গাজা সিটি: যুদ্ধ মানে শত্রু শত্রু খেলা, যুদ্ধ মানে আমার প্রতি তোমার অবহেলা!
গাজা সিটি: যুদ্ধ মানে শত্রু শত্রু খেলা, যুদ্ধ মানে আমার প্রতি তোমার অবহেলা!
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা সেই অবহেলারই মূর্ত প্রতীক। ঘনবসতি পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। ঘর হারিয়েছেন মানুষ। গৃহহারাদের ঠাঁই মিলেছে শরণার্থী শিবিরে। পড়াশোনার বালাই নেই। অকুলান খাদ্য-বস্ত্র, অভাব বিদ্যুতেরও। চারপাশে শুধুই কষ্ট, আর কষ্ট। মনের মধ্যে দগদগে ক্ষত। বর্তমান অসহায়তায় ঘেরা, ভবিষ্যৎ অন্ধকারে। গত অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি চললেও গাজার প্রবেশপথ এখনও ইজরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। ফলে ইচ্ছা থাকলেও বেরতে পারা যায় না। বাইরে থেকে কেউ আসতেও পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে এক ঝলক টাটকা বাতাস হয়ে উঠছে বিশ্বকাপ ফুটবল। টিভির পর্দায় খেলা দেখে বাস্তব ভোলার চেষ্টা করছেন মানুষ। বিভিন্ন জায়গায় গজিয়ে উঠেছে ছোট ছোট অস্থায়ী ক্যাফে। সেখানেই ভিড় জমাচ্ছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
সদ্য বেলজিয়াম ও মিশরের ম্যাচে যেমন মহম্মদ সালাহর গোলের জন্য চলেছে প্রার্থনা। লোডশেডিংও সেই উন্মাদনায় বাধা হয়ে উঠতে পারেনি। বিদ্যুত ফেরার অপেক্ষায় ধৈর্যের পরিচয় রেখেছেন গাজার বাসিন্দারা। কোথাও কোথাও তো বালির উপর প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে খেলা দেখেছেন প্রবীণ থেকে নবীন। সালাহর দল জিততে না পারলেও উচ্ছ্বাস কমেনি। বন্ধুর কাঁধে চড়ে কেউ কেউ মেতেছেন উৎসবে। কেউ আবার উড়িয়েছেন মিশরের পতাকা।
প্যালেস্তাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মুস্তাফা সিয়াম বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ গাজার মানুষের কাছে কোনো সাধারণ বিষয় নয়। ফুটবলপ্রেমীরা চেষ্টা করবেন খেলা দেখে নিজেদের দুঃখ-কষ্ট কিছুক্ষণের জন্য ভুলে থাকবার।’ এক অনুরাগী প্রশ্ন তুলেছেন, ‘ছেলে থেকে বুড়ো, সকলেরই প্রিয় ফুটবল। তাই সুযোগ পেলেই আমরা বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখছি। কিন্তু এই মেগা আসরের কোনো ম্যাচ কি স্টেডিয়ামের ভিতরে বসে দেখার সৌভাগ্য আমাদের কখনও হবে? এটা প্রত্যেক ফুটবলপ্রেমীরই স্বপ্ন। কিন্তু গাজায় সেই স্বপ্ন দেখাও উচিত নয়।’
জীবনের কঠোর বাস্তবতাকে এড়িয়ে যেতে অবশ্য ফুটবলই হয়ে উঠছে একমাত্র মাধ্যম। যুদ্ধ গোটা বিশ্বের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি যতই বদলাক, গাজাবাসীদের ফুটবলপ্রেম থেকে গিয়েছে অম্লান।