Bartaman Logo
২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গড়িয়া ব্রহ্মপুরের নিভা পার্ক এক্সটেনশনের রাস্তা বেহাল, ডায়ালিসিস রোগীকে নিয়ে যেতে হচ্ছে কাদাপথেই, ঢুকতে নারাজ পুলকারও

ভূগর্ভস্থ নিকাশি নালার কাজ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তারপর রাস্তা আর মেরামত করা হয়নি। বর্ষায় ব্রহ্মপুরের নিভা পার্ক এক্সটেনশনে রাস্তার বেহাল দশা।

গড়িয়া ব্রহ্মপুরের নিভা পার্ক এক্সটেনশনের রাস্তা বেহাল, ডায়ালিসিস রোগীকে নিয়ে যেতে হচ্ছে কাদাপথেই, ঢুকতে নারাজ পুলকারও
  • ১১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভূগর্ভস্থ নিকাশি নালার কাজ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তারপর রাস্তা আর মেরামত করা হয়নি। বর্ষায় ব্রহ্মপুরের নিভা পার্ক এক্সটেনশনে রাস্তার বেহাল দশা। অভিযোগ, অবস্থা শোচনীয়। কাদায় ভরা রাস্তায় হাঁটাচলা তো দূর গাড়ি পর্যন্ত চলাচল করতে সমস্যায় পড়ছে। এই এলাকায় একাধিক ডায়ালিসিস রোগী বসবাস করেন। তাঁদের নিয়ে হাসপাতালে যেতে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয় পরিজনদের। পুরসভা জানিয়েছে, বর্ষায় রাস্তার কাজ করা সম্ভব নয়। আপাতত ইট বিছিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে। 

Advertisement

গড়িয়া অঞ্চলের ১১১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত ব্রহ্মপুরের নিভা পার্ক এক্সটেনশন। ওই অঞ্চলে প্রায় ৮৫টি বাড়ি রয়েছে। এক সময় গোটা অঞ্চল গেট দিয়ে ঘেরা হাউসিং সোসাইটি বা গ্রেটার কমিউনিটির মতো ছিল। কিন্তু ভূগর্ভস্থ নিকাশি নালার পর্যাপ্ত পরিকাঠামো না থাকায় জল জমত। ব্যক্তিগত পরিসরে পুরসভা নিকাশি নালা বানাতে পারে না। এই পরিস্থিতিতে এই সোসাইটির বাসিন্দারা পুরসভার সঙ্গে বৈঠক করেন। তাঁদের গেট খুলে দিয়ে হাউসিং সোসাইটির বদলে পাড়ায় রূপান্তরিত হয় অঞ্চলে। তারপর সেখানে বাড়ি বাড়ি পুরসভার পরিশুদ্ধ পানীয় জলের পাইপলাইন বসানো হয়। সেই সঙ্গে সম্প্রতি ভূগর্ভস্থ নিকাশি পাইপলাইন পেতে নতুন ড্রেনেজ সিস্টেম তৈরি করা হয়। কিন্তু তারপর পাড়ার ভিতরের রাস্তা বানানো হয়নি বলে অভিযোগ। পুরসভা ইট পেতে রাস্তা চলাচলের যোগ্য করার চেষ্টা করে। কিন্তু বর্ষা আসার পর রাস্তার কঙ্কালসার চেহারা বেরিয়ে পড়ে। এই রাস্তা ঋষি রাজ নারায়ণ রোডে গিয়ে মিশেছে। স্থানীয় বাসিন্দা সৌমশ্রী ভট্টাচার্য ভাদুড়ি বলেন, ‘বাচ্চা-বুড়ো সবাই ভুগছে। সপ্তাহে তিনদিন শ্বশুরমশাইকে ডায়ালিসিস করাতে নিয়ে যেতে হয়। কেউ ওই রাস্তায় আসতে চান না। বাচ্চাদের পুলকার রাস্তায় ঢোকে না। জলকাদা পেরিয়ে মেইন রাস্তায় যেতে হয়। অন্তত অস্থায়ীভাবে রাস্তাটি করে দেওয়া হোক যাতে চলার যোগ্য হয়।’ স্থানীয় বাসিন্দা মাখনলাল রায় বলেন, ‘রাস্তার অবস্থা খারাপ। আমরা পুরসভার সঙ্গে কথা বলেছি। মাসখানেক হল ভূগর্ভস্থ নিকাশি নালার কাজ শেষ হয়েছে। আগে প্রায় হাঁটু জল জমে যেত। এ বছর বর্ষায় জল জমেনি। পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা জানিয়েছেন, মাটি যত বসবে ততই নতুন রাস্তা টেকসই হবে। তাই ওঁরা এখনও নতুন রাস্তা বানাননি। ফেলে রেখেছেন। কিছু কিছু জায়গায় ইট পেতেছিলেন। কিন্তু বৃষ্টি হওয়ায় ইট আরও বসে গিয়ে কাদা প্যাচপেচে অবস্থা। শুনছি, পুজোর আগে নতুন রাস্তা হবে।’ 
পুরসভা বক্তব্য, এই ধরনের কাজে মাটি বসার জন্য বা সেটেল হওয়ার জন্য অনেকদিন সময় দেওয়া প্রয়োজন। তার মধ্যে বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। এখন রাস্তা তৈরি করলে তা আবার খারাপ হয়ে যাবে। এই মুহূর্তে নতুন রাস্তা বানানো সম্ভব নয়। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ