Bartaman Logo
৩১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাজ্য অর্থ কমিশনের চেয়ারম্যান পদ ফাঁকা, পরিকাঠামো উন্নয়ন থমকে গ্রামবাংলায়

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে চালু হয়েছে রাজ্য ষষ্ঠ অর্থ কমিশন। সোমবার বিধানসভায় পঞ্চায়েত দপ্তরের প্রস্তাবিত ব্যয় বরাদ্দের বিবরণীতে এই অর্থ কমিশনের বরাদ্দ নিয়ে একটি খসড়া পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়।

রাজ্য অর্থ কমিশনের চেয়ারম্যান পদ ফাঁকা, পরিকাঠামো উন্নয়ন থমকে গ্রামবাংলায়
  • ২২ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে চালু হয়েছে রাজ্য ষষ্ঠ অর্থ কমিশন। সোমবার বিধানসভায় পঞ্চায়েত দপ্তরের প্রস্তাবিত ব্যয় বরাদ্দের বিবরণীতে এই অর্থ কমিশনের বরাদ্দ নিয়ে একটি খসড়া পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়। সেখানে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, রাজ্যের গ্রামীণ উন্নয়ন ও পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ষষ্ঠ রাজ্য অর্থ কমিশনের অধীনে মোট ২০৪৫.৬৬ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হবে। কিন্তু এই বরাদ্দ পঞ্চায়েতের তিনটি স্তরে কবে পৌঁছাবে, তা নিয়েই সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ, বর্তমানে রাজ্য অর্থ কমিশনের চেয়ারম্যান পদে কেউ নেই। এই পদ কবে পূরণ করা হবে, তা নিয়েও অন্ধকারে প্রশাসনিক মহল। সব মিলিয়ে হোঁচট খাচ্ছে ষষ্ঠ রাজ্য অর্থ কমিশনের টাকায় গ্রামীণ এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ।

Advertisement

জানা গিয়েছে, রাজ্য অর্থ কমিশনের এই অর্থ তিনটি ভাগে দেওয়া হবে। ৮০৮ কোটি টাকার ‘আনটায়েড গ্রান্ট’ (নিঃশর্ত তহবিল), ১২২৯ কোটি টাকার ‘টায়েড গ্রান্ট’ (শর্তাধীন তহবিল) এবং ৮.৭৮ কোটি টাকার ‘ইনসেনটিভ গ্রান্ট’-এর মাধ্যমে সড়ক, সেতু, কালভার্ট, পানীয় জল সরবরাহ, নিকাশি ব্যবস্থা, পার্ক, কমিউনিটি হলের মতো পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ টাকা পায় গ্রাম পঞ্চায়েত, ২০ শতাংশ করে পায় পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদ। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে পঞ্চম রাজ্য অর্থ কমিশনের অনুদানের ৯৩ শতাংশ খরচ করে ইতিমধ্যে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ হয়েছে। কিন্তু সূত্রের খবর, বিগত অর্থ কমিশনেরও শেষ কিস্তির প্রায় ৮৩৭ কোটি টাকা পায়নি কোনো গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদ। সেই অর্থ কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় শেষ কিস্তির টাকা ‘তামাদি’ হয়ে গিয়েছে বলেই মত অভিজ্ঞ আমলাদের। অর্থাৎ, গত অর্থবর্ষেই বড়ো অঙ্কের টাকায় পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে গ্রামবাংলা। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রাক্তন মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদিকে রাজ্য অর্থ কমিশনের চেয়ারম্যান করেছিল পূর্বতন সরকার। রাজ্যে পালাবদলের পর তিনি পদত্যাগ করায় গত দু’মাস ধরে ফাঁকা পড়ে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই পদ। 
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় ষোড়শ অর্থ কমিশন বাবদ চলতি অর্থবর্ষে ৩৬২৩ কোটি টাকা পাওয়ার কথা পশ্চিমবঙ্গের। এই কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশনের মেয়াদও শুরু হচ্ছে চলতি অর্থবর্ষ থেকে। আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে এই খাতের বরাদ্দ টাকায় কী কী কাজ হবে, তা পাঠাতে হবে কেন্দ্রকে। কিন্তু, রাজ্যে পালাবদলের কারণে অধিকাংশ গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান এবং সদস্যরা না আসায় সেই কাজ সময়ের মধ্যে শেষ হওয়া নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আবার কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশনের বরাদ্দের অন্যতম শর্ত হল রাজ্য অর্থ কমিশনের অবদান খতিয়ে দেখা। সেক্ষেত্রে কবে পুরোদমে রাজ্য অর্থ কমিশন কাজ শুরু করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের কর্তাব্যক্তিরা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ