকেট। মাসখানেক আগে এই দৃশ্যে তোলপাড় হয়েছিল সুরেন্দ্রনাথ কলেজ। প্রকাশ্যে এসেছিল তৃণমূল আমলের অরাজকতা। সামনে আসে কলেজের ‘ত্রাস’ দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে কানকাটা দেবুর একের পর এক কীর্তি। ফের শিরোনামে সেই সুরেন্দ্রনাথ কলেজ। এবার কলেজেরই এক অস্থায়ী মহিলা কর্মী চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন। কলেজের ভিতর অফিস টাইমে ওই মহিলা কর্মীর শ্লীলতাহানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত সেই কানকাটা দেবু। মুচিপাড়া থানায় এনিয়ে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন ওই মহিলা। তার ভিত্তিতে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর, শিয়ালদহ চত্বরেই থাকেন ওই অস্থায়ী মহিলা কর্মী। ব্যাংক অব ইন্ডিয়া মোড়ের কাছে তাঁর স্বামীর একটি দোকান রয়েছে। কয়েক বছর আগে সুরেন্দ্রনাথ কলেজের অফিসে অস্থায়ী কর্মী হিসাবে নিযুক্ত হন তিনি। অভিযোগকারিণী পুলিশকে জানিয়েছেন, ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৭ এপ্রিল। ওইদিন কলেজে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে হাজির ছিলেন দেবাশিস। মহিলার অভিযোগ, বেশ কয়েকদিন ধরেই কুপ্রস্তাব দিচ্ছিলেন ওই ব্যক্তি। কিন্তু, তাতে তিনি রাজি না হওয়ায় কলেজের ভিতরেই তাঁকে অশালীন ভাষায় আক্রমণ করা হয়। শুধু তাই নয়, তাঁর শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও থানায় অভিযোগ করেছেন মহিলা। একইসঙ্গে, অভিযোগকারিণী পুলিশকে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁকে গোপনাঙ্গ দেখিয়ে অশালীন আচরণ করেছেন। এপ্রিল মাসের ঘটনা হলেও এতদিন ভয়ে, আতঙ্কে থানার দ্বারস্থ হননি তিনি। সরকার বদল হতেই একদা সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ‘দাদা’র বিরুদ্ধে মুচিপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন ওই মহিলা। তার ভিত্তিতেই শ্লীলতাহানি, অশালীন ব্যবহার ও প্রাণনাশের হুমকি সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত এই মামলায় দেবাশিসকে গ্রেপ্তার করতে পারেননি তদন্তকারীরা। 
সুরেন্দ্রনাথ কলেজ ও এলাকা সূত্রে খবর, কলেজের ‘হোতা’ থাকাকালীন একাধিক মহিলাকে অস্থায়ী কর্মী হিসাবে কলেজে কাজের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন দেবাশিস। অভিযোগ, চাকরির বদলে তাঁদের থেকে মোটা টাকা নিয়েছিলেন। যাঁরা সেই টাকা জোগাড় করতে পারেননি, তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন তিনি। তাঁদের দেওয়া হত কুপ্রস্তাব। সূত্রের দাবি, এই মামলায় অভিযোগকারিণীর চাকরি পাওয়ার নেপথ্যেও রয়েছেন একদা ‘ত্রাস’ কানকাটা দেবু।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ