Bartaman Logo
৩১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রোমিওদের শায়েস্তা করতে কঠোর পদক্ষেপে পশ্চিম মেদিনীপুর পুলিশ

স্কুল ছুটির পর গেটের কাছে গিয়ে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা। বারবার হর্ন বাজানো। এসব এবার বন্ধ হতে চলেছে পশ্চিম মেদিনীপুরে।

রোমিওদের শায়েস্তা করতে কঠোর পদক্ষেপে পশ্চিম মেদিনীপুর পুলিশ
  • ২১ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: বাইক নিয়ে রোমিও-গিরি! স্কুল ছুটির পর গেটের কাছে গিয়ে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করা। বারবার হর্ন বাজানো। এসব এবার বন্ধ হতে চলেছে পশ্চিম মেদিনীপুরে। ইভটিজারদের এমনই কড়া বার্তা দিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা। খড়্গপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসপি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি আজকে যারা ইভটিজিং বা এইসব করে, ভবিষ্যতে তারাই ধর্ষণের মতো বড়োসড়ো অপরাধ ঘটায়। তাই গোড়াতেই এটা শেষ করতে চাই আমরা। স্কুল ছুটির সময়ে মেয়েদের স্কুলগুলির সামনে পুলিশের কড়া নজরদারি থাকবে। তিনি এও বলেন, মেয়েদের স্বপ্ন-পূরণের পথে কোনো বাধাই আমি আসতে দেব না। আমরা ইতিমধ্যেই জেলার বাজার এলাকাগুলিতে সন্ধ্যার পর মহিলা পুলিশের বিশেষ টিম মোতায়েন থাকছে। এবার থেকে স্কুল শুরু আর শেষের সময়েও পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হবে।

Advertisement

উল্লেখ্য, মেদিনীপুর, খড়্গপুরের মতো শহরাঞ্চলের বিভিন্ন স্কুলের সামনে ছুটির পর রোমিওদের দেখতে পাওয়া যায়। বাইক নিয়ে তারা নানারকম কায়দা-কসরত করে। বারবার হর্ন বাজায়। ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করে বা কটূক্তি ছুঁড়ে দেয়। এসব যে আর বরদাস্ত করা হবে না, তা স্পষ্ট করেছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের এসপি। সেইসঙ্গেই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং হেলমেটবিহীন বাইক চালকদের বিরুদ্ধেও উল্টোরথের পর থেকে কড়া অভিযান শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। এজন্য মেদিনীপুর-খড়্গপুর সহ জেলার বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। নিরাপত্তার স্বার্থে ১৮ বছরের নীচে ছাত্রছাত্রীদের বাইক বা স্কুটি নিয়ে স্কুলে আসা বন্ধ করতে চাইছে জেলা পুলিশ। সোমবার বর্তমানকে এসপি পাপিয়া সুলতানা জানান, আমরা জেলার ডিআই (সেকেন্ডারি)-কে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ পাঠাব। তিনি স্কুল কর্তৃপক্ষগুলিকে সতর্ক করবেন। তাতেও কাজ না হলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। শব্দ-দূষণ রোধে বিকট শব্দের সাইলেন্সার সহ বাইকের কৃত্রিম সাজসজ্জার বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন। এদিন পশ্চিম মেদিনীপুরের ডিআই (সেকেন্ডারি) অমিত রায় বলেন, ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এসপি ম্যাডাম যে উদ্যোগ নিতে চাইছেন, স্বাগত জানাচ্ছি। ১৮ বছরের নীচে বা লাইসেন্স ছাড়া বাইক, স্কুটি চালানো আইনত অপরাধ। অভিভাবকদের সচেতন হতে বলব। পুলিশ বা প্রশাসনের তরফে কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশিকা এলে, আমরা সঙ্গে সঙ্গে তা স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেব। 
 খড়্গপুরে সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ