Bartaman Logo
২১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৪৪০ কোটি টাকা সহ তৃণমূলের তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’

তৃণমূলের তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৪৪০ কোটি টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে। কাটমানির অভিযোগে এই পদক্ষেপ। বিস্তারিত জানুন।

৪৪০ কোটি টাকা সহ তৃণমূলের তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’
  • ২০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বেসরকারি ব্যাংকে থাকা তৃণমূলের তিনটি অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ করা হল। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিধাননগর সাইবার সেলকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই তিনটি অ্যাকাউন্টে রয়েছে মোট ৪৪০ কোটি টাকা। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের বিদ্রোহী ব্লকের ১০ জন বিধায়ক শুক্রবার বিধাননগর সাইবার ক্রাইম পুলিশ স্টেশনে তাঁরা চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন, ওই ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলির যাবতীয় লেনদেন বন্ধ রাখা হোক। অ্যাকাউন্টে কাটমানি এবং কালো টাকা রয়েছে বলেই তাঁদের আশঙ্কা। বিদ্রোহী বিধায়কদের এই আশঙ্কার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তৃণমূলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ হওয়ার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সূত্রের খবর, সাইবার সেলের তরফে বার্তা পাওয়ার পরই অ্যাকাউন্টগুলি খতিয়ে দেখে তা ‘ফ্রিজ’ করার সিদ্ধান্ত নেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘আমরা পুলিশের কাছে যে অভিযোগ জানিয়েছিলাম, তার প্রেক্ষিতেই তিনটি অ্যাকাউন্ট  ফ্রিজ করা হয়েছে। প্রশাসনকে ধন্যবাদ।’ প্রসঙ্গত, নিজেকে তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ দাবি করে বৃহস্পতিবারই ব্যাংকে চিঠি দিয়ে অ্যাকাউন্টগুলি বন্ধ করার দাবি জানিয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস। সেই প্রসঙ্গে কালীঘাট তৃণমূল জানিয়েছিল, অরূপ নন, দলের কোষাধ্যক্ষ শুভাশিস চক্রবর্তী। 

Advertisement

অরূপের চিঠির পর এদিন সামনে আসে তৃণমূলের ১০ বিদ্রোহী বিধায়কের ‘পত্রাঘাত’। তাঁরা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের বিধায়ক বলে পরিচিত। বিধাননগর সাইবার ক্রাইম পুলিশ স্টেশনে চিঠি লিখে তাঁরা জানান, তৃণমূলের তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কাটমানি এবং অবৈধ টাকা প্রবেশ করেছে বলে তাঁদের আশঙ্কা। তাই এই অ্যাকাউন্টগুলি বন্ধ রাখা হোক। দলীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিয়ে তৃণমূলের চাপ ক্রমেই বাড়ছিল। রাতে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ হওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার পর কালীঘাট তৃণমূল প্রবল অস্বস্তিতে পড়ল বলে মনে করা হচ্ছে। 
এ প্রসঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ হওয়ার বিষয়টি শুনেছি। অন্যদিকে, দলীয় তহবিলের টাকায় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চার্টার্ড বিমানে সফর করেছেন কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন কুণালবাবু। তাঁর বক্তব্য, অভিষেক যদি নিজের টাকায় চার্টার্ড বিমানে যান কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তির বিমানের একটি সিটে বসেন, তাতে কিছু বলার নেই। কিন্তু দলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের টাকায় যদি চার্টার্ড বিমানে সফর করে থাকেন, সেটা সমর্থন করি না। উত্তরে অভিষেক বলেন, কুণাল ঘোষ আমার বিরুদ্ধে কোনো কথা বললেও আমি তাঁর বিরুদ্ধে কিছু বলব না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ