Bartaman Logo
৩০ জুলাই, ২০২৬

রাতে গান্ধী স্মৃতি স্থলে বিরোধীদের ধরনায় পুলিশের বাধা, উত্তপ্ত দিল্লি, সংসদ চত্বরে বিজেপির সঙ্গে বচসা

সকালে সংসদ চত্বরে বিজেপির সঙ্গে বচসা। রাতে বিরোধীদের পুলিশের বাধা। এমনকী গান্ধী স্মৃতিতেও বিএনএসএসের ধারা ১৬৩ (পূর্বতন ১৪৪ ধারা)!

রাতে গান্ধী স্মৃতি স্থলে বিরোধীদের ধরনায় পুলিশের বাধা, উত্তপ্ত দিল্লি, সংসদ চত্বরে বিজেপির সঙ্গে বচসা
  • ২৪ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সকালে সংসদ চত্বরে বিজেপির সঙ্গে বচসা। রাতে বিরোধীদের পুলিশের বাধা। এমনকী গান্ধী স্মৃতিতেও বিএনএসএসের ধারা ১৬৩  (পূর্বতন ১৪৪ ধারা)! নিট প্রশ্ন ফাঁস ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে অনড় এবং ছাত্র-যুবর ওপর দিল্লি পুলিশের বেপরোয়া লাঠিচার্জের প্রতিবাদে বিরোধীদের বিক্ষোভে বৃহস্পতিবারও উত্তাল হল রাজধানী দিল্লি। সংসদ থেকে সড়ক। আছড়ে পড়ল বিরোধীদের বিক্ষোভ। 

Advertisement

রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ এদিন একজোট হয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানাতে গান্ধী স্মৃতি ৩০ জানুয়ারি মার্গে যায়। যদিও সেই যাত্রায় বাধা দেয় অমিত শাহর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীন দিল্লি পুলিশ। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুলের ৫ সুনেহরি বাগের বাড়িতে এদিন বিকালে ডাকা হয় ইন্ডিয়া জোটের সাংসদদের। হাজির হন সোনিয়া-প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে সহ কংগ্রেসের সিংহভাগ সাংসদ। তৃণমূলের পক্ষে  যোগ দেন সৌগত রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, সাজদা আহমেদ এবং প্রতিমা মণ্ডল। বাকি, অন্য বিরোধী দলের প্রতিনিধিরাও ছিলেন। 
বৈঠকেই ঠিক হয়, গান্ধী স্মৃতিতে হবে ধরণা। ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি যে বাড়িতে (তৎকালীন বিড়লা হাউস) মহাত্মা গান্ধীকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন নাথুরাম গোডসে। কিন্তু যাবেন কী! রাহুলের বাড়ির সামনে হাজির কয়েক হাজার দিল্লি পুলিশ। র‌্যাফ আর খাকি উর্দিধারীরা পথ আটকায় বিরোধীদের। কিন্তু প্রতিরোধ ঠেলে বাসে করে রওনা দেন বিরোধীরা। ৩০ জানুয়ারি মার্গে পৌঁছান তাঁরা।  কিন্তু পুলিশ জানিয়ে দেয়, এখানে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা রয়েছে। কোনো বিক্ষোভ প্রদর্শন চলবে না। জায়গা খালি করুন। ফলে বেঁধে যায় বচসা। 
বিরোধীরা জানিয়ে দেয়, জ্বলন্ত এই ইস্যু থেকে তারা সরবে না। যন্তর মন্তর তথা দেশজুড়ে ছাত্র-যুবরা যেমন আন্দোলন করছে। তার সঙ্গে সংসদ থেকে রাজপথ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও জারি রাখবে প্রতিবাদ। কেন্দ্রকে কোণঠাসা করতে চলতে দেওয়া হবে না সংসদ। সভায় আলোচনায় হবে না যতক্ষণ না শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দিচ্ছেন। সেই মতো শুক্রবার সকালে সংসদ চত্বরে সোনিয়া-রাহুলের নেতৃত্বে চলে বিক্ষোভ। শামিল হন অখিলেশ যাদবও। স্লোগান ওঠে, ‘ইস্তফা দো, চান্দা চোর’। ‘যব যব মোদি ডরতা হ্যায়, পুলিশ কো আগে করতা হ্যায়’। 
একইসময়ে সংসদ চত্বরেই মকর দ্বারের সিঁড়িতে পাল্টা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে বিজেপি-এনডিএ’ও। বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীনের নেতৃত্বে। তাদের স্লোগান ‘রাহুল গান্ধী শরম করো’।‘ যুবায়োঁ কো মাৎ ভড়কাও’। ‘রাহুল গান্ধী হোঁশ মে আও’। সরকার এবং বিরোধী, উভয়পক্ষের স্লোগানে সংসদ চত্বরে সে এক অভিনব দৃশ্য। রাহুলকে দেখে বিজেপি সাংসদরা যত স্লোগান চড়ান, পাল্টা হাল ধরেন প্রিয়াঙ্কা। তিনি আরো জোরে দিয়ে বলতে থাকেন, ‘ ইস্তফা দো, ইস্তফা দো’। লোকসভার অন্দরে ওয়েলে নেমে বিরোধীদের প্রতিবাদে শোনা যায় স্লোগান, ‘মোদি-শাহ মাফি মাঙ্গো’। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ