Bartaman Logo
২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

ই ২০ পেট্রলে গাড়ির মাইলেজ কমে ৫ শতাংশ, অবশেষে স্বীকার মন্ত্রকের

ইথানল মিশ্রিত পেট্রল (ই ২০) গাড়ির মাইলেজ কিছুটা কমিয়ে দেয়। অবশেষে একথা স্বীকার করল ভারত সরকার।

ই ২০ পেট্রলে গাড়ির মাইলেজ কমে ৫ শতাংশ, অবশেষে স্বীকার মন্ত্রকের
  • ১১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ইথানল মিশ্রিত পেট্রল (ই ২০) গাড়ির মাইলেজ কিছুটা কমিয়ে দেয়। অবশেষে একথা স্বীকার করল ভারত সরকার। এক বিবৃতিতে পেট্রলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, অন্তত ৫ শতাংশ কম হয় মাইলেজ। তবু এটি বিশুদ্ধ এবং কম ইথানল মিশ্রিত পেট্রলের (ই ১০) তুলনায় পরিষ্কার। অন্যান্য পারফরমেন্সের নিরিখেও উন্নত মানের। সম্পূর্ণ পেট্রল চালিত যানবাহনে ই ২০ ব্যবহারে গাড়ির যান্ত্রিক ক্ষতি হয়, এটা সঠিক নয়। ২০০২ সাল থেকেই এব্যাপারে পরীক্ষানিরীক্ষা চলছে। গত ১৩ বছরের পরীক্ষার নিশ্চয়তা পাওয়া গিয়েছে যে, ইথানল মিশ্রিত পেট্রলে ইঞ্জিনের ক্ষতি হয় না। পরিকাঠামো কারণে দেশের এক লক্ষেরও বেশি পাম্পে বিশুদ্ধ, ই ১০ এবং ই ২০ পেট্রল একসঙ্গে পাওয়া সম্ভব নয় বলেও সরকারিভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

অতীতে গরিব ও মধ্যবিত্ত সংসারের গৃহবধূদের অন্যতম কাজ ছিল চাল থেকে কাঁকর বাছা। নির্ধারিত দামে চাল কেনা হলেও, চালে মেশানো থাকত কাঁকর। দাঁতে পড়লে বিরক্তি ও বেদনার অনূভূতিতে ভুগত মানুষ। কাঁকর মেশানো ছিল দুর্নীতি। বেআইনি। কিন্তু আধুনিক ভারতে মোদি সরকার পেট্রলে সরকারিভাবেই ইথানল মিশিয়ে বিক্রি করে। এবং দাম নেওয়া হয় বিশুদ্ধ পেট্রলেরই। তা নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রবল ক্ষোভ, বিরক্তি ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। পেট্রলিয়াম মন্ত্রক অবশ্য এদিন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, দাম কম নেওয়া সম্ভব নয়। কারণ, পেট্রলে ইথানল মেশানোর আসল উদ্দেশ্য দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা, দাম কমানো নয়। এছাড়া কৃষকদের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করতে লাভজনক মূল্যে ইথানল সংগ্রহ করে সরকার। বর্তমানে বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের যা দর, তাতে বিশুদ্ধ পেট্রলের তুলনায় ই ২০ উৎপাদনের খরচ বেশি।
এই মূহূর্তে প্রধান অভিযোগ হল, ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রলে গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষতি হয়। মাইলেজ কমে যায়। সরকার একাধিকবার এই তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়েছে। গাড়িতে ইথানল ব্যবহারের সবথেকে বড় সওয়াল বছরের পর বছর ধরে করে চলেছেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নীতীন গাদকারি। বিরোধীদের অভিযোগ, এখন বোঝা যায় যে, নীতীন গাদকারি কেন বিগত ১২ বছর ধরে ইথানলরে সমর্থক ও প্রচারক! কারণ, তাঁর দু‌ই পুত্রই ইথানল উৎপাদন সংস্থার মালিক। যদিও এই অভিযোগ মানতে নারাজ গাদকারি। সম্প্রতি ইথানল ব্যবহারের বিরুদ্ধে হঠাৎ অনেক বেশি তোলপাড় শুরু হয়েছে। তাই এবার কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রকও জানিয়ে দিল— সমস্ত প্রথম সারির আন্তর্জাতিক গাড়ি নির্মাতা সংস্থা‌ই জানিয়েছে যে, ইথানলে ক্ষতি হয় না। যদিও বিবৃতি দিয়ে মন্ত্রক এই প্রথম স্পষ্ট করল যে, মাইলেজ কম পাওয়া যায়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ